১২ ডিসেম্বর ২০১৯
ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন

লেবার পার্টির ইশতেহার ঘোষণা আগামী সপ্তাহে জনসনের

ইশতেহার ঘোষণা শেষে সমর্থকদের সাথে জেরেমি করবিন : এএফপি -

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে লেবার পার্টির ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বামধারার রাজনীতিক জেরেমি করবিন। আর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে (ব্রিটিশ টেলিকম) রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে জনগণের দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন করবিন। বৃহস্পতিবার বার্মিংহাম শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। লেবার দলের ইশতেহারকে যুগান্তকারী ও উচ্চাকাক্সক্ষী আখ্যা দিয়ে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচিত করবিন বলেন, সম্পদের ওপর ধনী ও বড় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে তা সাধারণ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের চরিত্র আমূল বদলে দিতে চান তিনি। তার দলের এবার নির্বাচনী স্লোগান ‘ইটস টাইম ফর রিয়েল চেঞ্জ’।
ধনিক শ্রেণী, বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও তেল কোম্পানিগুলোর ওপর কর বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এই লেবার নেতা। আর সেই করের অর্থজাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৮ পাউন্ড ২১ পেন্স থেকে বাড়িয়ে ১০ পাউন্ডে (প্রায় এক হাজার ১০০ টাকা) উন্নীত করবেন। বিনা মূল্যে ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সেবা দেবেন। কোম্পানির নীতি নির্ধারণে কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন। পরিচালকদের বেতন-বোনাস মিলিয়ে আয়ের সীমা সাধারণ কর্মীর ২০ গুণ বা বছরে তিন লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড নির্ধারণ করে দেবেন।
এ ছাড়া ইশতেহারে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে কার্বন নিঃসরণমুক্ত করবে লেবার পার্টি। সে লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয়ের জন্য জনগণকে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ঘোষণা আছে। আর এ কাজের জন্য ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের সবুজায়ন তহবিল গঠন করা হবে। ধনীদের ওপর বাড়তি করারোপ এবং ঋণের অর্থে আগামী এক দশকে প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবে লেবার পার্টি।
আর নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) বিষয়ে পুনরায় গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন করবিন। দেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী তিন সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারে ধনী প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকরা আপনাদের বলবে, এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অসম্ভব। আপনি যদি প্রকৃত পরিবর্তন না চান, তবে ধনীরা কেন চাইবে? বর্তমান নিয়ম তো তাদের জন্য ভালোই কাজ করছে।’ বামপন্থী এই নেতা বলেন, ‘তারা (ধনিক শ্রেণী) জানে আমরা যা বলছি তা বাস্তবায়ন করে ছাড়ব। এ জন্য তারা আমাদের বিজয় ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছে।’
আগামী সপ্তাহে বরিস জনসনের ইশতেহার
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অর্থমন্ত্রী রিশি সানাক। আইটিভিকে তিনি একথা বলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এদিকে কনজারভেটিভ পার্টি করবিনের ইশতেহারের সমালোচনা করে বলেছে, ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে এই নির্বাচন। ব্রেক্সিট নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে ব্যর্থ করবিন জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরানোর চেষ্টা করছেন।

 


আরো সংবাদ