২২ নভেম্বর ২০১৯

কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ

২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক তিনি ফকিরাপুল টিঅ্যান্ডটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন, সাতজন শিক্ষক স্কুল চালাচ্ছেন মাত্র ১৪-১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। ২৪ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় নজর পড়তেই শিরোনাম ‘ছাত্রদলকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসছাড়া করল ছাত্রলীগ’।

২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘ভিসিদের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্কট’, একই তারিখে নয়া দিগন্তে, ‘প্রায় দেড় ডজন (১৭টি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগবাণিজ্য, অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি-পদায়ন, অর্থ আত্মসাৎ, উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহার।’ পত্রিকার পাতাজুড়ে ক্যাসিনোর পরই গুরু-শিষ্যের খবর।

সারা দেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭। মাদরাসার সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মাত্র আট কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ৬৮টি মাদরাসা। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা (৪৪+১০১) ১৪৫।

এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয় পাস করে জিটি (গুরু ট্রেনিং) নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করতেন অনেকে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে স্নাতক বা সমমান। পাসের হার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় ৮২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

গত দেড় দশকে তরতরিয়ে বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাসের হার। যে হারে বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও শিক্ষার্থীদের পাসের হার; সে হারে বাড়ছে না শিক্ষার মান। অর্থাৎ ইঞ্জিন চলছে, কিন্তু চাকা ঘুরছে না, এসি চলছে কিন্তু ঠাণ্ডা বাতাস বেরোচ্ছে না।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ নিজেও স্বীকার করেছেন, দেশে উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ ও প্রযুক্তি মিলে শিক্ষার যে অনুকূল আবহ সৃষ্টি হওয়ার কথা; আমরা তা সৃষ্টি করতে পারছি না। বহির্বিশ্বের সাথে তাল না রেখে নিজেদের তৈরি করা খোলসের মধ্যে জিপিএ ৫সহ ৮২ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়ে আত্মতৃপ্তি বোধ করছি। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরে আমাদের অর্জিত সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি নেই, বিদেশের মাটিতে পা রাখার আগে টের পাওয়া যায় না। কারণ, আমাদের ১৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান শ্রীলঙ্কা ও নেপালের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের কয়েকটি সংস্থা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ ও প্রযুক্তি ইত্যাদি জরিপ করে তুলনামূলক র‌্যাংকিং নির্ণয় করে আসছে। সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস ২০১৪-এ শীর্ষ ১০০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও ছিল না আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিষয়ে নয়া দিগন্তে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ শিরোনামে গত ৯ আগস্ট ২০১৪ আমার লেখা প্রবন্ধে এর অনেক কারণের মধ্যে চর দখলের মতো হল দখল এবং টেন্ডারবাজির উল্লেখ ছিল। এ বছরও এশিয়ার ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম নেই শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তালিকায় আছে ভারতের ৭৯, পাকিস্তানের ৮, শ্রীলঙ্কার ২ ও নেপালের ১টি বিশ্ববিদ্যালয়।

ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ নানা কারণে মাঝে মধ্যেই বিদেশ যেতে হয়। সে সুবাদে বিদেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের বিদ্যাদাতাদের সাথেও পরিচয় ঘটেছে। শিক্ষকতা পেশা দিয়ে আমার কর্মজীবন শুরু, সেহেতু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিষয়ে সব সময় নিজে অনুসন্ধিৎসু। ২০০৩ সালে প্রথমবার লন্ডন গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আয়োজিত বড়দিনের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। আমার সাথে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান মুনতাসীর মামুন। নিবিড়ভাবে লক্ষ করে দেখতাম, সেখানকার শিক্ষকরা ‘দোলনা থেকে কবর’ পর্যন্ত জীবনের অত্যাবশ্যক বিষয়গুলো প্রথম থেকেই শিশুদের মাথায় ঢোকাতে শুরু করেন। বিষয়গুলো শিশুহৃদয়ে এমনভাবে প্রবিষ্ট করা হয়, যা সারা জীবনেও এদিক-ওদিক হওয়ার জো থাকে না।

