Naya Diganta

হোয়াটসঅ্যাপে কর আরোপের জেরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল লেবানন

বৈরুতের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও পতাকা হাতে লেবাননিদের বিক্ষোভ

লেবাননে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে নতুন কর আরোপের সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি দুর্নীতি, নিত্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীরা দেশটিতে বর্তমান রাজনৈতিক অবকাঠামোর পরিবর্তন চায়।

তাদের ভাষ্য, লেবাননের ভবিষ্যৎ স্বার্থে গতানুগতিক রাজনৈতিক দলগুলোর অন্ধ লেজুরবৃত্তি বন্ধ হওয়া দরকার। শুক্রবার আন্দোলনকারীরা বৈরুতে সরকারি প্রধান কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয়। এদিকে শুক্রবার ভোরে রাজধানী বৈরুতের কাছে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই বিদেশী শ্রমিক মারা গেছেন।

অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

রেড ক্রস জানায়, সংঘর্ষে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। এ ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর ৬০ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা উত্তর, দক্ষিণ ও বেকা উপত্যকার অন্যান্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সরকারের নির্দেশে স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

চলমান অস্থিরতার কারণে প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হরিরি শুক্রবার ২০২০ সালের খসড়া বাজেটের বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠক বাতিল করেন। লেবাননের গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, তিনি এর পরিবর্তে প্রতিবাদের বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

ভোর থেকেই আন্দোলনকারীরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নামে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার পাশে বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলে এবং টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ বছরের অন্যতম বড় এই বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিওকলের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তকে ঘিরে।
যদিও প্রতিবাদের মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। এদিন সরকারের পতন চেয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়। আবদুল্লাহ নামে এক বিক্ষোভকারী জানায়, ‘আমরা শুধু হোয়াটসঅ্যাপকে নিয়ে রাস্তায় নামিনি। জ্বালানি, রুটি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ সব কিছুর বিরুদ্ধে আমাদের এই বিক্ষোভ।’

আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, অনেকের মনের প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র এক বছর আগে ক্ষমতায় আসা এ সরকার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে তো? দেশের অন্যতম প্রধান রাজনীতিবিদ ও প্রগ্রেসিভ সোশালিস্ট পার্টির নেতা বলেন, আমরা একটি বড় দুর্দশায় পড়েছি।

তিনি প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে বলেছেন, একসাথে পদত্যাগ করাকেই আমি প্রাধান্য দিব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়া আল হাসান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে সরকারের পতন হলে রাষ্ট্র নিজেই ভেঙে পড়তে পারে।

এর আগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় টেলিকম মন্ত্রী মোহাম্মদ চৌচাইর প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধের ভিত্তিতে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তার এ ঘোষণা ছিল খুবই সামান্য এবং সিদ্ধান্ত দিতে তিনি দেরি করে ফেলেছিলেন।

লেবাননের বর্তমান সঙ্কটের জন্য অনেকেই কিছুসংখ্যক সাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে থাকেন যারা ১৯৯০ সালে ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর থেকে দেশটিকে শাসন করেছেন। রয়টার্স ও আলজাজিরা।