২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার মন্তব্য কলাম বোল্টনের বিদায়ে বদলে যাবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি

-

বরখাস্ত না পদত্যাগ? এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ট্রাম্প ও বোল্টনের; আন্তর্জাতিক বেশিরভাগ ইস্যুতেই তীব্র মতবিরোধ ছিল দু’জনের মধ্যে; বোল্টনের বিদায়ে ইরানের সাথে ‘পূর্বশর্ত ছাড়াই’ আলোচনার পথ খুলল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন। এর কারণ হিসেবে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জন বোল্টনের সাথে কঠোর দ্বিমত পোষণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে বোল্টন ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন। এটি যেভাবেই হোক না কেন, বোল্টনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একজন দক্ষ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক শীর্ষ কূটনীতিক এখন ট্রাম্প প্রশাসনে আর রইলেন না।
জন বোল্টন ২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা সবার আগে আমেরিকা নীতির যে ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সে বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বোল্টনের নিয়োগ ছিল একটি চমকপ্রদক বিষয় এবং আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল নিয়োগ। জন বোল্টন যুদ্ধবাজ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। একবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, এমন কোনো যুদ্ধ নেই যেটা জন পছন্দ করেন না।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়ার আগে বোল্টন ফক্স নিউজের ভাষ্যকার ছিলেন। তিনি আগস্ট ২০০৫ থেকে ডিসেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তা ছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের অধীনেও বোল্টন দায়িত্ব পালন করেছেন।
বোল্টনের সাথে নানা বিষয়ে মতের অমিল হওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প প্রায়ই বলেছেন। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, বোল্টনের সাথে তার মতবিরোধ ছিল; কিন্তু ঠিক কী কারণে এই সময় আকস্মিকভাবে বোল্টনকে বিদায় নিতে হলো এবং তার প্রস্থানে ভবিষ্যৎ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তার কিছু ব্যাখ্যা দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরাসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
চীন থেকে রাশিয়া, ইরান থেকে ভেনিজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া থেকে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন পরস্পরবিরোধী মত পোষণ করতেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য সূত্রমতে, এত দ্রুত যে কারণে বোল্টনকে চলে যেতে হলো তা হলো, আফগানিস্তান প্রশ্নে ট্রাম্পের সাথে তীব্র মতবিরোধ। বোল্টন আফগানিস্তানের তালেবানের সাথে শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করেন। তালেবান নেতাদের ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প যে আমন্ত্রণ জানান, বোল্টন তারও প্রতিবাদ করেন। গত সপ্তাহেই কাবুলে মার্কিন সৈন্য নিহতের ঘটার পর ট্রাম্প বোল্টনের ইচ্ছা প্রতিফলনের কাছাকাছি আসেন। অন্যথায় বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারত।
ইরানের সাথে যুদ্ধে না গিয়ে ট্রাম্প সে দেশের প্রেসিডেন্টের সাথে মুখোমুখি আলোচনা বসতে চান। এই ব্যাপারে বোল্টন অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি ইরানের ওপর বোমা ফেলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সামরিক সঙ্ঘাতের পরিণতি ভেবে ট্রাম্প যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরাবরই বলে আসছে, ইরানের সাথে বিরোধ মেটানোর একমাত্র উপায় আলোচনায় বসা। তবে এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন পারমাণবিক শর্তের বিষয়ে উভয়ে একমত হবে এবং জন বোল্টনের প্রস্থান ঘটবে। মঙ্গলবার বোল্টনের বিদায়ে পম্পেও যেন তারই প্রতিধ্বনি করলেন। আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসান রুহানির সাথে কোনো ধরনের ‘পূর্বশর্ত ছাড়াই’ বৈঠকে মিলিত হতে পারেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া প্রশ্নেও ট্রাম্পের সাথে বোল্টনের তীব্র মতবিরোধ ছিল। বোল্টন কখনোই মনে করতেন না, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব। ট্রাম্প হঠাৎ যেভাবে কিমের সাথে শীর্ষ বৈঠক ডেকে বসেন, তাতে বোল্টন ঘোরতর আপত্তি করেন। তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে ট্রাম্প সন্দেহ করতেন, বোল্টন চান না উত্তর কোরিয়ার সাথে শান্তিচুক্তি হোক।
তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের সাথে বোল্টন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একমত ছিলেন। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মেধাস্বত্ব হস্তান্তর ও চুরিতে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে উভয়ই একমত পোষণ করেছেন। গেল মাসে বোল্টন ইউক্রেন সফরে গিয়ে দেশটিকে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেন।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব সমাধানের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক টোপ, যা শতাব্দীর সেরা চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত, সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বোল্টনের। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের সে চুক্তি বয়কট করলে বোল্টন এর তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন। ট্রাম্পের উপদেষ্টা হওয়ার আগে বোল্টন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং মার্কিন দূতাবাসকে শহরটিতে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলেন।
ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে বোল্টন ট্রাম্পকে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তার উল্টোটা ঘটে। বোল্টনের কথায় দেশটির বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্থায়ী নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ছয় মাস পরে দেখা গেল, মাদুরো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প ক্ষোরূপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন বিদেশ নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এর জন্য তিনি বোল্টনকে দায়ী করে বলেন, সে আমাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে।


আরো সংবাদ

জি কে শামীমের সাথে দু’টি ছবি নিয়ে না’গঞ্জে তোলপাড় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে : ড. আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের স্মরণসভায় জি এম কাদের জাতি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চায় সমুদ্র নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে টেলিলিংক গ্রুপ চেয়ারম্যানের ঢাকা ত্যাগ শিশুদের যৌন হয়রানি রোধে ডুফার কর্মশালা আশুলিয়ায় গার্মেন্টে চাকরি নিতে এসে তরুণী ধর্ষিত হাতিরঝিল লেক থেকে লাশ উদ্ধার ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালক-সহকারী গ্রেফতার বাংলাদেশের শুভ সূচনা শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে

সকল