নাতি-নাতনীর শৈশবের ঘটনা, ‘এতক্ষণে আমরা স্ট্রাটফোর্ড এলাকায় পৌঁছে গেছি। হাইওয়ে পার হলেই শপিং সেন্টার। নির্ধারিত ক্রসিং সিগনাল দিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। এ জন্য রোডক্রসিং বরাবর দণ্ডায়মান পথচারীদের সাথে আমরাও সিগনালের অপেক্ষা করছি। আশপাশে গাড়ি না থাকায় ক্রসিং-সিগনালের আগেই দ্রুতগতিতে রাস্তা পার হয়ে যাই। রাস্তা পার হওয়ার জন্য পা বাড়ানোর সাথে সাথে হাসান ও সুজন বারণ করতে শুরু করে। তাদের বারণ সত্ত্বেও আমি নিরাপদে রাস্তা পার হয়ে গেলাম। প্রায় পনেরো-বিশ সেকেন্ড পর রেড সিগনাল জ্বলে উঠতেই অন্য পথচারীদের সাথে সুজনরা রাস্তা পার হয়ে আসে। এসেই সুজন বলে, মামা আপনি আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করলেন? রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না, তাই পার হয়ে গেছি। এতে ক্ষতিটা কী হয়েছে? যখন রাস্তা পার হই, তখন আশপাশেও গাড়ি ছিল না।

এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই তো রাস্তা পার হলাম। তোমরাই বরং বোকার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছ। যুক্তিটা আপনার মনগড়া। খেয়াল করে দেখুন, লন্ডন আসার পর রাস্তায় চলাচলের সময় কোনো গাড়ির হুইসেল শুনেছেন কি না। ব্যাপারটা খুলে বলত। রাস্তা খালি পেয়ে নিজ দায়িত্বে পার হয়ে গেছি, এতে মহাভারত অশুদ্ধ হলো কোথায়? নানা ভাইকে আবার আইনের স্কুলে ভর্তি করে দাও, মামা। নানু ভাইকে পুলিশে দাও। দেখলেন মামা, ওরা (আমার নাতি/নাতনী) রাস্তা পার হওয়া সম্পর্কে কত সচেতন। ওদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে আসেন। বাইরে এসে প্রথমেই শিক্ষা দেন, কখন কিভাবে রাস্তা পার হতে হয়।...’এ দেশে গাড়ির হুইসেল শুনলেই আশপাশের পথচারীদের চোখ-কান সজাগ হয়ে ওঠে কী কারণে হুইসেল হলো দেখে। পথচারীর ভুলে গাড়ির হুইসেল বেজে উঠলে সবাই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে পথচারীর দিকে এমনভাবে তাকান যে, এই পথচারী হয়তো আইন জানেন না নয়তো আইন মানেন না। দুটোই লজ্জার ব্যাপার। এখানে আইন না জানার চেয়ে আইন না মানা বেশি লজ্জার ও ক্ষতির কারণ।’ (বিলেতের পথে পথে পৃষ্ঠা ৪২-৪৩)।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভ্রমণসহ মাঝে মধ্যে শপিংয়ে নিয়ে যান। কয়েক পাউন্ড করে হাতে দিয়ে ঢুকিয়ে দেন শপিংমলে। কে কত কম টাকায় অধিক প্রয়োজনীয় জিনিস খরিদ করতে পারে, এই নিয়ে প্রতিযোগিতা। প্রতিটি দ্রব্যের গায়ে মূল্যসহ মেয়াদকালের উল্লেখ থাকে। সীমিত সাধ্যের দ্বারা অসীম প্রয়োজনের মোকাবেলা বড়ই কঠিন প্রতিযোগিতা। মনুষ্য জগতের এই কঠিন অঙ্কের ফয়সালা জীবনের শুরুতেই করা হয়।

