১৮ অক্টোবর ২০১৯

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা ইরান দায়ী নিশ্চিত হলে ‘জবাব দেবে’ সৌদি আরব

-

আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলার জন্য ইরান দায়ী, তদন্তে এটি নিশ্চিত হলে জবাব দেয়ার জন্য যথযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার দেশটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর এ মন্তব্য করেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে তা জানাতে অস্বীকার করে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে রাজ্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। হামলাটি ইয়েমেন থেকে করা হয়নি এটি নিশ্চিত আমরা, হামলাটি উত্তর দিক থেকে হয়েছে। তদন্তকারীরাই এটি প্রমাণ করবে।’
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা হামলাটির দায় স্বীকার করলেও সৌদি আরব তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দু’টি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ স্থাপনা দুটির মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারও আছে।
হামলার পরপরই বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারী দেশ সৌদির দৈনিক তেলের উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে যায়। এতে বিশ্বের দৈনিক তেল সরবরাহ ৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যায়।
হামলাটি উত্তর দিক থেকে হয়েছে এবং এতে ইরানি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, এ পর্যন্ত করা তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সৌদি আরব। হামলাটি ঠিক কোন জায়গা থেকে চালানো হয়েছে পরবর্তী তদন্তে তা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে তারা।
‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে’ সৌদি আরব তার মিত্রদের সাথে পরামর্শ করছে জানিয়ে এ বিষয়ে একটি অবস্থান নেয়ার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জুবেইর।
এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে চলতি সপ্তাহে দেশটির বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সৌদির বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটিতে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
হাউছিদের হামলা বন্ধের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ
শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার যে প্রস্তাব ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা দিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। বিবিসি জানিয়েছে, এই প্রস্তাব ‘যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর ইচ্ছার শক্তিশালী বার্তা’ দিতে পারে বলে এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে জাতিসঙ্ঘ।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক সপ্তাহ পর হাউছিরা প্রস্তাবটি দিয়েছে। হাউছিরা ওই হামলার দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা ইরান অস্বীকার করেছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় হুতি সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাহদি আল মাশাত জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে থযদি সৌদি আরব ও তার মিত্ররা একই কাজ করে। ইয়েমেনের সব পক্ষের প্রতি ‘ব্যাপক জাতীয় পুনর্মিলনের’ জন্য কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিত, হামলা বন্ধ করার ও রাজনৈতিক সমাধানের ওই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ দূত এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে এবং সহিংসতা, সামরিক সঙ্ঘাত বৃদ্ধি ও আর্থহীন বাগাড়ম্বর হ্রাসে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।’
সাড়ে চার বছরেরও বেশি ধরে চলা ইয়েমেনের যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার লোক নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ লোককে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি বিশ্বে মানুষের তৈরি করা সবচেয়ে বড় মানবিক সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আরো সংবাদ