২৩ আগস্ট ২০১৯

বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়ে হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের বিক্ষোভ

-

ইউরেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলবর্তী দেশ হংকংয়ে গত দশ সপ্তাহ যাবৎ চলা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে এবার দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা। তিন দিন যাবৎ সেখানেই অবস্থানের মাধ্যমে বিমানবন্দরটিতে আগত বিদেশীদের কাছে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তাদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার স্থানীয় সময় সকালে কর্মসূচি শুরুর পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরটির মূল টার্মিনালের আগমনী হলে প্রবেশ করেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আন্দোলনরতরা বিদেশ থেকে আগত লোকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। যে কারণে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি এই হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এগারো শ’র বেশি যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান ওঠানামা করে। বিমানবন্দরটি থেকে দিনে প্রায় দুই শ’র বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান যাতায়াত করে থাকে।
আগত বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ‘পুলিশ বাহিনী আমাদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’ এ সময় বিক্ষোভকারীরা যাত্রীদের কাছে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন। যেখানে দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, খসড়া বিল সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার, সার্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা বন্ধ করা।
বিশ্বের ম্যাপে এক সময় ব্রিটিশ কলোনি হিসেবে পরিচিত হংকং বর্তমানে চীনের অংশ। যে কারণে ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় সায়ত্ত্বশাসন ভোগ করছে দেশটির জনগণ। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থাও রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে অনেকাংশে ভিন্ন।
গত ৯ জুন থেকে হংকংয়ে কথিত আসামি প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নামেন লক্ষাধিক জনগণ। আন্দোলনকারী জনগণের আশঙ্কা, বিতর্কিত সেই বিলটিকে অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যে কারণে লাখো জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে বিলটিকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন দেশটির চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। যদিও তখন বিলটিকে পুরোপুরি বাতিল না করায়; এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে সরকারের পতনের দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন সেখানকার নাগরিকেরা।
এবারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে গত শুক্রবার থেকেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে জানিয়ে আগেভাগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লাইট জটিলতাকে সর্বনি¤œ পর্যায়ে রাখতে বৈধ টিকিট, বোর্ডিং পাস ও ভ্রমণ নথি ছাড়া কাউকে চেক ইন এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। তাই বিমানবন্দরে আগত সব যাত্রীকে অবশ্যই নিজেদের হাতে সব কাগজপত্র রাখতে হবে। প্রায় ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অধীনে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অঞ্চলটি শক্তিশালী চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিবসটির ২২ বছর পূর্তিতে গত ১ জুলাই আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করেন গণতন্ত্রকামী লোকজন। প্রতি বছরের এই দিনে কর্মকর্তারা এক দিকে সরকারি ভবনগুলোতে উৎসব পালন করেন আর অপর দিকে গণতন্ত্রকামীরা অবস্থান নেন রাজপথে।
বিবাদে চীন-যুক্তরাষ্ট্র
এরই মধ্যে বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে চীনের সাথে বিবাদে জাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিংপন্থী একটি পত্রিকা তা কাং পাওয়ে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের কথা বলার একটি ছবি এবং নাম প্রকাশ করার ঘটনা নিয়েই বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার চীনা নেতৃত্বকে হিংস্র স্বভাবের বলে নিন্দা করেছে। ও দিকে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করে বলেছে, তারা গুণ্ডাদের মতো কথা বলছে এবং আবারো হংকেংয়ের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কূটনীতিককে নিয়ে ছাপানো খবরেরও সমালোচনা করে বলেছে, তাদের কূটনীতিক সরকার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত অনেক ধরনের মানুষের সাথেই কথা বলেছেন।


আরো সংবাদ