২০ নভেম্বর ২০১৯

সাংবিধানিক রীতি মেনে রায় দিতে সুপ্রিম কোর্টে মসজিদ পক্ষের আর্জি অযোধ্যা মামলা

-

শুনানি শেষ হওয়ার পর এখন ঐতিহাসিক রায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অযোধ্যা। বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায় শোনাবে, সে দিকে যখন তাকিয়ে গোটা দেশ, এর ঠিক আগে এই মামলা রোজই নয়া মোড় নিচ্ছে। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এবার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল মসজিদ পক্ষের এক তরফ। অযোধ্যা রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে, তাই এমন রায়ই দেয়া হোক, যা দেশের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে এ কথাই সুপ্রিম কোর্টকে এক পাতার বিবৃতি দিয়ে ‘স্মরণ’ করিয়ে দিলো মসজিদ পক্ষ।
ইতোমধ্যে আদালতে ‘মোল্ডিং অব রিলিফ’ পেশ করেছে তারা। অর্থাৎ, রায় যার পক্ষে যাবে, তার বিপক্ষ দল কী দাবি জানাচ্ছে, তা জানিয়ে রাখা। রোববার মসজিদ পক্ষে সওয়ালকারী সাতটি পার্টি যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যেহেতু সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে, তাই এই ঐতিহাসিক রায় এমন হওয়া উচিত যা সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে হয়। সেই রায় যেন গোটা দেশ সমর্থন করতে পারে বলে আমরা আশা করছি, আদালত আমাদের বিবিধ ধর্ম-সংস্কৃতির মূল্যবোধকে মর্যাদা দিয়ে এ সমস্যার সমাধানের রাস্তা বের করবে’।
উল্লেখ্য, ওই বিতর্কিত জমিতে মন্দিরের হয়ে সম্প্রতি সওয়াল করতে থাকেন অনেক পক্ষ। এরপরই এই যৌথ বিবৃতি পেশ করেন মসজিদ পক্ষের একাংশর। মসজিদ পক্ষদের তরফে জানানো হয়েছেÑ ‘সুপ্রিম কোর্ট যে রায়ই দিক না কেন, তার প্রভাব পড়বে আগামী প্রজন্মের ওপর। দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও প্রভাব পড়বে। দেশের মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে। মোল্ডিং অব রিলিফ আদালতের দায়িত্ব আদালতের বিবেচনা করে দেখা উচিত, এই রায়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে।’
এ দিকে, বাবরি মসজিদের জমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষের দিন সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে আদালত নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী প্যানেল মীমাংসা সূত্র (সেটেলমেন্ট) পেশ করেছে বলে খবর বের হয়েছিল। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি জমি অধিগ্রহণ করে, তাহলে আপত্তি থাকবে না সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ডের। পরিবর্তে তাদের জন্য নতুন মসজিদ গড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অযোধ্যার মসজিদগুলো সংস্কার করতে হবে, যেখানে নামাজ পাঠ করা যাবে। এমন শর্তেই জমির ওপর দাবি ছাড়তে সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড রাজি বলে খবর বের হয়েছিল। তবে জমি নিয়ে আপত্তি তুলে নেয়ার কথা তারা জানাননি বলে জানিয়েছেন সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনজীবীরা। এরপর মুসলিমরা জানিয়ে দেন যে, তারা বাবরি মসজিদের ব্যাপারে কোনো রকম আপস করতে রাজি নন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়ে জানিয়েছিল, অযোধ্যায় ২.৭৭ একর জমি সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা বিরাজমানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করতে হবে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ১৪টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। এরপর তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল তৈরি করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত; কিন্তু মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় গত ৬ অগাস্ট থেকে এ মামলার দৈনিক শুনানি শুরু হয়েছিল। গত বুধবার বিকেল ৪টায় শেষ হয় বাবরি মসজিদের জমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি। অযোধ্যা মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।


আরো সংবাদ