২০১৩ সালে লন্ডন গিয়ে ছোট নাতনীর পরীক্ষার খাতা দেখছিলাম। শিক্ষকের মন্তব্যের ঘরে Good লেখায় চোখ পড়তেই হেনা, আব্বা এইটায় লেখাপড়ায় পচা। মন্তব্যে লেখা রয়েছে Good আর তুমি বলছো পচা, ব্যাপার কী? এ দেশে Good অর্থ পচা। ভালোর মান নির্ণয় করা হয় Better, Best এবং Excellent শব্দ দিয়ে।

-(বিস্মিত হয়ে) কারণ?

শিক্ষকরা ‘খারাপ’ মন্তব্য লিখতে গেলেই মামলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ক্ষতিপূরণের মামলা। শিক্ষকের দায়িত্ব হলো, শিক্ষার্থীকে ভালো করে দেয়া। শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা জাগিয়ে তোলাই শিক্ষকের দায়িত্ব। মানুষের মতো মানুষ করার শর্তেই ভর্তিপত্রে শিক্ষক স্বাক্ষর করে থাকেন। মানুষের মতো মানুষ করতে ব্যর্থ হওয়া শর্ত ভঙ্গেরই শামিল।

একবার বড়দিনের ভোরে হাঁটতে বের হয়েছি। ফাঁকা রাস্তা। দেখি, এড়ড়ফ নাতনীটা অনেক পেছনে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে কী যেন বিনবক্সে লুকাচ্ছিল। তা দেখে, - পিচ্চিটা ওখানে কী করছে? - পকেট থেকে চকলেটের কাগজ ফেলছে। - বিনবক্সে কেন?

স্কুল থেকেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। শিখিয়ে দেয়া হয়েছে ময়লা রাখার জায়গা (বিনবক্স) ছাড়া কোথাও ময়লা রাখতে নেই। ঘরে ফেললে ঘর নোংরা, বাড়িতে ফেললে বাড়ি নোংরা এবং রাস্তাঘাটের আনাচে-কানাচে ফেললে জায়গা নোংরা হয়। শিশুরা নিজের ঘরের মতোই ভালোবাসে নিজের দেশকে। তাই চকলেট খেয়ে যথাস্থানে ফেলার জন্য পকেটেই রেখে দেয় মোড়কের ফেলনা কাগজটা। শুধু তাই নয়, শিশুদের স্কুল থেকেই শেখানো হয়, নিজে নিজে খাবার খাওয়া, নিজের ব্যবহৃত কাপড় চোপড় ধৌত করে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখা ইত্যাদি।
বিদেশের শিক্ষকদের সাথে এ দেশের শিক্ষকদের তুলনা করতেই মনে পড়ে প্রবীর দত্তগুপ্তের কথা।

২০১৩ ডিসেম্বর চেডউইলহিথ ছিলাম। লন্ডনের একটি বাঙালি বিরল এলাকা। সেখানে চার দেয়ালের ভেতর দিন গোনার পালা শেষ হচ্ছিল না। ভাব জমতে জমতে বুক ভারী হতে শুরু করেছিল। বুকের ভার লাঘব করার জন্য বাঙালির খোঁজ করছিলাম। ঠিক এ সময়, আব্বা, এখানে একজন বাঙালি প্রফেসর থাকেন। দেখা হলেই আপনার বিষয় জানতে চান। আমাকে চেনেন কী করে? একদিন আপনার লেখা একটা বই দিয়েছিলাম। এখনই দেখা করতে চাই।

বাসায় ঢুকতেই দেখি কিচেনে কর্মরত এক সুদর্শন লোক। মানুষটি হাতের গোড়া পর্যন্ত গ্লাভস পরে কাজ করছেন। পাকের ঘরের ময়লা জমে স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ হয়ে গেছে। তা পরিষ্কার করার কাজ। আমাদের দেখেই উঠে দাঁড়ান। গ্লাভস পরিহিত ভেজা হাত থেকে টপ টপ পড়ছে ময়লা পানি। এ অবস্থায়-

