১৭ নভেম্বর ২০১৯

কমানো হবে মন্ত্রীদের বেতন লেবাননে প্রেসিডেন্টের সংস্কার প্রস্তাব পঞ্চম দিনে ধর্মঘট পালন; বিক্ষোভে প্রেসিডেন্টের জামাতার যোগদান

জনগণের আন্দোলন প্রশমনে বৈরুতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন : এএফপি -

লেবাননে করারোপ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনে গতকাল সোমবার হাজার হাজার মানুষ ধর্মঘট পালন করেছেন। এদিন দেশটিতে ধর্মঘটের ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা। লেবাননের জেলা ম্যাটনে বিক্ষোভকারীদের সাথে যোগ দিয়েছেন লেবাননের পার্লামেন্টের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের জামাতা শামিল রাউকোজ মাউন্ট।
এদিকে বাবদা প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের নেতৃত্বে লেবাননের মন্ত্রিসভা বৈঠক করেছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট কমিয়ে আনতে এবং বিক্ষোভ প্রশোমনের লক্ষ্যে সরকার মন্ত্রীদের বেতন অর্ধেকসহ একটি সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা অনুমোদন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোববার কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি সঙ্কট মোকাবেলায় তার সরকার সহযোগীদের সাথে এক সংস্কারের প্যাকেজে সম্মত হয়েছেন।
রাজধানী বৈরুতে গত রোববার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়। পাঁচ দিন ধরে চলছে এই বিক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে কল এবং অন্যান্য ম্যাসেজিং সার্ভিসের ওপর প্রস্তাবিত ট্যাক্সের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম রাজপথে নেমে আসে জনতা। তারপর থেকে ভূমধ্যসাগরীয় এই দেশটিতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছেই। রোববার রাজধানী বৈরুত, উত্তরে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ শহর ত্রিপোলি এবং দক্ষিণে বন্দরনগরী টাইরে এদিন অচল হয়ে পড়ে। সব রাস্তা ছিল বিক্ষোভকারীতে ভরা। এ সময় তারা জাতীয় পতাকা দুলিয়ে সেøাগান দিচ্ছিলেন ‘রেভল্যুশন’ অথবা ‘জনগণ শাসকগোষ্ঠীর পতন দাবি করছে’। ঠিক ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।
বৈরুতে এমন একটি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্ট ছেরিনে শাওয়া। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের কারণে হতাশা থেকে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আসলে দেশে কোনো কিছুই কাজ করছে না।
বিক্ষোভকারীদের দাবি দেশে দুর্নীতি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, দেশে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা দশকের পর দশক ধরে তাদের পদ ব্যবহার করে তাদের পক্ষে চুক্তি করছেন এবং তা থেকে নগদ আদায় করছেন। ৪০ বছর বয়সী নারী হানান তাকুচে বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের নেতাদের এটাই বলতে যে, আপনাদের বিদায় নিতে হবে। তাদের ওপর আমাদের কোনোই আশা নেই। তবে আমরা এটা আশা করি যে, এই বিক্ষোভ পরিবর্তন আনবে। এসব নেতা ক্ষমতায় এসেছেন নিজেদের পকেট ভরতে। তারা সব আসলে দুর্নীতিবাজ ও চোর। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি সংস্কারে রাজি হয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাদ আল হারিরি শুক্রবার তার জোটের অংশীদারদের ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন। বলেছেন, নতুন করে ট্যাক্স আরোপ ছাড়াই অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার একটি সমাধানে তাদের পৌঁছাতে হবে।
যদিও নতুন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাবনাকে বাদ দেয়া হয়েছে, তবু অর্থনৈতিক সংস্কার এতটা সহজ নয় বলে বৈরুত থেকে বলছেন আলজাজিরার সাংবাদিক স্টেফানি ডেকার। তিনি বলেন, জনগণ রাজনীতিবিদদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। সোমবারের আন্দোলনটি ছিল আরো কঠোর। এতে সরকারের ওপর আরো চাপ বাড়বে। সোমবার ধর্মঘটে ব্যাংক বীমা, দোকানপাট, স্কুল সব বন্ধ থাকে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণমুখী সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে রাখায় চলাচল থাকে সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় সোমবার সরকার কী প্রস্তাব দেয় তা দেখার বিষয়। কারণ, এখনই সরকার পদত্যাগ করবে এমনটা মনে হচ্ছে না। তবে বেশির ভাগ মানুষ চাইছে সরকারের পদত্যাগ।


আরো সংবাদ