১৫ নভেম্বর ২০১৯

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র কায়েমের উপায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ছবি : সংগ্রহ

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেশে বিরাজমান দুর্নীতি ও অনিয়মের ভয়াবহতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘যে পরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প আমরা নিচ্ছি, তার প্রতিটি টাকা যদি সঠিকভাবে ব্যয় হতো, ব্যবহার হতো, আজকে বাংলাদেশ আরো অনেক বেশি উন্নত হতে পারত। এখন আমাকে খুঁজে বের করতে হবে যে, এখানে কোথায় লুপহোল, কোথায় ঘাটতিটা, কারা কোথায় কিভাবে এই জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই সরল স্বীকারোক্তিকে সাধুবাদ জানাই। দুর্নীতি যে কিভাবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, দুর্নীতির কারণে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থায় কী করুণ বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং সৎভাবে জীবনযাপনকে কতটা কঠিনতর করে তুলেছে- প্রধামনমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই কঠিন সত্যটা ফুটে উঠেছে। এখন কেন সারা দেশে দুর্নীতি এমন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ল এর কারণ নির্ণয় এবং প্রতিকারের উপায় আলোচনা করে সামনে এগোনোর পথ নির্ণয়ের কাজ সহজ হলো।

একই দিন সরকারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর কাছ থেকে দুর্নীতি ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি এসেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘শিক্ষার সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও একটি বিষয় আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। সারা বিশ্বে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত, যে জাতি যত উন্নত ও শিক্ষিত সে জাতির মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তত কম; কিন্তু বাংলাদেশে উন্নয়নের গতি ও শিক্ষার হার বাড়লেও সামাজিক অপরাধ কমছে না। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো শিক্ষিত লোকের মাধ্যমেই অপরাধগুলো বেশি ঘটছে এবং এমন কোনো অপরাধ নেইÑ যেটা শিক্ষিত লোকের মাধ্যমে ঘটছে না। এটা কেন হচ্ছে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধ মহামারীর রূপ ধারণ করে সমাজে কী কী ক্ষতি বয়ে আনছেÑ এই উপলব্ধির পাশাপাশি এর জন্য বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থাই যে কারণ বা প্রধানত দায়ী; এটা স্বীকার করার জন্য আইনমন্ত্রীকেও সাধুবাদ জানাই। সরকারের দায়িত্বশীল গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এই দুই বক্তব্যের পর দেশে বিরাজমান ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ বিস্তৃতি এবং এসব কী কারণে হচ্ছে, সেটা নির্ধারণে আর কোনো বিতর্ক থাকল না।

দুই.
হাদিসের ভাষ্যমতে মানুষ বিয়ে করে চার কারণে। নারীর সৌন্দর্যের কারণে, তার বংশমর্যাদার কারণে, সম্পদশালী হওয়ার কারণে অথবা দ্বীনদারি ও আদর্শবান হওয়ার কারণে। এই চার গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো দ্বীনদারি। ইসলামে বিয়ের সময় কনের দ্বীনদারির গুণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছে।

ইসলাম সৎ মানুষ ও সৎ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একেবারে গোড়াতেই হাত দিয়েছে। যেমন- বিয়েশাদিটা এমন নারীর সাথে হওয়া চাই, যিনি দ্বীনদার, সৎ ও পরহেজগার হবেন। এরপর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে দ্বিতীয় কাজ হলো- সন্তানের ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দিতে হবে। তৃতীয় কাজ হলো- জন্মের সপ্তম দিন সন্তানের সুন্দর অর্থবোধক একটি ইসলামী নাম রাখা, মাথার চুল কর্তন করা। আর সামর্থ্য থাকলে আকিকা করা এবং মাথার চুল সমপরিমাণ ওজনের স্বর্ণ বা রৌপ্য সাদকা করা।
চতুর্থ কাজ- সন্তানের ৭ বছর বয়স থেকে তাকে নামাজে দাঁড় করাতে হবে। যাতে শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে আগে নামাজ আদায়ে পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, এ জন্য ৭ বছর বয়স থেকে শিশুকে পাক-নাপাক, অজু-গোসল, নামাজ ইত্যাদির মাসআলা-মাসায়েল ও নিয়ম শেখাতে হবে। সহিহ-শুদ্ধরূপে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শেখাতে হবে। নামাজের জন্য প্রয়োজনী কিছু সূরা মুখস্থ করানো, পাশাপাশি ইসলামের অন্যান্য মানবিক, পারিবারিক, সামাজিক ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জ্ঞানগুলোও তাকে দিতে হবে। হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদের জ্ঞান দিতে হবে। এভাবে শিশু ৭ বছর বয়স থেকে ১০ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত ইসলামের প্রয়োজনীয় সব জ্ঞান আয়ত্ত করে নেবে। এরপর শিশুর বয়স যখন ১০ বছর পরিপূর্ণ হবে, তখন নামাজ আদায়ে শিশুর কোনো গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে পিতামাতাকে শাসন করে হলেও তাকে নিয়মিত নামাজ-কালাম ও সৎ জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।

