২০ আগস্ট ২০১৯

বৃষ্টি-বন্যায় কেরালায় ৩ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু

-

বর্ষার টানা বৃষ্টি এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ভারতের ৯টি রাজ্যের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমের মালাবার উপকূল সংলগ্ন কেরালার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে মাত্র তিন দিনেই বৃষ্টি ও বন্যাজনিত কারণে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা গত শুক্রবার জানিয়েছেন।
এদিনও রাজ্যটির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল; পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিনারাই বিজয়নের সরকার সেখানে রেড অ্যালার্টও জারি করেছে। রানওয়ে পানিতে ডুবে যাওয়ায় রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার নিলাম্বুরে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে; আরো প্রায় ৪০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাথে দক্ষিণের এ রাজ্যটিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্সের সদস্যরাও। এরই মধ্যে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষকে তারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে এনেছেন। ভারতের সাউদার্ন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বন্যাক্রান্ত পালাক্কাড বিভাগে ২০টি ট্রেনের যাতায়াত বাতিল করেছে; ওই এলাকার দু’টি রুটে রেল যাতায়াতও স্থগিত রাখা হয়েছে। কেরালার বাইরে মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, তামিলনাডু, গোয়া, অন্ধ্র প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও ওড়িষাতেও ব্যাপক বন্যার খবর পাওয়া গেছে।
এসব রাজ্যে আরো দুই দিন তুমুল বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
টানা বৃষ্টিতে শুক্রবার কেরালার প্রতিবেশী রাজ্য কর্নাটকের কোডাগু জেলায় ভূমিধসে এক পরিবারেরই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যটির ৮০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
একদিনেই ৯১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখা তামিলনাডুর নিলগিরিতে চার নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার ৭০৪ জনকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী। বন্যায় কোলাপুর ও সাংলিসহ মহারাষ্ট্রের পশ্চিমের পাঁচটি জেলার দুই লাখ ৮৫ হাজার বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। কৃষ্ণা ও পাঁচগঙ্গাসহ ওই অঞ্চলের বড় বড় সব নদীর পানিই উপচে পড়ছে। নর্মদার পানিও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ওড়িষায় গত সপ্তাহের তুমুল বৃষ্টিপাতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু ও দু’জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছিলেন রাজ্যটির কর্মকর্তারা। কেরালার ওয়ানাড থেকে লোকসভায় নির্বাচিত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বন্যাক্রান্তদের দ্রুত ত্রাণ সরবরাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। কর্নাটকের বন্যাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া।


আরো সংবাদ