২৫ আগস্ট ২০১৯

দুই রাষ্ট্র ফর্মুলাই মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠার সমাধান

-

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক (ফিলিস্তিন-ইসরাইল) সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জর্দান। বুধবার রাজধানী আম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সাথে এক বৈঠকে এ বিষয়ে কথা বলেন জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান তুলে ধরেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

জর্দানের রয়েল কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জামাতার সাথে আলাপকালে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্ঘাত নিরসনে নানা উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। বৈঠকে জর্দানের বাদশাহ জোর দিয়ে বলেছেন, অবশ্যই পূর্ব জেরুসালেম হবে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

চার আরব দেশ ও ইসরাইল সফরের অংশ হিসেবে জর্দানে এ সফরে আসেন ট্রাম্পের ইহুদি ধর্মাবলম্বী জামাতা জ্যারেড কুশনার। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত। এ সফরে তার সৌদি আরব, মিসর, মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও যাওয়ার কথা রয়েছে।

জ্যারেড কুশনার এমন সময় জর্দান সফরে গেলেন, যখন দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি বলয় থেকে বেরিয়ে তুর্কি-কাতার বলয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশটি। সম্প্রতি আম্মান সফর করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হাইপ্রোফাইল এ সফরে তুর্কি প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ। জর্দানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন তারা। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের উপায় নিয়ে কথা বলেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। এর কিছু দিন আগেই তুরস্কের মিত্র কাতারের সাথে ফের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে জর্দান।

২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারবিরোধী অবরোধের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অবরোধে জর্দান অংশ না নিলেও রিয়াদের প্রভাব কাটাতে পারেনি দেশটি। ফলে কাতার থেকে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয় জর্দান। এর দুই বছরের মাথায় গত ২৩ জুলাই দোহায় নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সৌদি-আমিরাতি বলয়ের বাইরে তুরস্ক ও কাতারের মৈত্রী ইতোমধ্যেই রিয়াদের অস্বস্তি, এমনকি রীতিমতো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধ প্রায় একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন। কিছু দিন আগেই সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তুরস্কের মিত্র সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আলবশির। ওই অভ্যুত্থানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূমিকা পালন করে। এখন জর্দান যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদির বদলে তুরস্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেটা নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্য এমনকি পুরো মুসলিম বিশ্বেই রিয়াদের প্রভাব কিছুটা হলেও ক্ষুণœ করবে। কেননা ইতোমধ্যে পুরো আরব বিশ্বেই তুর্কি প্রভাব বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনকে পরিত্যাগের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। এ বিষয়টি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত জর্দানকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনার বিরোধিতাও দেশটিকে সম্প্রতি ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়া সৌদি বলয়ের বাইরে ঠেলে দিতে পারে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বরাবরই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। কাতারও বরাবরই ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। পবিত্র আল আকসা মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর জন্যও ফিলিস্তিন ইস্যুটি তাৎপর্যপূর্ণ। বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর আশঙ্কা, ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পবিত্র এ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে ফিলিস্তিনিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে না। ফলে ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি নামে কথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার সাথে একমত হতে পারছে না দেশটি।


আরো সংবাদ