এ দেশেও প্রফেশনাল ক্লিনার পাওয়া যায়। ফোন করলেই চলে আসবে। পনেরো-বিশ পাউন্ড ব্যয় হতো। তবে ক্লিনারের কাজটা আমার মনের মতো নাও হতে পারত। পাউন্ডশপ থেকে গ্লাভসটা নিয়েছি। গ্লাভসটাও রয়ে গেল, আমার কাজটাও হয়ে গেল। কাজটা মনের মতো করতে পারলাম।

তিনি একবার ডাইনিং টেবিলে আমাদের সাথে লাঞ্চ করলেন। জানতেও চাইলেন না আমরা কী লাঞ্চ করছি। লাঞ্চ শেষ করে প্লেট হাতে নিয়ে সবার আগে কিচেনে চলে গেলেন। এঁটো প্লেটটি ওয়াশ করে ড্রায়ারের উষ্ণতায় শুকোতে শুকোতে-

আমাদের দুই বাংলায় কাজের লোক ছাড়া চলে না। এখানে কাজের লোক নেই, যার কাজ তাকেই করতে হয়। ‘নিজের কাজ নিজে করতে হয়’ প্রাথমিক স্তর থেকে এ ধারণাটি শিশুমনে এমনভাবে প্রবিষ্ট করা হয় যে, বাকি জনম আর এদিক-ওদিক হওয়ার নয়।

এর পর থেকে লোকটিকে যতই দেখছি, ততই বাড়ছে বিস্ময়। বিস্মিত লোকটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ভাষাগবেষক ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভাষাতত্ত্বের প্রিন্সিপাল পিডি (প্রবীর দত্ত) গুপ্ত। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০৯ সালে। ৩১টি কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ৯০ জন নোবেল বিজয়ী এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টি ইংল্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় এবং সারা বিশ্বের র‌্যাংকিং তালিকায় বরাবরই সেরা ১০-এর মধ্যে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোবেলের ছড়াছড়ি। কেন থাকবে না? এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা শুধু গ্রন্থই অধ্যয়ন করেন না, শিক্ষককেও অধ্যয়ন করেন। শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষার্থী পেয়ে থাকে চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।

দত্তগুপ্ত শুধু ভাষাতত্ত্বের গবেষক নন, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সামিনেশন সিন্ডিকেটের ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিংয়ের প্রধানও। ‘মানুষ যত ওপরে ওঠে- সঙ্কীর্ণতা ততো ভূতলে লুটে’ উক্তিটি প্রমাণ করে দেখালেন যে, বর্ণ বা ধর্মে নয়, মানুষ বড় হয় মনুষ্যত্বে। লন্ডনে বেশ কিছু দিন তার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ হয়েছিল। সময় পেলেই তিনি শিক্ষক আর আমি হয়ে উঠতাম শিক্ষার্থী। ঢাকা ভার্সিটির সর্বোচ্চ ডিগ্রির অহং তার নিরহঙ্কারের কাছে কর্পূরের মতো মিলিয়ে যায়। তিনি আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেন, মানুষ যত ওপরে ওঠে সঙ্কীর্ণতা তত ধুলায় লুটে।

একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের বহু আগে, শৈশবকাল থেকেই জীবন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুরুতেই সীমিত সাধ্যের দ্বারা অসীম প্রয়োজনের মোকাবেলার বিষয়টি ফয়সালা হয়নি বলেই ধর্ম, আইন, পরিবার, শিক্ষা ও সমাজের কোনো মূল্যবোধই অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারছে না। অসীম পিয়াসায় সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে নিজেও ডোবে দেশকেও ডোবায়। অর্থাৎ ‘কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস’।

লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক


আরো সংবাদ