২৫ আগস্ট ২০১৯

মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংকস

-

এনার্জি ড্রিংকসের প্রতি তরুণরা বেশি আসক্ত। অনেকের এ আসক্তিটা আবার নেশায় পরিণত হয়েছে। এগুলো পান করার মাধ্যমে মাদকাসক্তির প্রতি ধাবিত হচ্ছে অনেক তরুণ। এনার্জি ড্রিংকসে প্রতি ২৫০ মিলিলিটার ক্যানে আছে ৮০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, কোনো ড্রিংকসে তা আছে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত। এনার্জি ড্রিংকস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর; যা চিকিৎসকেরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। তারা এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এসব এনার্জি ড্রিংকস পানে খাদ্যনালীর ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন নষ্ট হয়ে যায়। নাড়ির সঙ্কোচন ও সম্প্রসারণ ক্ষমতা কমে খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নেয়ার ক্ষমতা কমে যায়।

এ ছাড়া হজম ক্ষমতা কমে, বদহজম, খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, ক্ষুধামন্দাসহ নানা অসুখ-বিসুখ দেখা দিতে পারে। হতে পারে স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যও। অতিরিক্ত চিনির কারণে অনেকের শরীরের ওজন বেড়ে স্থূলস্বাস্থ্যে পরিণত হয়। বাড়ে শরীরের চর্বি বা কোলেস্টেরলের পরিমাণও। শরীরের ক্যালসিয়াম মলিউকুল গঠন প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড় দুর্বল ও নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া জনন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। এসব ড্রিংকস ফরমালিনের চেয়ে কোনো অংশে কম ক্ষতিকর নয়।

কোল্ড ড্রিংকস ছিপি বা মুখ খোলামাত্রই ফস করে কিছু গ্যাস বেরিয়ে যায়। বের হওয়া গ্যাসে থাকে কার্বনডাই অক্সাইড, খাবার সোডা বা সোডিয়াম বাই কার্বনেট। এ ছাড়া থাকে সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিডসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য। পানীয়কে মজাদার করতে স্যাকারিন, সরবিটল, ম্যাটিটল ছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতিকর। জানা যায়, ১৪০টি দেশে ২০০ ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকস তৈরি হয়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ১৩-১৮ বছর বয়সী কিশোরদের ৩৪ শতাংশ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস পান করে। (সাইমন এম মেশার জে : অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস অ্যান্ড ইয়ুথ : এ ডেনজারাস মিক্স : ক্যালিফোর্নিয়া : মেন ইনস্টিউট ২০০৭)।

গবেষকেরা বলেছেন, এসব এনার্জি ড্রিংকসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল রয়েছে। এগুলো মাদকতা ও ফিলিংস তৈরিতে কাজ করে। বেশি মাত্রার ক্যাফেইন শারীরিক নানা ক্ষতির কারণ হয়। যেসব শিশু ও তরুণ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস পান করে, তারা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর ক্রমেই বেশি মাত্রায় তা স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ক্যাফেইন একটি আসক্তি তৈরি করার মতো উপাদান। এটি কেন্দ্রীয় ও প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এটি পরিমিত বা মাঝারি মাত্রার হলে, পারফরম্যান্স, ধৈর্য ও মনোযোগ বাড়াতে পারলে তা বেশি মাত্রায় গ্রহণে মারাত্মক ক্ষতি হয়। তা ঘটাতে পারে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, পেটের অসুখ ও হার্টের ছন্দে অনিয়ম। (নাওরাট পি : ফুড এডিট কনটামা, ২০০৩)।

এনার্জি কোল্ড ড্রিংকসগুলো বাজারে জনপ্রিয় পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হচ্ছে কোম্পানির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার। বিজ্ঞাপনের পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করার মূল টার্গেটই হচ্ছে ক্রেতাদের আসক্ত করা। বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করার মধ্য দিয়ে তারা পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের মন আকৃষ্ট করতে সক্ষমও হয়েছে। এ কারণে পানীয় শিল্প দ্রুত প্রসারমাণ আইটেমে রূপ নিয়েছে। এনার্জি ড্রিংকসের বোতলের মুখ খুললেই সবটুকু গ্যাস বের হতে পারে না। তাই ড্রিংকসগুলো পান করার সাথে সাথে দেহে প্রবেশ করে ক্ষতিকর কার্বনডাই অক্সাইড। অনেক সময় মাত্রারিক্ত সোডিয়াম বাইকার্বনেট রক্তে মিলে ক্ষারত্বের মাত্রা বাড়িয়ে অ্যালকালোসিসের সৃষ্টি করে। অ্যালকালোসিস কিডনি সমস্যা, অস্থিরতা, শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধাসহ আরো অনেক রোগের জন্ম দেয়।

না জানার কারণে ভ্রান্ত ধারণবশত ও লেবু বা কমলার স্বাদ মনে করে যেসব কোল্ড ড্রিংকস পান করি আমরা, সেসব কোমল পানীয় আমাদের দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করে দেয়। কোকাকোলা, সেভেনআপ, পেপসি, স্প্রাইট, ফান্টা, মেরিন্ডা, আরসি, টাইগারসহ আরো অন্যান্য পানীয়ের সোডিয়াম বাইকার্বনেট রক্তচাপ বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য এগুলো মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এ ছাড়া যারা ব্যথানাশক, জীবাণুনাশক, রিউমেটিক আর্থ্রাইটিস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া প্রভৃৃতি রোগে আক্রান্ত তাদের কোল্ড ড্রিংকস পান না করাই মঙ্গল। কারণ এসব পানীয় পণ্য রোগের ওষুধের কার্যক্ষমতা মারাত্মভাবে হ্রাস করে।

লেখক : সাংবাদিক, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার


আরো সংবাদ