১৬ জুন ২০১৯

নির্বাচনে বিজয়কে মিরাকল বললেন মরিসন

-

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন মিরাকল। অলৌকিক ঘটনা। স্কট মরিসনও বলছেন মিরাকল। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নির্বাচনে সত্যিই যেন অলৌকিক এক ঘটনা ঘটে গেছে। কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি, সেখানে নতুন করে নির্বাচিত হবে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ক্ষমতাসীন জোট।
কিন্তু তাই হতে যাচ্ছে এমনটা আন্দাজ করতে পেরে স্বয়ং স্কট মরিসনই বলে দিয়েছেন, তিনি সব সময়ই মিরাকলে বিশ্বাসী। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার ক্ষমতাসীন লিবারেল ন্যাশনাল কোয়ালিশন যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি এ মন্তব্য করেন। অন্য দিকে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা বিল শর্টেন পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে বুথফেরত জরিপ বলেছিল, ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হবে লেবার পার্টি। এর পরই চূড়ান্ত ফল আসা শুরু হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত ফল পেতে আরো দেরি হতে পারে। এরই মধ্যে মোট শতকরা ৭০ ভাগের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে। তাতে স্কট মরিসনের কোয়ালিশন বিজয়ী হয়েছে অথবা এগিয়ে আছে ৭৪ আসনে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৭৬ আসন। অন্য দিকে লেবার পার্টি জয়ী হয়েছে অথবা এগিয়ে আছে ৬৬ আসনে। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে অর্ধেকের বেশি আসনে ভোট হয়।
এবারের নির্বাচনের জন্য এক কোটি ৬৪ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হয়। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর লেবার নেতা শর্টেন দলের সদস্যদের বলেছেন, ‘তার দল আগামী সরকার গঠন করতে পারছে না, তা নিশ্চিত হয়ে গেছে।’ তিনি মরিসনকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাবেন বলে জানান। বলেন, লেবার নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচন দাবি করবেন না। দেশটির ১৫১টি আসনে লিবারেল পার্টি জয় পেয়েছে ৪১টি আসনে। আর ন্যাশনাল পার্টি জিতেছে ৩৩টি আসনে। গোটা অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৪৭টি নির্বাচনী আসনের ৩১টিতেই জয় পেয়েছে লিবারেল পার্টি। এ ছাড়া বিরোধী দলের সমর্থক বেশি এমন ৫টি আসনেও আশাতীত জয়লাভ করে দলটি। দেশটির অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায় ৫টি আসনে। দেশটির অন্যতম রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল লিবারেল। অন্য দিকে জাতীয় নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ভিক্টোরিয়ায় ২ শতাংশ বেশি ভোট আসে লেবারের পক্ষে। দেশটির ৭ হাজার ভোট কেন্দ্রে আজ প্রায় দেড় কোটি ভোটার ভোট দেন। নির্বাচনের আগে প্রি-ভোট দেন প্রায় ৪৭ লাখ ভোটার। এই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন স্কট মরিসন। গত বছর দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন তিনি। তার নির্বাচনী এলাকা নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের কুক থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তিনি। একই দৃশ্য দেখা গেছে বিরোধী দলের প্রধান বিল শর্টেনের নির্বাচনী এলাকাতেও। তবে লিবারেলের অন্যতম নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। তার আসন থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলি স্ট্যাগাল।


আরো সংবাদ