মুসলিম জীবনে নামাজ এত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যে, নামাজ শুধু মুমিনের অন্তরকে পবিত্র ও কলুষমুক্ত করে না, বরং নামাজ সব ধরনের অন্যায়, অপরাধ ও খারাপ কাজ থেকে নামাজিকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (আনকাবুত)।

ইসলাম মানবজীবনের গোড়া থেকেই আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে এমনভাবে দিকনির্দেশনা সাজিয়েছে, যাতে একজন মানুষ সৎ হয়ে গড়ে উঠতে জীবনের শুরু থকেই সহায়ক পরিবেশে প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা পায়। এ জন্য প্রথমে মাকে সৎ ও দ্বীনদার হতে হবে। কারণ সন্তান গড়ার জন্য মায়ের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের কোলকে সন্তানের প্রাথমিক বিদ্যালয় বলা হয়ে থাকে।

ছেলে, মেয়ে, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, চাকরিজীবী যেই হোক না কেন, সর্বস্তরের মুমিন মুসলমানের জন্য ইসলামের এই শিক্ষাগ্রহণ ফরজে আইন। বয়সের সাথে ইসলামের ফরজে আইনের শিক্ষা সম্পৃক্ত নয়। তাই যেসব মুসলমান শিশুকালে ইসলামের শিক্ষা পায়নি বা কোনো কারণে গ্রহণ করতে পারেনি, যুবক-প্রৌঢ় বা বৃদ্ধকালে যখনই এ বিষয়ে তাদের উপলব্ধি আসবে, তখনই এই শিক্ষা নিতে হবে।

আমাদের বুঝতে হবে, আলেম হওয়া ফরজে আইন নয়, ফরজে কিফায়া। একদল এমন আলেম সমাজে থাকাই যথেষ্ট, যারা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যেকোনো সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দিতে সক্ষম। তবে সব মুসলমান নারী-পুরুষকেই ইসলামের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক শিক্ষা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এরপর যে যার মতো করে জাগতিক শিক্ষা গ্রহণ করবে।

ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিরোধী নয়, বরং উৎসাহিত করে। প্রযুক্তি আল্লাহ পাকের নিয়ামত। সমাজে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার বা প্রকৌশলীর অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিন্তু তারা যদি দুর্নীতিবাজ বা অসৎ হয়, তা হলে তারা কখনো সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না। এই কারণে জ্ঞান-গবেষণামূলক শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষাকেও আবশ্যকভাবে রাখতে হবে, যাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সাথে সাথে এসব শিক্ষিতরা সৎ ও আদর্শবান হয়ে গড়ে ওঠেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরাজমান দুর্নীতি ও অপরাধপ্রবণতার ভয়াবহ চিত্রের পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অধোগতির চিত্রটাও সামনে এসেছে। এই সঙ্কটের সমাধান করতে হলে সবার আগে সুশিক্ষিত মা লাগবে। সুশিক্ষিত মায়েদের জন্য দ্বীনি শিক্ষা লাগবে। দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সুতরাং মায়েদেরকে দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর মায়েরা সন্তানদের ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই আজান-ইকামত, ইসলামী নাম, আকিকা এবং আস্তে আস্তে ৭ বছর বয়স থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে ইসলামের প্রয়োজনীয় সব শিক্ষা দেবেন। এরপর জেনারেল শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সব ক্লাসে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইসলামী শিক্ষার একটা ক্লাস বাধ্যতামূলক রাখতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যান্য ধর্মের ছাত্রছাত্রীরা নিজ নিজ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করবে। এবং সহশিক্ষা বন্ধ করে পুরুষ ও নারীদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে।

