Naya Diganta

আবরার হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১৩ নভেম্বর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

একই আদালতে  গ্রেফতার হওয়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ নেতাকর্মীর পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

রিমান্ড যাওয়া আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল (বুয়েটের সিই বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই, ১৪তম ব্যাচ ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক) অনিক সরকার, (সিই, ১৫তম ব্যাচ এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক), মেহেদী হাসান রবিন (সিই, ১৫তম ব্যাচ ও সাংগঠনিক সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ ও উপসমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক) মোজাহিদুল রহমান (ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ ও বুয়েট ছাত্রলীগ সদস্য), খোন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর (এমই বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগ কর্মী), মুনতাসির আল জেমি (এমই, ১৭তম ব্যাচ) ও ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (এমই, ১৫তম ব্যাচ ও ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক)। এদের মধ্যে প্রথম ৯ জনের নাম এজাহারে থাকলেও শেষের ইসতিয়াকের নাম এজাহারে নেই।

মঙ্গলবার বিকালে আদালতে আসামিদের হাজির করে প্রত্যেকের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন হাওলাদার আসামিদের রিমান্ডের এ আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে শেরেবাংলা হলের তার রুম থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায়। ৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমের ভেতর নিয়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প-লাঠিসোটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর মারধর করে।

মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে আবরারের লাশ ফেলে রাখে। পরে কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা মারধর করে আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত করে। মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা বলে আসামিদের ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেফতারের লক্ষে আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এ দিন দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিদের হাতকড়া পরিয়ে আদালতের ডকে (আসামিদের জন্য নির্ধারিত স্থান) তোলা হয়।

এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা উচ্চৈস্বরে আসামিদের বিভিন্ন গালাগাল করেন। তারা বলেন, এরা ছাত্র নামের কলঙ্ক। তাদের যেন কেউ আইনি সহায়তা না করেন। বিকাল ৩টা ২ মিনিটের দিকে এজলাসে বিচারক আসলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, মামলাটি শুধু দেশেই নয়, বর্তমানে সারা বিশ্বে আলোচিত। অত্যন্ত মেধাবী একটি ছেলে (আবরার) বুয়েটে গিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে। কিন্তু তার সহপাঠীরাই তাকে হত্যা করল। আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আর হত্যা করে আসামিরা কীভাবে বীরদর্পে লাশ ফেলে দিয়েছে তা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এখানে সংগঠনের (ছাত্রলীগ) কোনো দোষ নেই। দোষ ব্যক্তির, যারা এ অন্যায় কাজ করেছেন। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে চার আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করা হয়। আসামি মুজাহিদুলের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদা খাতুন শিল্পী ও শামীমুর রহমান শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, দেশবাসী চায় এ ঘটনার বিচার হোক। তবে আসামি মুজাহিদুল ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি পরিস্থিতির শিকার।

আসামির ইফতি মোশাররফ সকালের পক্ষে আইনজীবী আমিরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। খোন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীরের আইনজীবী আবেদুর রহমান বলেন, আসামিকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। কিন্তু তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এ ছাড়া গ্রেফতার অপর ছয় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকাল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন। এ দিন আদালত চত্বরে আসামিদের আত্মীয়-স্বজনকেও দেখা গেছে।

আদালত সূত্র জানায়, আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আরও অজ্ঞাতনামাদেরও আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, আবরার ফাহাদ (২২) বুয়েটের ইইই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

সে বুয়েটের শেরেবাংলা আবাসিক হলের নিচ তলার ১০১১ নম্বর রুমে থেকে লেখাপড়া করতেন। ওই ছাত্রবাসের কিছু ছাত্র আবরারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে হত্যা করে।