২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উত্তরাধিকারের রাজনীতি

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া - ছবি : সংগ্রহ

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত গৌরচন্দ্রিকা প্রয়োজন। ব্রিটিশ ভারতে ১৭৯৩ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন করে এই ভূভারতে ব্রিটিশ রাজত্বকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে উত্তরাধিকার সূত্রের জমিদারি প্রথা চালু করে গিয়েছিলেন। এর সুফল ব্রিটিশরা পেয়েছিল প্রায় ২০০ বছর। এর প্রভাব আজো উপমহাদেশের তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিদ্যমান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা এ দেশের শাসনভার স্থানীয়দের হাতে ছেড়ে চলে গেছেন বটে; তবে তাদের অনেক কিছুই এখনো ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অনুসরণ করা হচ্ছে। পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থা এদের অন্যতম। তাদের ক্রিকেট খেলাও এর একটি। কোনো এক বিখ্যাত ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘আমরা সাম্রাজ্য হারিয়েছি, তাতে আফসোস নেই। তোমরা যে আমাদের ক্রিকেট খেলাকে গ্রহণ করেছ, তাতেই আমরা খুশি।’ ব্রিটিশদের প্রাক্তন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোতে ‘ক্রিকেট সাম্রাজ্য’ এখনো চলছে। যা হোক, হালে আমাদের দেশে ব্রিটিশদের প্রবর্তিত উত্তরাধিকারসূত্রে জমিদারি প্রথার মতো উত্তরাধিকারের রাজনীতি চলছে। এর ফলাফল গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও আলোচনার বিষয়।

১৯৭১ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান ভাগ হলো। পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্রের রূপ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা শেষ পর্যন্ত ১ দফায় রূপান্তরিত হয়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। নয় মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে মুজিব পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রায় এক কোটি শরণার্থীসহ ভারতে আশ্রয় নিলেন। এদিকে, জাতি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল। সেই মুহূর্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বাঙালি মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে প্রথমে নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে এবং পরে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। জিয়ার এ ঘোষণা সে মুহূর্তে অনেকের মনেই স্বস্তির ভাব এনে দিয়েছিল। ‘রেডিওতে আমি মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনেছি। আমি ওই সময় জিয়াকে চিনতাম না। তবে এই ঘোষণায় আমি স্বস্তিবোধ করলাম এবং আশ্বস্ত হলাম যে, অন্তত মেজর পর্যায়ের একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এই যুদ্ধে জড়িত হয়েছেন’ (এ কে খন্দকার, ১৯৭১ ভেতরে বাইরে, ২০১৪, পৃষ্ঠা. ৬০)। সেই থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে দু’টি নাম, একটি শেখ মুজিবুর রহমান ও অপরটি জিয়াউর রহমান, যুক্ত হলো। এ কথা সত্য, শেখ মুজিবুর রহমান যত দিন জীবিত ছিলেন তত দিন জিয়াউর রহমান এ দাবি নিয়ে কোনো দিন এগিয়ে আসেননি বরং মুজিবের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন ও সামরিক শাসন জারি করে নভেম্বর মাসের শুরু পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ইতোমধ্যে সামরিক শাসন চলাকালে রক্তাক্ত সামরিক উত্থান ও প্রতিউত্থানের জেরে জিয়াউর রহমান লাইমলাইটে চলে আসেন। এরপর তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সলে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগসহ সবদল বিলুপ্ত করে দেশে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। দেশে কিছু দিন সামরিক শাসন চলার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন এবং বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ফলে অন্য দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগও পুনরুজীবিত হয়। তবে সে সময় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ৩০ মে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে নিহত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিএনপির শাসন আমল ৩০ মে ১৯৮১ থেকে চালিয়ে যান। এরপর ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সামরিক শাসন জারি করেন এবং ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। ক্ষমতায় থেকে তিনি জাতীয় পার্টি গঠন করেন। তিনি ০৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে পড়েন। এই হলো ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সারসংক্ষেপ।

