২৩ অক্টোবর ২০১৯

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুবিধার উন্নয়ন

-

২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী পরিষদ (একনেক) সভায় গ্রামে যেতে অনিচ্ছুক ডাক্তারদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ ও বিরক্তির সংবাদ পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় বড় শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে সমবেদনা জানাচ্ছি।

নবীন চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় উৎসাহিত না হওয়ার মূল কারণগুলো খোলা মনে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কোনো সরকার নিবেদিত চিকিৎসকদের সম্মানদানের জন্য উদ্যোগ নেয়নি। অতীতের সরকারগুলো কোনো কোনো চিকিৎসককে মন্ত্রী বানিয়েছেন, এমনকি রাষ্ট্রপতিও নিয়োগ করেছেন। আবার অপমান করে পদচ্যুতও করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় চিকিৎসকেরা : ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ফিল্ড হাসপাতাল ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’-এর নাম পরিবর্তনের জন্য সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের কিছু স্বাস্থ্য বিভাগীয় আমলাসৃষ্ট সমস্যা সমাধানকল্পে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লেখককে ডেকে বলেন, বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে অধ্যাপক ফজলে রাব্বী বা চক্ষুবিশেষজ্ঞ আলীম চৌধুরী হাসপাতাল করো। উত্তরে বলেছিলাম, ‘নিবেদিত চিকিৎসকদের স্মরণীয়, বরণীয় করে রাখার দায়িত্ব সরকারের; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়।’ পরে তার পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের পরিবর্তিত নাম হয় ‘গণস্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’। এই প্রকল্পের প্রসারের জন্য সাভারে বঙ্গবন্ধু প্রায় ৩০ একর জমি সরকারিভাবে ভূমি দখল করিয়ে দিয়েছিলেন।

ফরিদপুরে জন্মগ্রহণকারী তিনজন খ্যাতনামা চিকিৎসকের নাম বঙ্গবন্ধু প্রায় সময় উল্লেখ করতেন। তারা হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চাশ দশকের প্রিন্সিপাল ও হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট কর্নেল এম এম হক, ক্লিনিক্যাল সার্জারির অধ্যাপক কাজী সামসুল আলম, এফআরসিএস, যিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর পাশের বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করে চিকিৎসার জন্য বিপ্লবী ইলামিত্রকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। অপরজন হচ্ছেন ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী। তিনি মহাত্মা গান্ধীর প্রিয় পাত্রী ছিলেন। জোহরা কাজীর পরিবার মধ্যপ্রদেশে সেবাগ্রামে গান্ধী পরিবারের সংলগ্ন বাড়িতে দীর্ঘ সময় বসবাস করেছেন এবং গান্ধী তনয় রামদাস গান্ধীর সাথে জোহরা কাজীর নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিবারের একান্ত প্রিয়জন ছিলেন। এ ছাড়া শেখ মুজিব কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ঢাকার নবাবপুরের ডা: এম এ করিম, পূর্ব পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ডা: টি (তৈয়ব) আলী, ধানমন্ডির ডা: মেহেরুন্নেসা এবং পাকিস্তান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও কমনওয়েলথ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এস আই এম জি মান্নানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। স্নায়ুগ্রন্থী (Pacinian Corpuscles)-এর নির্ণায়ক হিসেবে উপমহাদেশের একমাত্র চিকিৎসাবিজ্ঞানী অ্যানাটমির অধ্যাপক এস আই এম জি মান্নানের অবদানের উল্লেখ আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন্থ গ্রেজ টেক্সট বুক অব অ্যানাটমিতে। কলেরা-ডায়রিয়া নির্ণয়ে ব্যবহৃত ‘মনসুর মিডিয়া’-এর উদ্ভাবক অধ্যাপক কে এ মনসুরকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু অতর্কিতে মহাখালীর পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরিতে উপস্থিত হয়ে।

আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের প্রথম সন্তান জয়কে ১৯৭১ সালে প্রসব করিয়েছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনির অধ্যাপক এম এ ওয়াদুদ। গর্ভকালীন পুরো সময় সেবা দিয়েছিলেন তার স্ত্রী ডা: সুফিয়া খাতুন। পঞ্চাশের দশকে বঙ্গবন্ধুর পরিবার সিদ্ধেশ্বরী স্কুল মাঠের পাশে পুকুরপাড়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর আখতারুজ্জামানের টিনের বাড়ির এক অংশে নামমাত্র ভাড়ায় বসবাস করতেন। তখন বঙ্গবন্ধু পরিবারকে চিকিৎসাসেবা দিতেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা পারিবারিক চিকিৎসক ডা: মন্মথ নাথ নন্দী, (ডা: এম এন নন্দী) এমবি (কলকাতা)। তিনি ৫০-৬০ এর দশকে সপরিবারে বসবাস করতেন ওয়ারীর র‌্যাংকিন স্ট্রিটে। ডা: নন্দীর জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। ১৯৪০-এর দশকে সার্জারিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের পথে রওনা হয়ে মুম্বাই পৌঁছার পর কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ডা: নন্দী ইউরোপ যাত্রা মাঝপথে স্থগিত করে রিভার স্টিম নেভিগেশনের স্টিমশিপে গোয়ালন্দে পৌঁছলেন এবং সেখান থেকে বজরা নৌকায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে উপস্থিত হলেন। কী অপূর্ব আত্মত্যাগ। অবিভক্ত বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় তিনি লঙ্গরখানা খোলেন ও বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা দেন। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ঢাকা শহরের প্রায় সব উচ্চ ও মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র পরিবার তার চিকিৎসা পেয়েছেন নামমাত্র ও বিনা ফিতে।

নিবেদিত চিকিৎসকদের সম্মান দিন : মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য ১০৫৭ কোটি টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিতব্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ কী কারণে তার নামে উৎসর্গিত হলো, অনুগ্রহ করে জানাবেন কি? তার স্বাস্থ্য খাতে কী অবদান আছে? কর্নেল মালেকের সন্তান দীর্ঘ দিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এটাই কি মূল কারণ? মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের নাম হওয়া বাঞ্ছনীয় ‘ডা: এম এন নন্দী মেডিক্যাল কলেজ’। তার মতো নিবেদিত পারিবারিক চিকিৎসক বিরল। তার আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠায় তরুণ চিকিৎসকেরা অনুপ্রাণিত হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের নাম ‘ডা: জোহরা কাজী মেডিক্যাল কলেজ’ এবং পাবনা মেডিক্যাল কলেজের নাম ‘অধ্যাপক ফজলে রাব্বী মেডিক্যাল কলেজ’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করিয়েছিলেন, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম আর খান ও কার্ডিওলজির অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার এম এ মালিকের এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে অধ্যাপক কে এস আলম ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা: এম এ মোবিনের ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হবেন।

উল্লেখ্য, কার্ডিয়াক সার্জারির আকর্ষণীয় পদ ছেড়ে ডা: মোবিন মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই বিলেত থেকে এসে বাংলাদেশ-ত্রিপুরা সীমান্তে বিশ্রামগঞ্জে ৪৮০ শয্যার বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন। শবব্যবচ্ছেদ মিলনায়তনে অধ্যাপক এস আই এম জি মান্নানের আবক্ষ ভাস্কর্য ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।

