Naya Diganta

আমি অনেকটা অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছি : ওবায়দুল কাদের

আমি অনেকটা অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছি : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি তো আসলে মরেই গিয়েছিলাম। অনেকটা অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছি। দেশের জন্য আরো কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি পদ্মাসেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মতো কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহর ইচ্ছা হলে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজের সমাপ্ত হয়তো দেখে যেতে পারবো। এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প। এই কাজটি যত দ্রুত শেষ করা যায়, সে ব্যাপারে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই।

পদ্মাসেতুর অগ্রগতির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮৪ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। মূল সেতুর সব পিলারের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ সমাপ্ত। ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩২টি পিলারের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। চীন থেকে মাওয়ায় এখন পর্যন্ত ৩১টি স্প্যান এসেছে। এর মধ্যে ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে পিলারের ওপর। ১৫তম স্প্যান জাজিরা প্রান্তে ২৩-২৪ নম্বর পিলারের ওপর বাসানোর কার্যক্রম চলছে। এছাড়া চারটি স্প্যান কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে ও ১০টি স্প্যান পদ্মার চর এলাকায় আছে স্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রেলওয়ে স্ল্যাবের জন্য মোট দুই হাজার ৯৫৯টি প্রি-কাস্ট স্ল্যাবের প্রয়োজন হবে। এরমধ্যে দুই হাজার ৮৯১টি স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নভেম্বর মাসের দিকে বাকি স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হবে। রেলওয়ে স্ল্যাব ৩৬১টি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের পাইলিং পিয়ার ক্যাপের কাজ শেষ। বর্তমানে গার্ডার ও রেলওয়ে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। মাওয়া ও জাজিরায় ভায়াডাক্টের জন্য মোট ৪৩৮টি সুপার টি গার্ডার প্রয়োজন হবে। এরমধ্যে ১৫৫টি গার্ডারের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া ৫৬টি জাজিরা প্রান্তে বসানো হয়েছে। রেলওয়ে ভায়াডাক্টের জন্য মোট ৮৪টি আই গার্ডারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই গার্ডারের মধ্যে জাজিরায় ৪২টি স্থাপন করা হয়েছে। মূল সেতুর কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ২০১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ ও আর্থিক অগ্রগতি ৫০.৪০ শতাংশ। মোট ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন কাজের মধ্যে ০৬.৬০ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য ৮৭০৭.৮১ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ব্যয় চার হাজার ৩৮৮.৪৬ কোটি টাকা। সংযোগ সড়কের কাজের অগ্রগতি শতভাগ সম্পন্ন। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এই সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম (বার) পদ্মাসেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের প্রমুখ।