১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

হুমকির মুখে বিশ্বের শান্তি

-

এবার ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে ৫ আগস্ট ভারত সরকার হঠাৎ প্রায় ৭০ বছরের সমঝোতামূলক ঐতিহ্যের বিপরীতে গিয়ে তাদের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল ঘোষণার মাধ্যমে কাশ্মির উপত্যকাকে সরাসরি কেন্দ্র শাসনের আওতাভুক্ত করে নেয়। একই সাথে তারা ভারতশাসিত কাশ্মিরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে সংবিধান সংশোধন করেছে। ফলে কাশ্মির রাজ্য বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে ফেলে এবং কাশ্মিরের ভূমি ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যেকোনো নাগরিকের কাছে ক্রয়-বিক্রয়ের পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ৫ আগস্টের বহু আগেই জম্মু ও কাশ্মিরে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। কাশ্মিরের ১৭০ জনের বেশি শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ৪০০০ কাশ্মিরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপত্যকাজুড়ে কারফিউ ছাড়াও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

মোদি সরকার অনেক ভেবে-চিন্তে দীর্ঘ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসেবেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যদিও তা হঠাৎ করেই নিয়েছে বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলে দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি তার গত পাঁচ বছরের শাসনে কোনো ক্ষেত্রেই তেমন উন্নয়ন ঘটাতে না পারলেও শুধু হিন্দুত্ববাদী চেতনায় ভর করে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়ে নিজের ক্যারিশমা জাহির করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি ক্রমেই মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভারতীয় সাংবাদিক শান্তনু দের ভাষায়, ‘ছয় বছরে রেকর্ড পতন। এক ধাক্কায় জিডিপি বৃদ্ধির হার একেবারে ৫ শতাংশে।’ ‘নিছক কোনো অর্থনৈতিক অধঃগতি নয়, ভারত ঢুকে পড়েছে ভয়াবহ মন্দায়।’ ‘এক ধাক্কায় ১০টি সরকারি ব্যাংক মিশিয়ে করা হচ্ছে ৪টি ব্যাংক।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নৈরাজ্য অর্থনীতিতে। নৈরাজ্য সমাজে। অর্থনীতির দুর্দিন আড়াল করতে একপ্রান্তে কাশ্মির সেনা-আধাসেনায় ঘেরাটোপে বন্দী। যেন এক টুকরো ফিলিস্তিন। অন্যপ্রান্তে আসাম-এনআরসি। ভারত সৃষ্টি করে চলেছে তার নিজের রোহিঙ্গা’ (দৈনিক প্রথম আলো, ২২/০৯/২০১৯)। আফগান তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান চুক্তি তৎপরতা সফল হলে আমেরিকা তার সৈন্য আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিলে পাকিস্তানি তালেবানরা হয়তোবা তাদের মনোযোগ আফগান থেকে কাশ্মিরে নিবিষ্ট করবে। কারণ, আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য অপসারণের পর নব্বইয়ের দশকে আফগান ফেরত জিহাদিদের সহায়তায় কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামীদের উত্থান ভারত ভুলতে পারছে না। কথিত জিহাদিদের ‘আইএসআই’ মদদ দিয়েছে বলে ভারত সরকার বরাবরই অভিযোগ করে আসছে। কাশ্মিরের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রায় ৫০ হাজার সামরিক-অসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সে সংগ্রাম স্তিমিত হয়ে গেলেও প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছিল। এ ছাড়া প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হামলায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছিল। এরই মাঝে নিয়ন্ত্রণরেখা রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে গুলিবিনিময়, ভারতের ‘সার্জিক্যাল অপারেশন’ বা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের ভয়াবহ আক্রমণের অতিরঞ্জিত কাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে মোদি সরকার মাঝে মধ্যেই বেশ বিব্রতকর অবস্থায় নিপতিত হচ্ছিল। কাশ্মিরকে পরিপূর্ণরূপে ভারতের অঙ্গীভূত করে ফেলায় ওই সব ‘ঝামেলা’ হয়তোবা বন্ধ হয়ে যাবে। স্মর্তব্য, ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষরা শান্তির খাতিরে সংবিধানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ সংযোজন করেছিলেন। অন্য দিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল ‘বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদী দর্শনের বাস্তবায়নে নতুন প্রক্রিয়া সহায়ক হতে পারে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ‘আরএসএস’-এর আজীবন সদস্য। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের পর ‘আরএসএস’-এ যোগদানের মাধ্যমে। পরে তিনি রাজনৈতিক শাখা বিজেপিতে যোগদান করেন এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। তার ক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পরেই গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়। এতে প্রায় ১০০০ মুসলমান নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এ ব্যাপারে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মোদির রহস্যজনক নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করা হয় (Shantic Marict D’souza, Encyclopedia Britanica|এর আগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নেতৃত্বও দিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারি দল ‘বিজেপি’সহ সঙ্ঘপরিবার।

বিশ্বের নিরাপত্তায় হুমকি : কাশ্মিরের বর্তমান সঙ্কট বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ভূত সঙ্কটগুলো নিম্নরূপ :

(ক) সর্বগ্রাসী যুদ্ধ : কাশ্মিরের মর্যাদা অবনমিত করার প্রক্রিয়ায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশ দু’টিকে যুদ্ধের প্রান্তে নিয়ে এসেছে। যেক