১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বলিভিয়ায় নিহতদের কফিন নিয়ে মোরালেস সমর্থকদের বিক্ষোভ

-

সামরিক বাহিনী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত বিক্ষোভকারীদের কফিন নিয়ে বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের হাজার হাজার সমর্থক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্যালেস-সংলগ্ন একটি চত্বরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্দেশ্যে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা এ দিন প্রেসিডেন্ট প্যালেস-সংলগ্ন চত্বরে একটি সাঁজোয়া যানের ওপর নিহত একজনের কফিন ও অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জিনাইনা আনিয়েজের প্রতিকৃতিও স্থাপন করেছিল। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি টানা ১৪ বছর শাসন করেছিলেন বামপন্থী মোরালেস। আদিবাসী এ প্রেসিডেন্ট চলতি মাসের প্রথম দিকে ক্ষমতাচ্যুত হলে বিরোধীদলীয় সিনেটর আনিয়েজ নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করেন।
এর পর থেকে মোরালেস সমর্থকদের বিক্ষোভে কার্যত দেশটি অচল হয়ে পড়েছে। রাজধানী লা পাজ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি শহরে আন্দোলনকারীদের থামাতে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মেক্সিকোতে আশ্রয় নেয়া মোরালেস বলছেন, সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে বর্ণবাদী ডানপন্থীরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। যেকোনো মূলে দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার টুইটারে লেখা এক পোস্টে সাবেক এ প্রেসিডেন্ট অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন। অক্টোবরের এ নির্বাচনের ফল নিয়েই প্রথম মাঠে নামে বিরোধীরা। মোরালেসকে ১০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে প্রশাসন কারচুপি করেছিল বলেও অভিযোগ ছিল তাদের। পরে তাদের বিক্ষোভে বলিভিয়া পুলিশের সদস্যরা যোগ দেয়; সেনাবাহিনী মোরালেসকে সরে দাঁড়াতে বললে বামপন্থী এ প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেন। একে একে সরে দাঁড়ান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনেট প্রেসিডেন্টও।
মোরালেসের পদত্যাগপত্র বলিভিয়ার পার্লামেন্টে গৃহীত হওয়ার আগেই আনিয়েজ নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করেন, যার সাংবিধানিক কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে আনিয়েজ এখনো বহাল তবিয়তে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকলেও টানা বিক্ষোভ তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।


আরো সংবাদ