০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সিরিয়ার তেল নয়, জনগণ নিয়ে চিন্তা তুরস্কের : এরদোগান

ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ওম্বুডসম্যান সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান : ইন্টারনেট -

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, তেল নয়, সিরিয়ার জনগণের প্রতি যতœশীল তুরস্ক। নিপীড়িত শরণার্থীদের সিরিয়ায় ফিরে যেতে কখনই বাধ্য করা হবে না। অভিবাসীদের ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।
ইস্তাম্বুলের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ওম্বুডসম্যান সম্মেলনে গতকাল সোমবার বক্তব্য দিচ্ছিলেন এরদোগান। এ সময় তিনি তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরীয়দের আশ্বাস দেন যে তুরস্ক তাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করবে না। শরণার্থীদের ব্যাপারে সিএইচপির অবস্থানের বিপরীতে এই আশ্বাস দেন তিনি।
এরদোগান বলেন, বোমা হামলার কারণে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া নিপীড়িত লোকদের কখনই ফিরে যেতে বাধ্য করবে না তুরস্ক। তুরস্কের লড়াই তেলের জন্য নয়, সিরীয় জনগণের প্রতি আমরা যতœশীল। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দেশ সিরিয়ায় মজুদকৃত তেল ভাগ করে নেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তুরস্ককে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আঙ্কারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কারণ সে ভিন দেশের সম্পদের প্রতি আগ্রহী নয়।
এরদোগান আবারো বলেন, তুরস্ক ৪০ লাখ সিরিয়ান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে তিন বিলিয়ন ইউরো সহায়তা পেয়েছে। নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সব হুমকি ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তুরস্ক। এরদোগান বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে কেবল আমাদের থেকে দূরে রাখি না বরং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর উৎসগুলোকেই ধ্বংস করে দেই। দায়েশ, আল-কায়দা ও পিকেকে/ওয়াইপিজিসহ দেশের ও বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধেই আমরা লড়াই করে যাচ্ছি।’
জনগণ ও দেশের মধ্যকার বন্ধনের গুরুত্বকেও জোরালোভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষম, তারা দেশীয় ও বিদেশী হস্তক্ষেপের বেশি ঝুঁকতে থাকেন। জনগণের সাথে গভীর বন্ধনে আঁকড়ে থাকা একটি দেশের পতন ঘটানো কখনোই সম্ভব নয়। যে দেশগুলো তাদের জনগণের দাবির দিকে কান দেয়নি তারাই ভয়াবহ ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।
আমাদের অঞ্চলেও অনেক দেশ ও সরকার রয়েছে যারা এই ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল করছে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, এে ক্ষেত্রে তুরস্ক একটি ব্যতিক্রমী দেশ। কারণ এখানে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন রয়েছে। এই বন্ধনই বহু বছরের অর্থনৈতিক হুমকি, সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ এবং অন্যান্য হুমকির মুখেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেশটিকে সক্ষম করেছে।


আরো সংবাদ