০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

কাশ্মির নিয়ে ফের উদ্বেগ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কংগ্রেসের টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশনের শুনানি

-

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এল এঙ্গেল বলেছেন, ‘আমরা কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং আমরা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি’। কাশ্মির উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে ভারতের সিদ্ধান্তের পরিণতি পর্যালোচনা করতে মার্কিন কংগ্রেসের আরেক প্যানেল এই কমিটি।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মির উপত্যকার আগের ও বর্তমানের মানবাধিকার পরিস্থিতি ঐতিহাসিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা করার জন্য বৃহস্পতিবার শুনানি করেছে কংগ্রেসের টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশন। তবে কংগ্রেসের নারী সদস্য প্রমিলা জয়পালের কাছে এ শুনানিটিই যথেষ্ট নয়। তিনি ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়ার জন্য একটি রেজুলেশন দিতে চান। যে রেজুলেশন অধিকৃত কাশ্মির নিয়ে নয়া দিল্লিকে তার নীতিগুলিকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। জয়পাল ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম নারী যিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক আইনপ্রণেতা সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সম্প্রতি সিনেটে উত্থাপিত বিলের একটি সংশোধনীকে সমর্থন করেছেন যাতে ভারতের অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মিরে বিধিনিষেধ আরোপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের হাওয়ার্ড কাউন্টিতে ইসলামিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সিনেটর ভ্যান হোলেন কাশ্মিরি জনগণের সাথে ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা বহাল রাখার’ জন্য ভারত সরকারকে আহ্বান জানান।
সিনেটর ভ্যান হোলেন সম্প্রতি ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সফর করেছেন। ভারত সরকারের সমালোচনা করায় তাকে জম্মু ও কাশ্মির সফর করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল ভারত সরকার। পাকিস্তানি চিকিৎসক ডা: আসিফ মাহমুদের বাসভবনে কাশ্মিরি আমেরিকানদের একটি দলের সাথে কথা বলার সময় কংগ্রেস সদস্য এঙ্গেলও কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কাশ্মিরের জনগণকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা হবে।
গত মাসে ড. মাহমুদ কাশ্মির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি শুনানির ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভারতের গৃহীত যেসব পদক্ষেপের সমালোচনা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ করেছে তন্মধ্যে এই প্যানেলের সমালোচনাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
গণমাধ্যমকে দেয়া এক বিবৃতিতে ল্যান্টোস কমিশন উল্লেখ করেছে, জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের আইনি অবস্থার পরিবর্তন করার ভারতীয় সিদ্ধান্ত আগস্টে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবরে কার্যকর করা হয়েছে। এর পর এই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্রতা বেড়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যেন অভ্যুত্থান। কয়েক শ’ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বদের নির্বিচারে সন্দেহজনকভাবে আটকে রাখা হয়েছে, বলপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
কমিশন উল্লেখ করেছে, এই অঞ্চলে বর্ধিত সামরিকীকরণ এবং ভারতের ক্রিয়াকলাপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতিও ব্যাপক আতঙ্ক-উদ্বেগের কারণ। যদিও ভারতের সিদ্ধান্তটি আকস্মিকভাবে নেয়া হয়েছে, তবে জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি বছরের পর বছর ধরেই উদ্বেগজনক ছিল।
বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) অফিসের ২০১৮ সালের একটি রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টে এই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, নিরাপত্তা অভিযানের সময় নিহত হওয়া, সাংবাদিক ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ওপর নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ির কথা উঠে এসেছিল।
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। এরপর সেখানে বিপুল সেনা মোতায়েন, ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারসহ নানা ধরনের মানবাধিকারবিরোধী পদক্ষেপ নেয়া হয়। ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের মানবাধিকার কমিশনে এ নিয়ে প্রথমবারের মতো শুনানি হয়। ওই শুনানিতে কংগ্রেস সদস্যরা মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ও কারাগারে বিপুল রাজনৈতিক নেতার আটক থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

 


আরো সংবাদ