Naya Diganta

জি কে শামীমের অবিশ্বাস্য উত্থান

জি কে শামীম
জি কে শামীম

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও) থেকে গত ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন বিপুল পরিমাণ টাকা, এফডিআর আর মাদক অস্ত্রসহ গ্রেফতার যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম)। ওই নির্বাচনের আগে সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছিল জি কে শামীমের বর্ণাঢ্য ব্যানার।

তবে ওই আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত হোসেন খোকা প্রার্থী হওয়ায় আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। লিয়াকত হোসেন খোকা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁও আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সোনারগাঁওয়ে বেশি বেশি যাতায়াত শুরু করেন জি কে শামীম। তখনই তার নাম শোনেন এলাকার লোকজন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নৌকার প্রার্থী হতে পারেননি।

এ দিকে নৌকার প্রার্থী হতে না পারলেও তিনি জেলা আওয়ামী লীগের পদ বাগিয়ে নিতে চেষ্টাও করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি হিসেবে তার নাম রাখা হয়।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, জি কে শামীম আওয়ামী লীগের কেউ নন। আমার কমিটির কোনো পদে তিনি নেই। তাকে আমারা চিনি না। তবে জি কে শামীমের হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ায় অনেকে হতবাক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীম সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো: আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন।

সনমান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন তারা। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম। শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক।

সনমান্দি ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করা শর্তে নয়া দিগন্তকে জানান, জি কে শামীমকে আমরা গত জাতীয় নির্বাচনের সময় চিনেছি। তিনি এখানে এমপি হতে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে এ আগে এলাকায় তার যাতায়াত খুবই কম ছিল।