মেডিক্যাল কারিকুলামের যুগোপযোগী সংস্কার : পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে মাত্র ১৫ দিন সরেজমিন কমিউনিটি মেডিসিন অধ্যয়নের জন্য বরাদ্দ আছে, যা ছাত্ররা সাধারণত কক্সবাজার ও কুয়াকাটা ভ্রমণ করে ব্যয় করে ফেলে। তাদের সাথে ন্যূনতম সংখ্যক শিক্ষকও থাকেন না। বর্তমান কারিকুলামে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পেশাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা (Occupational Health), ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন ব্যয় এবং স্বাস্থ্য খাতের অর্থনীতি (Economics of Health Care) পড়ানো হয় না বিধায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সহজেই চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে পারেন। দ্রুত পুঁজিবাদের বিকাশ এবং গ্রামের সাথে শহরের বিচ্ছিন্নতার কারণে নবীন চিকিৎসকদের গ্রাম সম্পর্কে ভীতির কারণে পারিবারিক চিকিৎসক (Family Physician/ General Practitioner) হওয়ার পরিবর্তে ওষুধ কোম্পানি ও ক্লিনিক মালিক প্রভাবিত ‘বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে তারা অধিক আগ্রহী। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কর্তব্য পালন না করেও ধনীর সন্তানেরা এমবিবিএস পাসের পরপরই ঢাকায় বড় বড় হাসপাতাল ও বিএসএমএমইউতে অবৈতনিক রেসিডেন্সি করে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে এফসিপিএস/এমডি/এমএস/এমফিল প্রভৃতি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।

সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তির চিত্রটিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। কোনো প্রকারে ১০ শতাংশ গ্রামের ছেলেমেয়ে মেডিক্যাল কলেজের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশই শহরের ধনী উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সন্তান এবং ৫০ শতাংশের অধিক নারী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের পিতৃপুরুষের গ্রামে বাড়ি আছে, তবে তারা ৫-৭ বছরেও একবার পরিবারের জন্মভূমি পরিদর্শন করে না। তাদের মনে ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামের ভীতি’ বাসা বেঁধেছে। ওদের অভিভাবকেরা গ্রামকে নিরাপদ মনে করেন না।

মেডিক্যাল শিক্ষাকে স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপযোগী করার নিমিত্তে ১০ বছর ধরে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজে প্রত্যেক অধ্যয়ন বছরে ছাত্রছাত্রীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এক মাস অবস্থান করে স্থানীয় নদ-নদী, পশু-পাখি, ফল ও সবজি এবং গ্রামের প্রচলিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, গ্রাম্য চিকিৎসক, দাই ও সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের সাথে পরিচিত হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী শোনে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধি জিয়ারত করে, সন্ধান নেয়ার চেষ্টা করে কারা এলাকার রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিল। প্রত্যেক দলে চার-পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকাও এক মাস সার্বক্ষণিকভাবে গ্রামে অবস্থান করেন এবং সন্ধ্যায় ক্লাস নেন বিভিন্ন মেডিক্যাল বিষয়ে।

কয়েক দিন গণস্বাস্থ্য ক্লিনিকে সহকারী সেবিকা ও টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজও শেখে ছাত্ররা। প্রত্যেক অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারে দু’জন করে শিক্ষার্থী সারা দিন অবস্থান করে তাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্য তালিকা লিপিবদ্ধ করে থাকে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছরের ছাত্ররা প্রেসক্রিপশন অডিট এবং পরিবারের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। গ্রামে অবস্থানকালে অনেকে সাঁতার শিখে নেয়। গ্রামবাসীর সাথে এক বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের গ্রামে নিরাপত্তা সম্পর্কে ভীতি অনেকাংশে কেটে যায়, কিছুটা হলেও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশনীতে করা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক কলেজের এই শিক্ষাপদ্ধতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রান্তিক জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুবিধা সরেজমিন দেখার জন্য মেডিক্যাল, নার্সিং, ডেন্টাল ও ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান অতীব প্রয়োজন।

মেডিক্যাল শিক্ষাকার্যক্রমে কয়েকটি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান পরিভ্রমণ করে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় ও মান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন। যুগের প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ/ইউনানি, আকুপাংচার, ফিজিওথেরাপি ও নার্সিংসেবা সম্পর্কে প্রতি বিষয়ে দুই সপ্তাহ করে অধ্যয়ন উন্নতমানের চিকিৎসক সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহ ডেন্টিস্ট্রি, আলট্রাসনোগ্রাফি ও ল্যাবরেটরিতে রক্ত, পুঁজ, মেরুরজ্জুর রস (ঈঝঋ) পায়খানা, প্রস্রাব প্রভৃতি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় এবং রক্ত পরিসঞ্চালন শেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মেডিক্যাল কলেজে যারা অধ্যয়ন করবে, তাদের ন্যূনতম বছর সামরিক/পুলিশ বা কারাগারের হাসপাতালে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা যৌক্তিক।

