২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শান্তি আলোচনা বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : তালেবান

তালেবানকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান আফগান প্রেসিডেন্টের
-

তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করেছে আফগান তালেবান। আফগানিস্তানে ১৮ বছরের মার্কিন দখলদারিত্বের অবসানের লক্ষ্যে কাতারে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। আলোচনায় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনা বাতিলের ঘোষণার আগে পর্যন্ত সব কিছু ঠিকভাবেই চলছিল।
গত ৫ সেপ্টেম্বর কাবুলের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় গাড়িবোমা হামলায় এক মার্কিন সেনাসহ ১২ জন নিহত হয়। তালেবানরা ওই ঘটনার দায় স্বীকারের পর মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
এ দিকে তালেবানকে সহিংসতা বন্ধ করে আফগান সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তালেবানের সাথে খসড়া শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক বাতিল ঘোষণা করার পর গনি রোববার এ আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের গোপন শান্তি আলোচনা বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় গনির কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তালেবান যখন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে তখনই শান্তি আসবে।’ অন্য দিকে, ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা বাতিল করার সিদ্ধান্তে আরো বেশি আমেরিকানের প্রাণ যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।
আলোচনার একেবারে শেষপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির ঠিক আগে শনিবার হঠাৎ এক সিদ্ধান্তে শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। অথচ এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে তালেবানের মুখ্য নেতাদের সাথে ট্রাম্পের গোপন বৈঠক করার কথা ছিল। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সাথেও বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প। তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ শান্তি আলোচনা বাতিল করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, ‘ওই সময়ই মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আরো ক্ষতি হবে। তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণœ হবে, তাদের শান্তিবিরোধী অবস্থান বিশ্বের কাছে প্রকাশ পাবে, জীবন ও সম্পদহানি বৃদ্ধি পাবে।’
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, আফগান শান্তি আলোচনা স্থগিত আছে এবং তালেবান উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলছে এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন আফগান সৈন্যদের জন্য দেয়া মার্কিন সামরিক সমর্থন হ্রাস করবে না।
রোববার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পম্পেও আরো জানিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা প্রণয়ণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানবিষয়ক তাদের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদকে ডেকে পাঠিয়েছে। আফগান শান্তি আলোচনার মৃত্যু ঘটেছে কি না, ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে পম্পেও বলেন, ‘আপাতত’।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী থাকার সময় থেকেই আফগানিস্তানের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় ইতি টানতে চাইছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তালেবানের কাছ থেকে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আফগানিস্তান থেকে কয়েক হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিল মার্কিন কূটনীতিকেরা।
দু’পক্ষ একটি খসড়া চুক্তির বিষয়েও সমঝোতায় পৌঁছে গিয়েছিল। ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের সাথে তালেবান নেতাদের আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। আফগানিস্তানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজার সেনাসদস্য রয়েছে। তালেবানের সাথে তাদের প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, শান্তিচুক্তির আওতায় ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনাসদস্যকে প্রত্যাহারের কথা ছিল।
তালেবান-মার্কিন শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে আগেও বিতর্ক ছিল। তবে অনেকে এ নিয়ে আশাবাদীও হয়েছিলেন। কাবুলের একজন নারী বিবিসিকে বলেন, ‘কেন একজন আমেরিকানের মৃত্যুতে ট্রাম্প শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেন? এত যে আফগানের মৃত্যু হয়েছে তাদের জীবনের কি তাহলে কোনো দাম নেই?’

 


আরো সংবাদ