১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ছাত্র রাজনীতি হোক দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত

-

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। নির্মম ও নজিরবিহীন এ হত্যাকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ। ক্যাসিনোবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুবলীগের রাজা, বাদশাহ, সম্রাটদের গ্রেফতারের ঘটনায় যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, তখন ছাত্রলীগের এ হত্যাকাণ্ড আবারো নতুন করে পরিণত হয়েছে, ‘টক অব দ্য টাউনে’। ঘুরে ফিরে বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে ছাত্র রাজনীতিতে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির কুফলের কথা। সময় এসেছে এবার ছাত্র রাজনীতি দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত করার।

সম্প্রতি সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করেছেন দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ অনিয়মের কারণে। অভিযোগে প্রকাশ, দেশজুড়ে এখন সংবাদ শিরোনাম ছাত্র রাজনীতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই কোটি টাকা আদায় করেছে সম্প্রতি। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন পরিকল্পনার বাজেট থেকে ৬ শতাংশ হারে আরো ৮৭ কোটি টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেন উপাচার্যকে। সুনির্দিষ্ট এমন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগ নেতাদ্বয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, অপহরণ, খুনখারাবি, সন্ত্রাসের অভিযোগ নতুন নয়। ছাত্রলীগের এমন উচ্ছৃঙ্খল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনটির শীর্ষ পদ থেকে একসময় সরে দাঁড়ান।

শোভন এবং রব্বানী যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীদের দিয়ে নির্বাচিত হননি। শেখ হাসিনাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ দেন এক বছর আগে। গণভবনে অবাধ যাতায়াতের জন্য ছিল তাদের সার্বক্ষণিক প্রবেশপত্র। তাদের চলাফেরা ছিল দামি গাড়িতে। হলে সাধারণ ছাত্ররা গণরুমে থাকলেও তাদের রুম ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে তারা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে খবর আছে। ছাত্রলীগের দাপটে তটস্থ দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব কারণে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করলেও দুই সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা সক্রিয় ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘটনাটি ছাত্ররাজনীতির নৈতিক অবক্ষয়ের ক্ষুদ্র একটি দৃষ্টান্ত। এ অবক্ষয় সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান কারণ দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির লেজুরবৃত্তি। রাজনৈতিক দলগুলোর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়েই দানবীয় আকার ধারণ করেছে ছাত্ররাজনীতি।

এক শ্রেণীর ছাত্র পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর লাঠিয়াল বাহিনীতে। দলীয় রাজনীতির ছত্রছায়াই তারা সব ধরনের অপকর্ম করছে নির্বিঘেœ। কথায় কথায় সঙ্ঘাত, সংঘর্ষে রক্তাক্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। একের পর এক পড়ছে লাশ। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি বা ব্যবসায় করে অর্থ উপার্জন করার চেয়ে ক্ষমতার দাপট ও পেশিশক্তি বলে টেন্ডার, চাঁদাবাজি করে রাতারাতি বিত্তবান বনে যাচ্ছে তারা। অনেক ছাত্রনেতার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি ও ব্যবসাবাণিজ্য। ছাত্রনেতা হলে ক্যাম্পাসে এবং বাইরে টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানাবিধ অপকর্ম করা যায়। হলে বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে ভোগ করা যায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। সুতরাং লোভনীয় এই পেশাকে লুফে নিয়ে তারা কলুষিত করছে শিক্ষাঙ্গনকে। ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীরা দলীয় সরকারের আনুকূল্যে চাকরি লাভের সুযোগ পাওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবীরা। দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কর্মজীবনেও থেকে যায় দলপ্রীতি। এতে প্রশাসন হারায় নিরপেক্ষতা।

সরকার পরিবর্তনের সাথে তাই স্বভাবতই প্রশাসনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিস্তৃতি এবং সহিংসতার জন্য একশ্রেণীর শিক্ষকদের দায়ও কম নয়। দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে জড়িত এই শ্রেণীটি নিতান্ত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অভিপ্রায়ে নিজদলীয় ছাত্রদের প্রশ্রয় ও সুযোগ-সুবিধা উসকে দিয়ে বিভেদ-বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন। বিষিয়ে তুলছেন শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে। লাল, নীল ও গোলাপি বিভিন্ন রঙের সংগঠন করে দলীয় লেজুড়বৃত্তি করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষাদানের চেয়ে ছাত্রদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার এবং আন্দোলনের মন্ত্রণা দিয়ে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থির করে তুলতে তাদের কসরতের জুড়ি নেই। শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড এবং ছাত্র হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ। তাই স্বভাবতই প্রয়োজন শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ।

দলীয় সন্ত্রাসী রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশই শুধু অসুস্থ করে তুলছে না, বিনষ্ট করছে ছাত্র-শিক্ষক, সহপাঠী ও সতীর্থদের পারস্পরিক সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য। ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রেও সরকারি ছাত্র সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছে অবাধ ভর্তিবাণিজ্য। শিক্ষকদের তাড়িয়ে দিয়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে নৈরাজ্য। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণেই শিক্ষাঙ্গনে চলে আসছে সহিংসতা। ক্যাম্পাসে দলীয় প্রাধান্য বিস্তার করতে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠন ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারস্পরিক সংঘর্ষ ক্রমেই হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে।

