১২ ডিসেম্বর ২০১৯

মজার বিষয় আইওটি

মজার বিষয় আইওটি - ছবি : সংগৃহীত

ছোটবেলায় পড়া কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা মনে পড়ে- ‘বিশ্ব জগত দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে’। কবির ওই অবদমিত ইচ্ছা আজ অনেকটাই সত্যি হয়েছে। আজকের পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো “ইন্টারনেট অফ থিংস”কে ঘিরে। যার সংক্ষিপ্ত রূপ হলো আইওটি।

ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) ধারণাটির ব্যাপক প্রচলন বেশি দিন হয়নি। ২০১৬ সালে থেকে পরিচিত হতে থাকে শব্দটি। তবে এই ধারণার উদ্ভব বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবদিদের মাঝে ঘটেছে সেই অষ্টাদশ (১৮০০) শতকেই। এর পর থেকে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছিলেন এমন কোনো যন্ত্র আবিস্কার করতে, যা মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম। এর ফলেই ১৮৩০ ও ১৮৪০-এর দশকে র্সবপ্রথম টেলিগ্রাফ আবিস্কার হয়। আর টেলিগ্রাফের উন্নত সংস্করণ হিসেবে পরে সামনে আসে “ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফ”। তারপরই প্রথম প্রথম রেডিও ওয়েভ ট্রান্সমিশন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষজ্ঞদের হিসেব মতে, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ বিলিয়ন অবজেক্ট আইওটির অন্তর্ভুক্ত হবে। আইওটরি অগ্রগতি নিয়ে একটা ছোট্ট জরিপ করা হয়েছে। সেই জরিপের তথ্যনুযায়ী তোমরা জানতে পারবে কীভাবে প্রতিবছর চমকপ্রদভাবে আইওটির ব্যবহার বেড়েই চলছে।

আইওটি কী ?
ইন্টারনট অফ থিংস (আইওটি) কী জিনিস, এটি দিয়ে কী করা হয়- তা কি জানো? আসলে তোমরা এটাকে নিয়ে যা ভাবতেছো তা নয়। আইওটি হলো এমন একটা নেটওয়ার্ক যেখানে ভৌত জিনিসপত্র, যেমন যানবহন, গৃহস্থালির জিনিসপত্র, কৃষি কাজের যন্ত্র ইত্যাদি একটা সিস্টেমেই মাধ্যেই থাকে।

তাৎক্ষণিক তোমার মাথায় চিন্তা আসতে পারে যে তাহলে কয়টা বাস আর কয়টা ফ্যান লাইট একত্রে রাখলেই সেটা হয়ে যাবে আইওটি! না জিনিসগুলো বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সফটওয়্যার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে এবং একটা বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তথ্য আদান প্রদান করে।

দৃশ্যপট ১ : ধরো, তোমাদের বাসায় তোমরা দুই ভাই বোন এবং তোমার মা-বাবা আছে। বিকালে স্কুল থেকে আসার পর ক্লান্তি অনুভব করল। কিন্তু তোমার ইচ্ছা করে না যে বাসার ফ্যান লাইটের সুইচ দিতে। এদিকে তোমার ছোটো বোন তোমাদের বাসার ফ্রিজ খুলে চকলেট নিয়ে দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেছে।
ফ্যান চালাতে হবে, ফ্রিজের দরজাও বন্ধ করতে হবে। কীভাবে কাজগুলো করা যায় বিনা পরিশ্রমে। এই কাজগুলো অতি সহজে করার জন্য একটা মাত্র সমাধান করতে পারে আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংস। কী! তোমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে তাই তো! প্রযুক্তির এই যুগে দাঁড়িয়ে এটা এখন আর স্বপ্ন নয় বরং সত্যি! এই সবই তুমি পেতে পারবে ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) ব্যবস্থায়।

দৃশ্যপট-২ : একুশ শতকের এই সময়ে এসে তোমরা সবাই স্মার্ট ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, স্মার্ট ব্যান্ড আরো অনেক স্মার্ট ডিভাইসের কথা শুনতে পাবে। আচ্ছা বলো তো, তোমরা যে শহরে থাকো সেই গোটা শহরটা যদি হয়ে যায় স্মার্ট সিটি! কল্পনা করো তো, এমন একটা শহরে থাকো যেখানে দিনের বেলায় আলো না থাকলেই অটোম্যাটিকেলি শহরের রাস্তায় লাইট অন হয়ে যাবে। আবার মনে কর তুমি সকাল ৮ টায় স্কুলে যাওয়ার জন্য রাওনা হয়েছো। এক দিন সকালে গুগল ম্যাপস বা জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)-এর মাধ্যমে তুমি জানতে পারবে যে তোমরা যে রুটে যাতায়াত করো সেখানে জ্যাম, আর তার সাথে এটাও জানতে পারবে যে অন্য কোনো রাস্তা ধরে তুমি দ্রুত স্কুলে পোছাতে পারবে। তুমি চিন্তা করো তো, এমন একটা শহরে যেখানে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা না ফেললে সাথে সাথে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তোমাকে সর্তক করে দেয়া হবে। ধরা যাক, কোনো একটা রাস্তায় দুর্ঘটনা হয়েছে। কয়েক মুহূর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এম্বুল্যান্স সব হাজি,র অথচ তাদেরকে কোনো ফোন করে ডেকে আনা হয়নি, এসেছে নিজের গরজ। তুমি কী ভাবছো? এ তো অসম্ভব! না! আইওটি এইসব কিছুই আমাদের সম্ভব করে দিছে।

দৃশ্যপট ৩ : তুমি একজন মানুষ- তোমার বাসায় বারান্দায় ফুলের বাগান কারার খুব শখ। তোমার পড়ার টেবিলে বসে ফুলের মধুর গন্ধ আসবে, খুশি মন নিয়ে পড়তে পারবে। কিন্তু স্কুলে যাওয়া, পড়াশুনার ব্যস্ততার জন্য এই সব কিছুই সময় কী করা সম্ভব! যত্ন করবে কে? তাহলে কি তোমার শখের বাগান করা আর হবে না? হবে না কেন নিশ্চয়ই হবে। তোমার জন্য আছে অবটো ইরিগেশন সিস্টেম। যেখানে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, সফটওয়্যার নিজেরাই বুঝবে কখন তোমার শখের ফুল গাছের পানি দরকার, কখন দরকার সার। কী মজার ব্যাপারগুলো না! আইওটিকে ব্যবহার করে এরকম আরো অনেকে মজার মজার কাজ করা যায়।


আরো সংবাদ