Naya Diganta
‘শেখ হাসিনা দেশে না আসলে এই দেশের মানুষ হারিয়ে যেতো’

শেখ হাসিনার কোনো বিত্ত বৈভবের মোহ নেই : অর্থমন্ত্রী

‘শেখ হাসিনা দেশে না আসলে এই দেশের মানুষ হারিয়ে যেতো’
শেখ হাসিনার কোনো বিত্ত বৈভবের মোহ নেই : অর্থমন্ত্রী

শেখ হাসিনার কোন বিত্ত বৈভবের মোহ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না আসলে আমরা হারিয়ে যেতাম। এই দেশের মানুষ হারিয়ে যেতো। জননেত্রী থেকে এখন বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

শনিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার অসাম্প্রদায়িক, উদার, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে দিয়েছে এক আধুনিক ও অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি। বাঙালির স্বপ্নসারথি, উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিত্ত বৈভবের প্রতি কোনো মোহ নেই। প্রধানমন্ত্রীর একটাই মোহ দেশের সকল পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করা, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা বিনির্মান করা। একুশ শতকের অভিযাত্রায় দিনবদল ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার একজন কান্ডারি যিনি সেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ জন্মদিন, দিনটি তাই অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দিন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা পেরিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে একজন প্রশংসনীয় এবং অনুকরনীয় রাষ্ট্রনায়ক। গতকালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক পুরস্কার দিয়েছে ইউনিসেফ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই পুরস্কার তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্বের সব শিশু, তরুণসহ বাংলাদেশের জনগণকে। আজকে তিনি বিশ্ব নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ট ট্রাম্প, ভারতের নরেন্দ মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো অ্যাবেকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রীকেও একইভাবে মূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে না আসলে আমরা হারিয়ে যেতাম, এই দেশের মানুষ হারিয়ে যেতো।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলো। ভিডিও চিত্রটি যদি দেখেন তাহলে বুঝবেন স্বয়ং আল্লাহ রাববুল আলামিন নিজে হাতে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেছেন। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী যাতে দেশের মানুষকে আরো বেশি সেবা দিতে পারেন সেই জন্য উনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন আল্লাহ নিজেই। আমরা সবাই মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবো আল্লাহ যেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আরো দীর্ঘায়ু করেন। তিনি আরো বেশি বেশি দেশের মানুষকে সেবা দিতে পারেন।

দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেক পরিবারে একটা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ২০২৭ সালে বাংলাদেশে বিশ্বের মধ্যে ২৬ তম অর্থনীতির দেশ হবে। ২০৩০ সালে প্রত্যেক পরিবারে একজন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, দারিদ্রতা শূন্যের কৌঠায় নেমে আসার ক্ষেত্রে আমরা দৃঢ় আশাবাদী। এসময় মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবো। এই অর্জনের ভিত তৈরী করে দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সেই ভিত থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ২১ ভাগ দারিদ্রতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দারিদ্রতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আশা করা যায় ২০৩০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র মানুষ খুঁজে পাবেন না। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এখন অনেক দেশের সামনে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসাবে অনুসুরন করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।