ভ্রান্ত নিয়োগপদ্ধতি ও সীমিত উন্নতির স্তর

বর্তমানে সব চিকিৎসকের নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে হয়ে থাকে। ২০ শতাংশ অনধিক ভাগ্যবানেরা তদবির ও আর্থিক বিনিয়োগ সাপেক্ষে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ট্রেনিং পোস্টের বিপরীতে নিয়োগ পান। বাকিরা ইউনিয়ন, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগ পান। নির্বাচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চিকিৎসকদের নিয়োগ ও তদারকিতে কোনো ভূমিকা নেই। ফলে ঢাকাস্থ বসদের খুশি করে নবীন-প্রবীণ চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতনভাতা সংগ্রহ করতে পারেন। তারা বেশির ভাগই প্রভাবশালী আমলা, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের সন্তানসন্ততি। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন অর্জিত হলে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত হয়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর আবেদনও অগ্রাহ্য করে তারা প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিসের পরিবর্তে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্রাকটিসে ব্যাপৃত হন।

স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকদের উন্নতির স্তর অত্যন্ত সীমিত। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে একজন তরুণ চিকিৎসক সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অধিকাংশের কর্মজীবনের অবসান ঘটে সহকারী সার্জন হিসেবেই। ১০ শতাংশ অনধিক মেডিক্যাল অফিসার জেলা সিভিল সার্জন পদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন জীবনের সায়াহ্নে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের শীর্ষপদগুলো বিসিএস (প্রশাসন) কর্মকর্তাদের দখলে। এটা ক্ষোভের বড় কারণ।

উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং চিকিৎসকদের উজ্জীবিত করার নিমিত্তে বিসিএসের (মেডিক্যাল) পরিবর্তে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো বাংলাদেশ মেডিক্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করে পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব সমন্বয়ে প্রত্যেক জেলায় স্বশাসিত ‘জাতীয় স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ সৃষ্টি করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফলে চিকিৎসকেরা পছন্দমতো কর্মস্থল বেছে নিতে পারবেন। বাসস্থান, ছেলেমেয়ের শিক্ষা, কাজের অনুকূল পরিবেশ, উচ্চতর গ্রেডে কর্মসংস্থান প্রভৃতির বিবেচনায় চিকিৎসকেরা একই স্থানে কিংবা কয়েক বছর পরপর কর্মস্থল বদলাতে পারবেন।

জেলা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব চিকিৎসকের চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকদের উন্নতির ন্যূনতম তিনটি স্তর এবং উপজেলা পর্যায়ে চারটি স্তর সৃষ্টি করা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার জেলা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করবে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালকের পদমর্যাদা হবে ডেপুটি সিভিল সার্জনের এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালকের পদমর্যাদা হবে অতিরিক্ত সিভিল সার্জনের সমতুল্য। ডেপুটি সিভিল সার্জন পদমর্যাদায় ডেপুটি সেক্রেটারি এবং অতিরিক্ত সিভিল সার্জন জয়েন্ট সেক্রেটারির সমতুল্য হবেন এবং সে মোতাবেক তাদের সব সুযোগ সুবিধা দেয়াই বাঞ্ছনীয়।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ প্রসঙ্গে