দলীয় ক্যাডারদের আত্মঘাতী সঙ্ঘাত ও খুনোখুনিই শুধু নয়, ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ললাটে লেপন করেছে ভয়ঙ্কর কলঙ্ক। ছাত্রলীগের এক নেতা শতবার ছাত্রী ধর্ষণ করে ‘সেঞ্চুরিয়ান ধর্ষক’ খেতাবে ভূষিত হয়েছে। বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই চায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। রাজনীতির সাথেও নেই তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা। তারপরও মুষ্টিমেয় দলবাজ ছাত্রছাত্রীর হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জিম্মি। অছাত্র এবং সন্তানের জনক-জননী এমন অনেকেই দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আলোর পথ থেকে সরিয়ে ছাত্রদের যারা অন্ধকার গলিতে ঠেলে দিচ্ছেন তাদের সন্তানরা কিন্তু ঠিকই পড়ালেখা করছে আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

আর বিদেশে পাঠাতে যারা অপারগ, তাদের সন্তানরা পড়ালেখা করছে দেশের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ’৫২এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার পেছনে মূল প্রেরণা জুগিয়েছে তৎকালীন ছাত্রসমাজ। আজকের মতো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নয় বরং ছাত্র সংগঠনগুলোই তখন নিয়ন্ত্রণ করেছে রাজনৈতিক দলগুলোকে। ব্রিটিশ ভারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির গোড়াপত্তন ঘটে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে ১৯৩২ সালে নির্দলীয় ‘অল বেঙ্গল মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনের মধ্য দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে ‘ইস্ট বেঙ্গল মুসলিম স্টুডেন্ট লীগ’ গঠন করে ছাত্ররা ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ এর জানুয়ারিতে এসে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আইয়ুব খানের পতন ঘটায় ছাত্রসমাজ।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদই ’৭১ এ গোটা জাতিকে মূলত মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অথচ স্বাধীনতার পরপরই ছাত্র রাজনীতিতে দেখা দেয় মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় একশ্রেণীর ছাত্রনেতা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের শিক্ষাঙ্গনে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস রোধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্র রাজনীতিতে লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দেশের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা।

দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক নেতাদের দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র রাজনীতির সাথে দলীয় সম্পৃক্ততা ছিন্ন করে ছাত্রদের জন্য কল্যাণকর এমন নির্দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের উৎসাহী করতে হবে। এ জন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রয়োজন নেই। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংগঠন, ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র সংসদ থাকবে। এসবের মাধ্যমে ছাত্ররা তাদের শিক্ষার মান ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় দাবি-দাওয়া ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে অধিকার ভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করবে। এটাই স্বাভাবিক।

এখানে দলবাজি বা দলীয় লেজুড়বৃত্তির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষকদেরকেও মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে দলীয় রাজনীতির ভূত। দলীয় স্বার্থসিদ্ধির পরিবর্তে তাদেরকে ব্রতী হতে হবে সঠিক পাঠদানে। দলীয় রাজনীতির বিষবাষ্পমুক্ত করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাঙ্গন থেকে অপশিক্ষা ও সন্ত্রাস হটিয়ে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতিকে এ জন্য হয়তো চরম মূল্য দিতে হতে পারে। জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যাতে কোনো ছাত্র অঙ্গসংগঠন না রাখতে পারে সে জন্য নির্বাচন কমিশন শর্ত আরোপ করছে বলেও শোনা যায়।

কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র এবং শিক্ষক উভয় শ্রেণীকেই দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত করতে ’৭৬ এর রাজনৈতিক দলের বিধান এবং ’৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশটি পুরোপুরি পরিবর্তন বা বাতিল করতে হবে। ডাকসুসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও হল সংসদগুলোতে নিয়মিত দলনিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে মেধাবী, সৎ ও যোগ্য ছাত্র প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দলীয় রাজনীতির প্রতি ছাত্রছাত্রীরা নিরুৎসাহিত হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই গণতন্ত্র। জাতীয় রাজনীতি করতে হলে ছাত্র রাজনীতি করে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এমন ধারণা অমূলক। তাহলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ুয়া ছাত্ররাই শুধু রাজনীতি করত এবং দেশ চালাত। আসলে দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনীতির চেয়ে অধিক প্রয়োজন ছাত্রদের শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করা।

২০০৭ এর আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংস ঘটনার পর গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন পরবর্তীকালে গেজেট আকারে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে- শিক্ষাঙ্গনে সরাসরি ছাত্র-শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধের। ছাত্ররা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবে। দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে ছাত্রদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্তিতেও দোষের কিছু নেই। ছাত্ররা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা, নিজেদের কল্যাণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ছাত্র সংসদের মাধ্যমে কাজ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবেই নেতৃত্ব দেয় ছাত্ররা। জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি-দাওয়াও পেশ করে। প্রয়োজনে আন্দোলনে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে ছাত্ররা নির্বাচিত ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব না করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের দিক না দেখে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করছে।

লেখক : নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক


আরো সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র-বাক স্বাধীনতা, বাংলাদেশের চিত্র আজ ভিন্ন : সেলিম উদ্দিন গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, ডাক্তার ডাকতে গিয়ে পালালো স্বামী গফরগাঁওয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মাইক্রোবাসে ডাকাতি, চালক আহত খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে : ডা: ইরান ফরিদপুরের ফরমালিন দেয়া বেগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে বিয়ের আগের দিন পালিয়েছে মেয়ে, মায়ের আত্মহত্যা ব্রিটেনে টিউলিপ-রুশনারাদের সাথী হলেন আফসানা খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিএনপির লাফালাফি ঠিক হয়নি : আইনমন্ত্রী খুলনায় ট্রাকের ধাক্কায় মাছ ব্যবসায়ী নিহত জয়ের পর বরিস জনসন যা বললেন টাকার জন্য বার্সার বিরুদ্ধে আবারো মামলা ঠুকলেন নেইমার

সকল