২৩ নভেম্বর ২০১৯

ন্যাটো এখন কার্যত মৃত : ম্যাক্রোঁ

-

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোকে ‘জীবন্মৃত’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। ট্রান্স-আটলান্টিক এ সামরিক জোটের ব্যাপারে এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের ঘাটতিও দেখছেন তিনি।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র ইকোনমিস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি এ প্রেসিডেন্ট সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে নেটোর সাথে ওয়াশিংটনের আলোচনা না করে নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জোটের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর এখন আর নিজেদের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত হবে না মন্তব্য করে ম্যাক্রোঁ নিজেদের মহাদেশকেই ‘ভূরাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন আমরা নেটোর জীবন্মৃত অবস্থা প্রত্যক্ষ করছি।’ ১৯৪৯ সালে আটলান্টিকের এপার-ওপারের ১২টি দেশ মিলে যে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (নেটো) প্রতিষ্ঠা করেছিল, তাতে সদস্য যেকোনো রাষ্ট্রের ওপর আঘাত মোকাবেলায় অন্যদেরও এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি ছিল। পরে আরো আরো দেশ এ জোটে যোগ দেয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ জোটটি আগামী মাসে লন্ডনে তার প্রতিষ্ঠার ৭ দশক উদযাপন করতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ন্যাটোর অন্য অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে আছে দাবি করে সামরিক জোটের পেছনে অন্যদের খরচের হার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন।
অক্টোবরে সিরিয়া থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহারের হঠাৎ ঘোষণাও ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের বিস্মিত করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোটটির নেতাদের টানাপড়েনের বিষয়টি অনুমান করা গেলেও এবারই কোনো প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নেটোকে ‘ব্রেইন ডেড’ বললেন। ন্যাটো এখনো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ কি না ফরাসি প্রেসিডেন্ট সে প্রশ্নও তুলেছেন। ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন অ্যাঞ্জেলা মারকেল।
জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতার কথা স্বীকার করে নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ‘নেটোতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার (ম্যাক্রোঁ) ব্যবহৃত কঠোর শব্দগুচ্ছের সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গির মিল নেই।’ একই মত ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টল্টেনবার্গেরও। তিনি বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ জোট এখনো শক্তিশালী। ইউরোপীয় মিত্ররা এগিয়ে আসছে, প্রতিরক্ষায় বেশি খরচ করছে।’


আরো সংবাদ