২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে আরো ক্ষমতা চায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী

-

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সাবেক ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) যৌথভাবে সামরিক বাহিনীর প্রাধান্যবিশিষ্ট জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদকে (এনডিএসসি) পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ক্ষমতাসহ আরো ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।
সামরিক বাহিনীর নিয়োগপ্রাপ্ত ও ইউএসডিপির ১৪৫ জন পার্লামেন্টারি সদস্য যৌথভাবে গত শুক্রবার ইউনিয়ন পার্লামেন্টের কাছে সংবিধান সংশোধনী বিলটি দাখিল করেছে। বিলটিতে বলা হয়েছে যে আইন পরিষদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ভারসাম্যের অবনতি ঘটলে বা আইন পরিষদের কোনো কক্ষের এক-তৃতীয়াংশ আসন শূন্য হলে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এনডিএসসি (এতে সামরিক বাহিনীর রয়েছে ছয়টি আসন, অর্থাৎ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ) এই ক্ষমতা দেয়া উচিত যাতে তারা পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারে। পার্লামেন্টে সামরিক বাহিনীর রয়েছে ২৫ ভাগ পদ। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউএসডিপি ও তাদের মিত্রদের আসনগুলো যোগ করলে পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের ওপর সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এনডিএসসিকে এক মাস পরপর বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, আর পাঁচজন সদস্য অনুরোধ করলে জরুরি বৈঠক হতে পারে। নিরাপত্তা ইস্যু বা জরুরি অবস্থার সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারে এনডিএসসিই সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থা। এই কমিটিতে আছেন রাষ্ট্রপতি, দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট (তাদের একজন সামরিক-সমর্থিত), পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের স্পিকার, কমান্ডার ইন চিফ ও ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর নিযুক্ত প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রীরা। ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি সরকার ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একবারের জন্যও আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএসসির বৈঠক আহ্বান করেনি।
এর বদলে সঙ্কটের সময় কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি এর কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে সভা করেছে।
সামরিক বাহিনী নিযুক্ত আইনপ্রণেতারা অনুচ্ছেদ ২৬২ ও অনুচ্ছেদ ২৬৪ সংশোধনের জন্য পৃথক একটি বিলও উত্থাপন করেছে। এতে আঞ্চলিক মুখ্যমন্ত্রীদেরকে তাদের মন্ত্রী নিয়োগ বা পরিবর্তন ও মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পার্লামেন্টস জয়েন্ট বিল কমিটি প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপারে তাদের অভিমত আগামী মাসে পার্লামেন্টে জমা দেবে। গত বৃহস্পতিবার সামরিক-নিযুক্ত পার্লামেন্ট সদস্যরা সংবিধান সংশোধনের আরেকটি বিল দাখিল করেছে। এতে কোনো পরিবারের নিকট সদস্য যদি বিদেশী নাগরিক হয়, তবে তার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী না হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি স্টেট কাউন্সিলর অং সু চিকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