০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

এরদোগানের সাথে চমৎকার বৈঠক হয়েছে : ট্রাম্প

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান : এএফপি -

সফররত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে বৈঠক ‘চমৎকার’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে তুরস্কের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এস-৪০০ কেনার প্রক্রিয়া ও সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুর্কি অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুই দেশ।
দুই নেতাই একে অপরের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। দুই নেতার বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি এরদোগানের একজন বড় ভক্ত। আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ট্রাম্প সম্পর্কে বলেছেন, আমার প্রিয় বন্ধু।
গত মঙ্গলবার দু’দিনের সফরে ওয়াশিংটনে যান এরদোগান। অবশ্য রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এস-৪০০ কেনার প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে চাপাচাপি করলেও আঙ্কারার কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর তুর্কি অভিযান নিয়ে বিরোধেরও কোনো মীমাংসা হয়নি। ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) মার্কিন বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছিল। ট্রাম্প অক্টোবরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সৈন্য সরিয়ে নিলে তুরস্ক সেখানে কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে আঙ্কারার বিরোধ শুরু হয়। তুরস্কের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা ক্রয় নিয়েও ওয়াশিংটন শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
বুধবারের বৈঠকের পর ট্রাম্প এস-৪০০ ক্রয়কে তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ‘গুরুতর প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। বিরোধ মীমাংসায় অগ্রগতির লক্ষণ দেখা না গেলেও এরদোগানের সাথে বৈঠক ‘চমৎকার’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেছেন, ‘এস-৪০০-এর মতো সংবেদনশীল রুশ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ককে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে কথা বলছি। আমরা আজকে এটি নিয়ে কথা বলেছি, সামনেও বলব, আশা করছি আমরা পরিস্থিতির সমাধান করতে পারব।’
হোয়াইট হাউজে বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজেকে এরদোগানের ‘বড় ভক্ত’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে ‘কার্যকর’ আলোচনা হয়েছে জানান। তবে সুনির্দিষ্ট কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে তা বলেননি। সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে বিরোধ আছে, কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
দুই প্রেসিডেন্টের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের কয়েক মিনিট পরই হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে আঙ্কারার এস-৪০০ ক্রয় নিয়ে ফের উদ্বেগ জানানো হয়। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, আঙ্কারা রাশিয়ার কাছ থেকে যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাপনা কিনছে তা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লকহিড মার্টিনের বানানো এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গিবিমানের জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করছে তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়ার সাথে তুরস্কের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ নিয়েও পেন্টাগন উদ্বিগ্ন। এস-৪০০ কেনা থেকে বিরত রাখতে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে নিষেধাজ্ঞার জালে বেঁধে ফেলারও হুমকি দিয়েছে। তুরস্ক এ হুমকিকে পাত্তা না দিয়েই জুলাই থেকে এস-৪০০-এর প্রথম চালান গ্রহণ শুরু করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কে এফ-৩৫-এর বিক্রি বাতিল করেছে এবং যুদ্ধবিমানটি বানানোর একটি বহুজাতিক প্রকল্প থেকে আঙ্কারাকে সরিয়ে দিয়েছে।
এ দিকে এরদোগানের সাথে ট্রাম্পের বৈঠককালে হোয়াইট হাউজের সামনে কিছু বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সিরিয়ায় তুরস্কের সেনা অভিযান বন্ধ ও কুর্দি যোদ্ধাদের রক্ষার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানায়।


আরো সংবাদ