এর মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সূত্রপাত হয়। শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার কালপর্বে তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় ১৫ আগস্ট প্রাণে বেঁচে যান। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা দেশে না ফিরে ভারতে ছয় বছর নির্বাসিত থাকার পর ১৭ মে, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বিশৃঙ্খল আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এবং ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে রাজনীতি বিষয়ে তার কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা ছিল। দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক থাকা সত্ত্বেও দলের ঐক্যের খাতিরে জাতীয় রাজনীতিতে এই নবীন নেত্রীকে দলের শীর্ষ পদে স্থান দেয়া হয়। পক্ষান্তরে, ১৯৮১ সালে স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠলেও জাতীয় রাজনীতিতে একরকম অনভিজ্ঞ, জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলে অভিজ্ঞ নেতা থাকা সত্ত্বেও দলের ঐক্যের খাতিরে ১৯৮৪ সালে বিএনপির শীর্ষতম পদে আসীন হন। এভাবে এদেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতির সূচনা।

এরশাদ প্রদত্ত ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের আশায় শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন। এ নির্বাচনে তার দল পরাজিত হলে তিনি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। পক্ষান্তরে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এরশাদ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ দাবিতে অনড় থেকে তিনি দেশের সব দলের সমর্থন ও সহযোগিতায় এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ০৬ ডিসেম্বর এরশাদ নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারীদের ক্ষমতায় আসার পালা শুরু হলো। এ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দু’দলের মধ্যেই দেশের ক্ষমতার পালাবদল হয়ে আসছে।

মূল আলোচনায় আসা যাক। এ পর্বে বিচার্য বিষয় হলো, উত্তরাধিকারের রাজনীতি কি দেশের জন্য মঙ্গলজনক? আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’টিই বড় এবং প্রধান দল। এ দু’দলের প্রধানদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ। দু’দলের যেটিই ক্ষমতায় থাকুক বা ক্ষমতার বাইরে থাকুক তাদের শীর্ষ নেতার নামেই দল চলে এবং তারা চলেন একজন পিতৃ পরিচয়ে এবং অপরজন স্বামীর পরিচয়ে। এ দুজনের নীতি ও আদর্শই এ দুই নেত্রীর ও তাদের দলের নীতি-আদর্শ। দু’জনই এতদিনে রাজনীতিতে পাকাপোক্ত হয়ে উঠলেও তাদের আগের পরিচয় ঘোচেনি। এ কারণে কেউ কেউ বলেন, ‘দেশ চালাচ্ছে কবরের দুই লাশ’- প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। এ দু’দলেরই নেতাকর্মীরা ঘন ঘন নিজ নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মাজার জিয়ারত করে থাকেন। হতাশার বিষয় হলো, দু’দলেই পারিবারিক ঘরানার বাইরে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না।

একটি ঘটনার কথা মনে পড়ল। ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যসেবী হুমায়ুন কবীর যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন, তখন তার এক শুভানুধ্যায়ী মন্তব্য করেছিলেন, ‘হুমায়ুন কবীর সাহিত্যের নান্দনিক জগৎ ছেড়ে রাজনীতির নিষ্ঠুর জগতে প্রবেশ করলেন।’ তার রাজনৈতিক জীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে শুনিনি; তবে বাংলাদেশের প্রধান দুই নেত্রীর বেলা তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদ সরকারের আমলে বেগম জিয়া পুনঃপুনঃ গ্রেফতার হন এবং পরে দু’জনই প্রথমে ১৩ জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের আমলে জেল খেটেছেন। বর্তমানেও বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া জেলে আছেন। বেগম জিয়া তার বৈধব্য জীবনের নিরিবিলি পারিবারিক পরিবেশ ছেড়ে কোলাহলপূর্ণ রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে এখন বৃদ্ধ বয়সে গুরুতর দৈহিক অসুস্থতা নিয়ে এবং রাজনীতির নিষ্ঠুর খেলায় হেরে কারাভোগ করছেন। এটা তার বিরাট ক্ষতি এবং ভোগান্তি। যে দলের তিনি সর্বেসর্বা তার কি হাল এখন সেটাই বিচার্য বিষয়।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দলীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশে এতটাই ক্ষমতাধর যে, বড় দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতর নেতৃত্ব চয়নের ক্ষেত্রে দু’দলের প্রধানদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ফলে দেশের ক্ষমতা লাভেচ্ছু ও ক্ষমতায় আসীন-দু’দলের কোনোটাতেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই এবং এ দু’দলের অপরাপর নেতাকর্মী ও অনুসারীরা নিজ নিজ দলের নেত্রীর স্তব-স্তুতিতে সদাব্যস্ত। অথচ জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র অনুপস্থিত। কোনো দলই পরিচ্ছন্ন গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় আসতে রাজি বলে মনে হয় না। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও জোর জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখলের কালচার এবং পারস্পরিক হিংসা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণের অপসংস্কৃতি। দলে যেহেতু গণতন্ত্র নেই এবং বিকল্প নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ নেই, তাই শীর্ষ নেতা বিপাকে পড়লে সংশ্লিষ্ট দলটির অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে। বেগম জিয়া জেলে গেলে তার বড় ছেলে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব পেলেন। তারেক এখন বিএনপির লন্ডন প্রবাসী নেতা। সেখানে থেকে তিনি দলকে পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয় নেতাদের দাবি। এ অবস্থায় দলটি প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম ও আরো কতক অপ্রধান দলকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গঠন করেছে। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বিএনপি ৬টি আসন লাভ করে। তবে এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের ফলে তা দেশে বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেনি।

