২৩ আগস্ট ২০১৯

কাশ্মির নিয়ে মোদির পদক্ষেপ অসাংবিধানিক : প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ; মোদি সরকারের পদক্ষেপ দেশের মানুষ পছন্দ করেনি : মনমোহন সিং

-

ভারতের জম্মু-কাশ্মির নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেছেন, অসাংবিধানিক পথে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা ছাড়া কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল প্রসঙ্গে দেশটির দুইবারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, মোদি সরকারের এমন পদক্ষেপ দেশের অনেক মানুষ পছন্দ করেনি।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মির কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবাও সীমিত।
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র সফরে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘ভারতের কাশ্মিরে যখন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বহাল করা হয়েছিল, তখন বেশ কিছু নিয়মও তৈরি হয়েছিল। সে নিয়মগুলো না মেনেই কেন্দ্রের মোদি সরকার তা খারিজ করার কথা ঘোষণা করেন। কারও কোনো মতামতই নেয়নি বিজেপি সরকার। কিন্তু কংগ্রেস সবার মতামতের সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছে সবসময়। সবার মতামত নিয়েই আলোচনা করেছে।’
তা ছাড়া কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর এই প্রথমবার মুখ খুললেন দেশটির দুইবারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারকে অবশ্যই কাশ্মিরিদের কথা শুনতে হবে। তিনি বলেছেন, মোদি সরকারের এমন পদক্ষেপ দেশের অনেক মানুষ পছন্দ করেনি। কংগ্রেস দলীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার কাশ্মির ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে বলেন, ভারত এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সবাইকে এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনমোহন সিং বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত যা হবে তা আমাদের দেশের অনেক মানুষ পছন্দ করেনি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে কাশ্মিরের সব মানুষ কি বলতে চায় তা অবশ্যই শুনতে হবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় ধারণা সদূরপ্রসারী হবে।’
সোমবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে কড়া নিরাপত্তায় ঈদ পালন করেছেন সেখানকরা মুসলিমরা। ঈদের আগের দিন সেখানে ফের কারফিউ জারি করায় পুরো কাশ্মিরের পথঘাট থমথমে ও নির্জন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করলেও বড় বড় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি মানুষ।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির অনলাইন খবর অনুযায়ী, কাশ্মির ও শ্রীনগরের অনেক মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। ফলে ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘রাজ্যটিতে’ ঈদের কোনো আমেজ ছিল না। সরকার জানিয়েছে, গত শনিবার নিরাপত্তা শিথিল করার পরে শ্রীনগরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, তার জেরেই রোববার থেকে ফের সেখানে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু বিবিসি এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে হাজার মানুষ স্লোগানে স্লোগানে তাদের বিক্ষোভ জানাচ্ছে। কাশ্মিরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর কাশ্মিরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভের যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছিল, প্রাথমিকভাবে ভারত সরকার সেগুলো ‘অতিরঞ্জিত’ ও ‘ভুল’ বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার এক টুইটে শ্রীনগরে হওয়া একটি বিক্ষোভের সত্যতা স্বীকার করে তারা। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের করা এক টুইটে ৯ আগস্ট শ্রীনগরের সাওরা অঞ্চলে হওয়া বিক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কোনো গুলি ছোড়েনি বলে দাবি করা হয়।
গতকাল বুধবার ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দশ দিন আগে কাশ্মিরের ওপর আরোপ করা ব্যাপক নিরাপত্তা কড়াকড়ি জম্মু থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। তবে কাশ্মির উপত্যকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই কড়াকড়ি আরোপিত থাকবে। একটি ভারতীয় পত্রিকাকে কাশ্মিরের গভর্নর সত্যপাল মালিক জানান যে ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পর কাশ্মিরের ওপর চলমান ভারতীয় বাহিনীর নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি তুলে নেয়া হবে।
নির্বাচনের উদ্যোগ
স্বায়ত্ত শাসন বাতিল ও দু’টি আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভাগ করার পর কাশ্মিরে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এ লক্ষ্যে নতুন পাস হওয়া জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন আইনের সীমা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চে কাশ্মিরের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নির্বাচনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী নতুন বিধানসভার ১১৪টি আসন থাকবে। এর মধ্যে ২৪টি আসন আজাদ কাশ্মিরের অধীনে পড়ায় সেগুলো শূন্য থাকবে। এর ফলে ৯০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরনো বিধানসভার আসন সংখ্যা ছিল ১১১টি। তখনো আজাদ কাশ্মিরের অধীনে থাকা ২৪টি আসন শূন্য ধরা হতো। এর মধ্যে চারটি আসন ছিল লাদাখ অঞ্চলে। পুনর্গঠন আইনে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করার ফলে এবার কাশ্মিরে অতিরিক্ত সাতটি আসনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। জম্মু-কাশ্মিরের কোনো অঞ্চলে এই নতুন সাতটি আসন তৈরি করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

 


আরো সংবাদ