২৩ অক্টোবর ২০১৯

ইউরোপে অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে রাশিয়ার টপসিক্রেট গুপ্তচর বাহিনী রাশিয়ার এলিট ইউনিট নাশকতা, গুপ্তহত্যা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে দক্ষ

-

প্রথমে মলদোভাতে চালানো হয় নাশকতা। তারপর বুলগেরিয়ায় বিষক্রিয়ায় হত্যা করা হয় এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে। এরপর মন্টিনিগ্রোতে ব্যর্থ অভ্যুত্থান। এ ছাড়া গত বছর ব্রিটেনে সাবেক এক পক্ষত্যাগী রাশিয়ান গুপ্তচরকে নার্ভ এজেন্ট বা স্নায়ু গ্যাস প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উপরের প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনায় রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার ছাপ দেখতে পেয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে ভেবেছিলেন এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
কিন্তু পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এখন এই অনুসিদ্ধান্তে এসেছেন যে, এই কার্যক্রমগুলো একই সূত্রে গাঁথা। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে ইউরোপকে অস্থিতিশীল করার সমন্বিত চলমান প্রচেষ্টা। আর এই অভিযানগুলো পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাশিয়ার গুপ্তচর বাহিনীর একটি এলিট ইউনিট, যারা নাশকতা, গুপ্তহত্যা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশেষভাবে দক্ষ।
অত্যন্ত গোপনীয় এই বিশেষ ইউনিটের নাম ইউনিট ২৯১৫৫। প্রায় এক দশক ধরে এটি কার্যকর রয়েছে। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর অস্তিত্ব জানতে পারে সম্প্রতি। চারটি ভিন্ন ভিন্ন ইউরোপিয়ান দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এই ইউনিটকে কত বেশি কাজে লাগানো হয় তা স্পষ্ট নয়। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এই ইউনিটের সদস্যরা কখন ও কোথায় হামলা চালাবে, তা জানা সম্ভব নয়।
ইউনিট ২৯১৫৫-এর কার্যক্রম থেকে অনুমেয় কতটা সক্রিয়তা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পশ্চিমের বিরুদ্ধে লড়ছেন। একে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইব্রিড যুদ্ধ। প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার, হ্যাকিং ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের পাশাপাশি চলছে প্রকাশ্যে সামরিক চ্যালেঞ্জ।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও মস্কোয় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাচে পিটার জক বলেন, আমার মনে হয় আমরা ভুলে গেছি রাশিয়ানরা কতটা নৃশংস হতে পারে। তবে পিটার জক বলেছেন, তিনি ওই ইউনিটের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন না।
অপর দিকে এক টেক্সট বার্তায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি এস পেসকব ওই ইউনিটের ব্যাপারে যেকোনো প্রশ্ন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে করার অনুরোধ জানান। তবে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। খবরে বলা হয়, মস্কোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ১৬১তম স্পেশাল পারপোস স্পেশালিস্ট ট্রেইনিং সেন্টারের সদর দফতর থেকে এই ইউনিটের কার্যক্রম চালানো হয়। এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ থেকে। অবশ্য জিআরইউর বেশির ভাগ কর্মকাণ্ডই রহস্যে ঘেরা। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সংস্থার কাঠামো নিয়ে আগের চেয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে শুরু করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জিআরইউর দু’টি সাইবার ইউনিট ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি ও ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবিরের কম্পিউটার সার্ভারে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করে দেয়া হয়।
গত বছর, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে করা মার্কিন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার জিআরইউর ওই দুই ইউনিটের এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

 


আরো সংবাদ