১৮ অক্টোবর ২০১৯

  বেসামরিকদের অবস্থান জানিয়ে চিঠির পরেও আফগান বাহিনীর ড্রোন হামলা

-

পাইন-বাদাম কাটার মওসুমের বারো দিন আগে আফগানিস্তানের পূর্ব নানগারহার প্রদেশের গভর্নরকে একটি চিঠি পাঠান উজির টাঙ্গি এলাকার প্রবীণ গ্রামবাসীরা। চিঠিতে শুকনো ফল সংগ্রহের জন্য ২০০ শ্রমিক ও শিশু নিয়োগের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান তারা।
রয়টার্স চিঠিটি দেখেছে। চিঠি ইস্যুর তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর উল্লেখ আছে। এই চিঠিটিতে মার্কিন সমর্থিত আফগান বাহিনী এবং অস্ত্রধারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পর্বতমালায় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের মধ্যকার সংঘর্ষ থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।
তালেবান বিদ্রোহীরা ও ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা এই প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মার্কিন ও আফগান বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। প্রদেশটির তিনজন আফগান কর্মকর্তা জানিয়েছে, বুধবার কৃষক, শ্রমিক ও শিশুরা তাদের বিশাল অঞ্চলে পাইন বাদাম উত্তোলনের দৈনন্দিন কাজ-কর্ম শেষ করার কয়েক ঘণ্টা পরে তাদের তাঁবুর নিকটে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। একটি মার্কিন ড্রোন ওই আবাসস্থলে আঘাত করলে ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় এবং ৪০ জন আহত হয়।
এই চিঠি দেয়ার পর শ্রমিকদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়ার পরেও আক্রমণটি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আকরাম সুলতান গাছপালার মধ্যে লুকিয়ে থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি যিনি হামলার সময় কিছু শিশুর সাথে বনের মধ্যে দৌঁড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বনের মধ্যে অল্প অল্প আগুন জ্বলছিল। আমরা বিশৃঙ্খলভাবে গাদাগাদি করে একত্র হয়েছিলাম। আমরা আমাদের গ্রামগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তবে হঠাৎ করে সবকিছু বদলে গেল। সর্বত্র ধ্বংস হয়ে গেল।’
উজির টাঙ্গী এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রবীণদের জমিতে ফসল কাটা ও খোসা ছাড়ানোর জন্য ভাড়া করা ২০০ আফগান খামারির মধ্যে সুলতানও ছিলেন। আফগানিস্তানে প্রতি বছর ২৩ হাজার টন পাইন বাদাম উৎপন্ন হয়। দেশটি এয়ার করিডোরের মাধ্যমে প্রতি বছর চীনে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ফসল রফতানি করে। ফসল কাটার জন্য নিয়োগ শুরু করার আগে গ্রামের প্রবীণরা গভর্নর ও ইসলামিক স্টেটের সশস্ত্র যোদ্ধাদের স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র চেয়েছিলেন, যাতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অঞ্চলটিতেও ফসল তোলার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
নানগারহার প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য সোহরাব কাদরি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘লড়াইরত পক্ষগুলো তাদের নিরাপত্তা দিতে সম্মতি দিয়েছিল এবং প্রতিবেশী প্রদেশ থেকে শ্রমিক আনতে ঠিকাদারদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চালানো হয়নি। তবুও মার্কিন ড্রোন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।’
আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন যে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের আস্তানা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গ্রামের প্রবীণদের কর্তৃক গভর্নরকে পাঠানো চিঠি সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্নেল সনি লেগেট বলেছিলেন, এটি তদন্তের অংশ হবে।


আরো সংবাদ

সকল