১২ ডিসেম্বর ২০১৯

মার্কিন সিনেটে ফের আটকে গেল আর্মেনিয়া বিল

-

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির এক সিনেটর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আর্মেনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে স্বীকৃতি দেয়ার চেষ্টাকে আটকে দিয়েছেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে প্রশাসনের প্রচেষ্টাকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে বৈঠকের পর ওই সিনেটরের সহকর্মী লিন্ডসে গ্রাহাম এক সপ্তাহ আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার সিনেটর ডেভিড পেরডু দ্বিপক্ষীয় রেজলুশন আটকে দিলেন।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ও তুর্কি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে পেরডু বলেন, তার এই পদক্ষেপ তুরস্কের সাথে কূটনীতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে, বিলটির বিষয়বস্তু নিয়ে নয়। তিনি বলেন, এই বিলটি তুরস্কের সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের প্রতিশ্রতি ক্ষুণœ করবে।
এই বিলটির বিষয়ে সর্বসম্মত মত চেয়ে প্রবীণ ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেনডেজ এবং রিপাবলিকান টেড ক্রুজ বিলটি উপস্থাপন করেন। বিলে লেখা হয়েছে, আর্মেনীয় গণহত্যাকে সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে স্মরণ করাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি। মার্কিন সিনেটের বিধি অনুযায়ী, সিনেটের কমিটি ও বিতর্ক এড়িয়ে একটি রেজলুশন পাস করতে সর্বসম্মত মত দরকার, তবে এ ক্ষেত্রে কোনো সিনেটর আপত্তি জানিয়ে প্রস্তাবটি আটকে দিতে পারেন।
ওসমানি সালতানাতের শেষ দিকে ১৯১৫ সালে বিপুল সংখ্যক আর্মেনীয়র মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে প্রথম একটি বিল পাস হয়। ওই প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, একটি সঙ্কটজনক সময়ে এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে। আর্মেনীয়রা ওই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ১৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও তুরস্কের অনুমান মৃতের সংখ্যা এর এক পঞ্চমাংশ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ওই ঘটনায় ‘১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল’ বলে ধারণা গণহত্যা নিয়ে গবেষণাকারীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসেরও (আইএজিএস)। পশ্চিমা অনেক গবেষক দীর্ঘ দিন ধরে এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে এলেও অনেক ইতিহাসবিদেরই এতে আপত্তি আছে।

 


আরো সংবাদ