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে গণফোরাম গুরুত্বপূর্ণ দল নয় এবং কামাল হোসেনও কোনো জননেতা নন। উপরন্তু নির্বাচনকালে তিনি আদর্শ হিসেবে একাধিকবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৃহত্তম শরিক দল, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামের পরিবর্তে তার রাজনৈতিক মেন্টর ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের খেতাবি নাম ‘বঙ্গবন্ধু’কে স্মরণ ও উচ্চারণ করেছেন। এ খেতাবি নাম আওয়ামী লীগ হরহামেশাই উচ্চারণ করে থাকে। এসব কারণে একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা নির্বাচনের পর বিএনপির ভরাডুরি দেখে মন্তব্য করেছে ‘Kamal torpedoed BNP’। যদি বিএনপিতে গণতন্ত্র থাকত এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে দলের নেতৃত্ব বাছাই করার সুযোগ থাকে, তবে একটি বড় দলকে জেলে বা প্রবাসে অবস্থানরত কারো নির্দেশ মেনে চলতে হয় না। তদুপরি দলের কোনো মুক্ত নেতার নেতৃত্বে একাই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পারে। এ পরিস্থিতিতে পড়লে আওয়ামী লীগেরও একই দশা হতো। আদর্শ গণতান্ত্রিক দল এবং দেশে অবস্থা ভিন্ন হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট ইস্যুতে কনজারভেটিভ দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বিফল হয়ে পদত্যাগ করলেও দল হিসেবে কনজারভেটিভদের কোনো ক্ষতি হয়নি; এ দল থেকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। দেশে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলেই স্বজনপ্রীতি ও নির্বাচনে কারচুপি হয়। তখন সেই প্রবাদই সত্যরূপ নেয়, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এবং ‘পাওয়ার করাপ্টস; অ্যাব্সলিউট্ পাওয়ার করাপ্টস অ্যাব্সলিউট্লি’। বাংলাদেশের কপালে সুদিন কবে আসবে, আল্লাহ্ মালুম।

লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা কাডার


আরো সংবাদ

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিজানুরের জামিন চেম্বারে স্থগিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামির জামিন বিদ্যালয় মাঠে বাণিজ্যিক স্থাপনা নয় : শিক্ষা উপমন্ত্রী খুলনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা আদালতে গৃহীত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা করতে চায় চীনা প্রতিষ্ঠান ভূমিসেবার হটলাইন উদ্বোধন ১০ অক্টোবর শুহাদায়ে কারবালা স্মরণে নূরানী রহমতি মাহফিল সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উদযাপন টিভি উপস্থাপক ফারুকী হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৫ নভেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকুন : এমরান সালেহ প্রিন্স ছাত্রলীগের দাবির মুখে ইবির প্রক্টর অপসারণ দায়িত্বে ড. পরেশ

সকল