১৯ অক্টোবর ২০১৯

দুই মাস পর কাশ্মিরের দরজা খুললেও সাড়া নেই পর্যটকদের  

-

প্রায় দুই মাসের বেশি সময় যাবত বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মিরে পর্যটক প্রবেশের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলো। সরকারি এক মুখপাত্র জানান, বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) থেকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্য ফের কাশ্মিরের দরজা পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়েছে। যদিও আতঙ্কে সাড়া মিলছে না পর্যটকদের বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
গত সোমবার (৭ অক্টোবর) কাশ্মিরি গভর্নর সত্যপাল মালিক রাজ্যে পর্যটক প্রবেশের বিষয়ে নির্দেশনাটি দেন। যেখানে বলা হয়, ১০ অক্টোবর থেকে হোম ডিপার্টমেন্টের আগের নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ সেদিন থেকেই পর্যটকরা চাইলে জম্মু ও কাশ্মিরে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ দিকে রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গত ২ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মির থেকে অমরনাথের তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের দ্রুত কাশ্মির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। অপর দিকে সরকারি এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার পর্যটক কাশ্মিরে ভ্রমণ করেন; পরে জুলাই মাসে অন্তত ৩ হাজার ৪০৩ বিদেশী পর্যটকসহ কমপক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার লোক ভূস্বর্গটিতে বেড়াতে আসেন। যদিও পর্যটন দফতরের কর্মকর্তারা জানান, গত আগস্ট মাসে সৃষ্ট উত্তেজনার পর এখন পর্যন্ত রাজ্যে পর্যটক আগমনের আর কোনো তথ্যই তাদের হাতে নেই।
কেবল ৩ আগস্টই কাশ্মির থেকে ফিরে যায় ৬ হাজারেরও বেশি পর্যটক; সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে গৃহবন্দী করার পাশাপাশি পাঠানো হয় বাড়তি সেনা। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর থেকে ভূস্বর্গ খ্যাত উপত্যকাটি ছিল পর্যটকশূন্য। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার কাশ্মিরের ওপর থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিলেও বেশির ভাগ এলাকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগব্যবস্থা এখনো সচল হয়নি।
পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুনেই কাশ্মির ঘুরে গেছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ পর্যটক। জুলাইয়ে এ সংখ্যা কিছুটা কমে ছিল দেড় লাখ। রমরমা সেই অবস্থার বিপরীত চিত্র এখন উপত্যকাটির বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য পর্যটকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদি সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মির সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।
এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মির ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সাথে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান।


আরো সংবাদ