১০ ডিসেম্বর ২০১৯

হংকংয়ে রাতভর সহিংসতার পর ক্যাম্পাস ঘিরে রেখেছে পুলিশ

বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর হুমকি পুলিশের
-

হংকংয়ের পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে তাজা গুলি চালানোর হুমকি দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার সকালে আন্দোলনকারীরা অবরুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ওই সময় কয়েক শ’ গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী পেট্রলবোমা ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে পুলিশের অভিযানে জন্য অপেক্ষা করছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এভাবেই পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে।
রাতে সংঘর্ষের সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এর আগে গত রোববার বিকেলে আন্দোলনকারীদের নিক্ষিপ্ত তীরে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। রোববার রাতের সংঘর্ষে ৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে নগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। থপুলিশের পানিকামান থেকে ছিটানো পানি গায়ে পড়ার পর কয়েকজন আন্দোলনকারীর শরীর পুড়ে যেতে দেখেছেন রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক। রাসায়নিক ব্যবহারজনিত কারণে এমনটি ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
কাঁদানে গ্যাস ও পানিকামান এড়াতে আন্দোলনকারীরা গ্যাস মুখোশ পড়ে ও সামনে ছাতা ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পুলিশ বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে বলে সরকারি গণমাধ্যম আরটিএইচকে জানিয়েছে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা হংকংয়ের অস্থিরতায় প্রথমবারের মতো তাজা গুলি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। ‘দাঙ্গাকারীরা’ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখলে এমনটি করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের অন্যান্য এলাকার মধ্যে ব্যাণিজ্যিক এলাকা নাথান রোডে ভোররাতে কালো পোশাক পরা আন্দোলনকারীদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, এ সময় তাদের অনেকেই পেট্রলবোমা বহন করছিল। পরে সকালে দাঙ্গা পুলিশ এলাকাটিতে গিয়ে হাজির হয়। শহরটির অন্যতম ব্যস্ত ওই পর্যটন ও ব্যাণিজ্যিক এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ রাস্তা থেকে ছাতা, ইট ও রাস্তায় ফেলে রাখা বিভিন্ন আসবাবপত্র সরানো শুরু করে। কওলুন উপদ্বীপের বহু সড়ক ও কিছু ট্রেন সার্ভিস এ দিনও বন্ধ আছে। সব স্কুলও বন্ধ আছে।
এ দিকে বিক্ষোভকারীরা পেট্রলবোমা, তীর-ধনুক এবং ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় তাদের দমনে প্রয়োজনে তাজা গুলি চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের মুখপাত্র লুই লাউ বলেছেন, ‘দাঙ্গাকারীরা পেট্রলবোমা এবং তীর-ধনুক ব্যবহার করলে তাজা গুলি ছোড়ার প্রয়োজন হতে পারে। তারা যদি এ জাতীয় বিপজ্জনক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে আমাদের গুলি চালানো এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া উপায় নেই।’ এই দাঙ্গার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল হতে পারে বলে বিক্ষোবকারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী মুখোশ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন তাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার এক রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলছে, হংকংয়ে মুখোশ পরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞাটি মূল আইনটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণতন্ত্রপন্থী কর্মী জোশুয়া ওয়াং এই রায়কে ‘হংকং প্রতিবাদকারীদের বিরল আইনি জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


আরো সংবাদ