১০ ডিসেম্বর ২০১৯

গাজায় ইসরাইল-ইসলামিক জিহাদ সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

-

গাজায় দুই দিন ধরে ইসরাইলি হামলার পর উভয়পক্ষ অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরাইল সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেয়ার পর গাজা থেকে রকেট ছোড়া বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামিক জিহাদ। মিসর, জাতিসঙ্ঘ ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) সূত্র এ খবর জানিয়েছে।
তবে ইসরাইল অস্ত্রবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দিনের ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির কারণে দুই দিন ধরে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার পর বৃহস্পতিবার গাজায় আপাত শান্তি নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ০৩৩০ জিএমটি থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে বলে ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র মুসাব আল ইবরাহিম জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা ও গোলা বর্ষণ শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলি বিমান হামলায় পিআইজে কমান্ডার নিহত হলে এই সহিংসতা শুরু হয়। পিআইজের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবু আল আত্তা (৪২) ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে দখলদার বাহিনী। অন্য দিকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় তাদের ছেলেকেও। এই আগ্রাসনের জবাবে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোরে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। এরপরই গাজায় বিমান হামলা ও গোলা বর্ষণ শুরু করে ইসরাইল। দুই দিনের ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। পিআইজের এক মুখপাত্র বলেছেন, গাজার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা থেকে অস্ত্রবিরতি শুরু হয়েছে। মিসরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, মিসরের মধ্যস্থতায় এই অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
জাতিসঙ্ঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তিবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, জাতিসঙ্ঘ ও মিসর উভয়পক্ষই গাজাকে ঘিরে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে অগ্রসরতা ঠেকাতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এক টুইট বার্তায় তিনি উভয়পক্ষকে প্রাণহানি এড়াতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ পর্বের গাজা-ইসরাইল লড়াই থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এ লড়াই থেকে হামাসকে দূরে রাখতে ইসরাইলও সচেষ্ট ছিল। গত দশকে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের সাথে জড়িত মিসরীয় এক কর্মকর্তারা সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে উভয়পক্ষের সম্মত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গাজা থেকে ছোড়া রকেটের আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে জারি করা জরুরি বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র আল ইবরাহিম জানিয়েছেন, গাজায় টার্গেট কিলিং বন্ধ করা ও গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের সাপ্তাহিক প্রতিবাদে সেনাবাহিনীর গুলি বন্ধ করার দাবি ছিল ইসলামিক জিহাদের, ইসরাইল যা মেনে নিয়েছে।
কিন্তু ইসরাইল জানিয়েছে, প্রথমে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা রকেট ছোড়া বন্ধ করলে তারাও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বন্ধ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। আর্মি রেডিওকে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘নীরবতার জবাব নীরবতা দিয়েই দেয়া হবে’। তাদের নীতির ব্যাপক কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। ইসরাইলের টার্গেট কিলিং নীতি ‘শিথিল করা হয়নি’ এবং গাজা সীমান্তের জন্য ‘ইসরালের প্রতিরক্ষাবাহিনীগুলোর ওপেন ফায়ার নীতিও’ পরিবর্তিত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার যে সময়ের কথা ইসলামিক জিহাদ উল্লেখ করেছে তারপর থেকে গাজা ভূখণ্ডটি প্রায় নিঃশব্দ রয়েছে। শুধু নিঃসঙ্গ একটি রকেটকে ইসরাইলের দিকে উড়ে যেতে দেখেছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক; ওই সময় গাজা সীমান্তের নিকটবর্তী ইসরাইলের কয়েকটি শহরে সাইরেন বেজে ওঠে। বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার আগে গাজায় ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ফিলিস্তিনি একটি পরিবারের ছয় সদস্য নিহত ও ১২ জন আহত হন। হতাহতদের অধিকাংশই বেসামরিক বলে জানিয়েছেন গাজার মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা।
ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। ২০০৫ সালে সেখান থেকে বসতি উচ্ছেদ করে সেনা মোতায়েন করে তারা। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে অবৈধভাবে নির্মিত বসতিতে লাখ লাখ ইসরাইলি বসবাস করে। তারপরও দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসরাইল। নিরাপত্তার অজুহাতে স্থল সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিসর এবং ওই ছিটমহলকে নৌ অবরোধ করে রেখেছে তেল আবিব।

 


আরো সংবাদ