বর্তমানে নবীন চিকিৎসকদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিবন্ধন পাওয়ার জন্য এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ, জাতি এবং চিকিৎসকদের স্বার্থে ইন্টার্নশিপ বাড়িয়ে দুই বছর করার লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। সদ্য পাস করা নবীন চিকিৎসকেরা প্রথম বছর নিজ নিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় প্রশিক্ষণ নেবেন। দ্বিতীয় বছর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে স্থানীয় জনসাধারণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে জ্ঞানার্জন করবেন। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইন্টার্নদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে হবে, উপজেলায় নয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো ভুল কাজ হবে। দেশে প্রায় ৫০০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। প্রতিটিতে ১০ জনের বেশি চিকিৎসক আছেন। তাদের অনেকেই অনুপস্থিত থাকেন। প্রতি উপজেলায় ২০ জন ইন্টার্নশিপে পাঠালে নিয়মিত চিকিৎকেরা আরো বেশি অনুপস্থিত থাকবেন, সেবা বা প্রশিক্ষণ কোনোটাই হবে না।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপের ফলে নবীন চিকিৎসকেরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। বর্ধিত ইন্টার্নশিপ প্রকৃতপক্ষে এক বছর মেয়াদি চাকরিতুল্য। তারা এক বছরের পূর্ণ বেতন পাবেন। দুই বছর ইন্টার্নশিপ শেষ হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে তাদের পূর্ণ নিবন্ধন হবে। এই সময়ে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে অবস্থান করে তরুণ চিকিৎসকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করে উচ্চতর ডিগ্রির প্রাথমিক ধাপে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। নবীন চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান করে জনসাধারণকে সেবা দেবেন। মেডিক্যাল, ডেন্টাল, নার্সিং ও ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন ও উপজেলায় গেলে তাদের ক্লাস নেবেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক পরিচর্যা কর্মীদের সুপারভাইজ করবেন এবং রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন।

বর্ধিত ইন্টার্র্নশিপ কার্যকর হলে এ বছরই অতিরিক্ত ১০ হাজার নিয়মিত মেডিক্যাল অফিসারের পদে নিয়োগ এবং বিভিন্ন কাজের জন্য প্রণোদনা ভাতা (Incentive) পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অদূর ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক বিশেষজ্ঞ পদ সৃষ্টির সমধিক সম্ভাবনা আছে। সর্বত্র চিকিৎসকেরা হবেন নন্দিত।

এ সুযোগ তরুণ চিকিৎসকদের হেলায় হারানো উচিত হবে না। ১৯৯০ সালে নবীন চিকিৎসকেরা প্রস্তাবিত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত প্রায় সব দেশে চিকিৎসকে অনেকে দূরদৃষ্টির অভাবে শুরুতে স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনকে ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে থাকেন।

জনগণ হবেন উপকৃত

একটি ইউনিয়নে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। আগামী ২০ বছরে ইউনিয়নের লোকসংখ্যা সত্তর হাজার অতিক্রম করে যাবে। বর্ধিত ইন্টার্নশিপের ফলে ইউনিয়নের জনসাধারণ নিয়মিত দু’জন মেডিক্যাল অফিসারের অতিরিক্ত দু’জন নিবেদিত ও আগ্রহী নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকের পরামর্শ ও সার্বক্ষণিক সেবা পাবেন। বয়োবৃদ্ধদের সেবা ও স্কুলস্বাস্থ্য কার্যক্রম চালু হবে, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মীদের স্বাস্থ্যসুবিধা ও পরিবেশ উন্নত হবে, অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার বিনামূল্যে পরামর্শ ও ওষুধ পাবে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা নির্ধারিত পরামর্শ ফি এবং ওষুধের মূল্য দেবেন। অদূর ভবিষ্যতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছোট হাসপাতাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাথে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের করণীয় বর্ধিত ইন্টার্নশিপ একটি জনহিতকর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাহসের সাথে প্রজ্ঞাপনটিকে আইনে পরিণত করুন এবং নি¤েœ বর্ণিত সংস্কারগুলো পাঁচ মাসের মধ্যে কার্যকর করার ব্যবস্থা নিন।

বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। বেশির ভাগই দোতলা বিল্ডিং, প্রায় এক একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত, ৮-১২টি রুম আছে, দু-তিনটি পারিবারিক বাসস্থান আছে। বেশির ভাগ সেন্টারে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে, তবে দীর্ঘ দিন ব্যবহৃত না হওয়ায় অনেকগুলোর অবস্থা সঙ্গিন। বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা রয়েছে।

১. জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি মেডিক্যাল অফিসার ও ইন্টার্নদের ২০০০ বর্গফুট বাসস্থান নির্মাণের নিমিত্তে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিন।

২. অনধিক ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নি¤œলিখিত চিকিৎসা সামগ্রী ও ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দিলে নবীন ইন্টার্নরা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে উৎসাহিত হবেন। ক. চিকিৎসা সামগ্রী হচ্ছে- রক্তচাপ মাপার বক্স, চক্ষু, কান-নাক-গলা পরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেট, নবজাতক ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট নিরসনের জন্য অ্যাম্বুব্যাগ, নেবুলাইজার, ফ্লোমিটার-সমেত অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকশন মেসিন, পালস অক্সিমিটার, গ্লুকোমিটার, গর্ভ শিশুর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ফিটাল মনিটর, হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, কার্ডিয়াক স্টেথেস্কোপ, কার্ডিয়াক মনিটর, ডিফিবরিলেটর, সিরিঞ্জ পাম্প, মাইনর সার্জারির যন্ত্রপাতি ও ছোট অ্যানেসথেসিয়া মেশিন এবং বয়োবৃদ্ধ ও দুর্ঘটনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ফিজিওথেরাপির কয়েকটি যন্ত্রপাতি।

খ. ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরিসঞ্চালন সুবিধাসহ কয়েকটি যন্ত্রপাতি দেয়া হলে- ছোট রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোস্কোপ, কলোরোমিটার, সেন্টিফিউজ, হেমোসাইটোমিটার, হিমোগ্লোবিনোমিটার, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার ও পর্যাপ্ত গ্লাসওয়ার দেয়া হলে ৫০ রকমের রোগ নির্ণয় পরীক্ষা করা যাবে।

৩. আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রত্যেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একটি ২০-২৫ শয্যার স্বয়ংসম্পূর্ণ ছোট হাসপাতাল নির্মাণ এবং অন্যূন পাঁচজন চিকিৎসক ও কয়েকজন ফার্মাসিস্ট, সিনিয়র নার্স, ল্যাব প্রধান, ফিজিওথেরাপিস্ট প্রভৃতি ব্যক্তির জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ বর্গফুটের বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজন হবে এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অতিরিক্ত দুই কোটি টাকা বরাদ্দের।

৪. ছাত্রদের অধ্যাপনার জন্য ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার চিকিৎসকদের যোগ্যতানুসারে সহপ্রভাষক, প্রভাষক, সিনিয়র প্রভাষক ও সহ-অধ্যাপকের পদবি ও ভাতা দিন। বিনা ভাড়ায় বাসস্থান, গাড়ি কেনার জন্য বিনা সুদে ঋণ, তদারকি ও শিক্ষকতার জন্য প্রণোদনা, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য অতিরিক্ত ভাতা, প্রান্তিক জেলা ভাতা (Periphral Allowance) প্রভৃতি দেয়া হলে চিকিৎসকেরা মফস্বলে থাকতে উৎসাহী হবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা হতে পারে যদি আইন করা হয় যে, দুই বছর মফস্বলে কাজ না করলে কেউ পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

বর্ধিত ইন্টার্নশিপ নবীন চিকিৎসকদের জন্য উন্নতির সোপান সৃষ্টি করবে। জনগণ পাবে ন্যূনতম খরচে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা। সাধারণ জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ সহজেই সম্ভব। প্রমাণ হবে, দেশ কার? সাধারণ জনগণের, না লুটেরা ধনীদের?

জনপ্রতি মাত্র ৫০০ টাকা বিনিয়োগে প্রতি ইউনিয়নে সৃষ্টি হবে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি। এই বিনিয়োগ হবে জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার প্রমাণ।

লেখক : ট্রাস্টি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র জনহিতকর ট্রাস্ট


আরো সংবাদ