তিন.
জাতি গড়ার জন্য আদর্শ শিক্ষার বিকল্প নেই। আদর্শ শিক্ষার জন্য শিক্ষককেও আদর্শ ও চরিত্রবান হতে হবে। শিক্ষক যদি চরিত্রবান না হয়, তবে এই শিক্ষকের হাতে আদর্শবান ছাত্র গড়ে উঠবে না। তা ছাড়া আদর্শ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে শিক্ষকের পাশাপাশি পিতামাতারও সহযোগী ভূমিকা থাকতে হবে। সন্তানের প্রতি সবসময় চোখ রাখতে হবে যে, সন্তান সঠিক পথে চলছে, নাকি অসৎ সংশ্রবে আড্ডা, মদ-জুয়া বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিপথগামী হচ্ছে। সন্তান নামাজ-কালিমা ছেড়ে দিলো, কিন্তু পিতামাতা উদাসীন হয়ে খোঁজখবর রাখল না, সেটা হবে না। পিতামাতাকেও ২৪ ঘণ্টা সন্তানদের বিষয়ে কেয়ারফুল থাকতে হবে। সন্তানের প্রতি মাতাপিতার যে দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকার কথা, সেটা আমাদের সমাজ থেকে উঠে গেছে। এখন যেটা করা হয়, সেটা হলো সন্তানের নিরাপত্তার জন্য কেবল স্কুলে আনা-নেয়া করা।
আজকের সমাজে কেন এত অন্যায়, অপরাধ ও অনিয়ম? ছাত্ররা ভিসির পদত্যাগ চায়? শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-মিছিল করে। কেন এমন হয়? কারণ ভিসি দুর্নীতি করেন, শিক্ষকরা অনিয়ম করেন। এই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের দিয়ে কখনো আদর্শবান নাগরিক গড়ে উঠবে না।

আদর্শ নাগরিক গড়ার জন্য চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষক আদর্শ ও চরিত্রবান হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র গড়ার জন্য শিক্ষকের মনে গভীর আগ্রহবোধ ও দরদ থাকতে হবে। ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের দরদি মনোভাব না থাকলে এমন শিক্ষকের হাতে আদর্শবান ভালো ছাত্র গড়ে উঠবে না।

অন্য দিকে ছাত্রের দায়িত্ব হলো, শিক্ষকের ওপর নিজেকে সঁপে দিতে হবে। শিক্ষক যা বলে এবং যেসব নির্দেশনা দেন তার সব মেনে চলতে সচেষ্ট ও যতœবান থাকতে হবে। শুধু একটা বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, শিক্ষক আল্লাহ-রাসূল এবং ইসলামবিরোধী কোনো কাজের আদেশ দিলে এটা মেনে চলা যাবে না। এটা ছাড়া আর সব ক্ষেত্রে শিক্ষকের পরিপূর্ণ অনুগামী হতে হবে। আর শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের অনুগামী মানসিকতা তৈরিতে মা-বাবার দায়িত্বশীলতা লাগবে।

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদর্শ সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে। এই সিলেবাসের তিনটি অংশ- এক. উস্তাদ, দুই. ছাত্র, তিন. নির্ধারিত বইপুস্তক। সিলেবাস বলতে শুধু বইপুস্তক বুঝলে ভুল হবে। এই তিনটির সমন্বয়ের নামই হলো সিলেবাস। এই তিনটিই যথাযথ হওয়া জরুরি।

নিমগাছ লাগিয়ে ল্যাংড়া আম আশা করা যায় না। বলদ গরু লালন-পালন করে দুধের আশা করা যায় না। বর্তমান যে বস্তুবাদী শিক্ষা নীতি এবং নারীনীতি সরকার প্রণয়ন করেছে, এটাই সব অশান্তির মূল। আজকের সমাজে নারীদের আব্রু ইজ্জত নিয়ে যে টানাটানি শুরু হয়েছে। পত্রিকা উল্টালেই দেখা যায় প্রতিদিন খবরে আসছে- আজ এতজন নারী ধর্ষিত হয়েছে, এতজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। চরিত্রের এতই যে ধস নেমেছে, অপরাধ-দুর্নীতিতে সারা সমাজ ছেয়ে গেছে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, হাইজ্যাকি, টেন্ডারবাজিসহ দুর্নীতির যত রকম ও ধরন আছে কোনোটাই বাদ নেই। এই সঙ্কট থেকে বাঁচতে হলে আদর্শ শিক্ষা এবং দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই।
আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষা কখনোই সমাজের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে। সাথে সাথে উন্নত চরিত্র ও আদর্শবান হওয়ার জন্য ইসলামী শিক্ষাও অপরিহার্য। এতে ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং সমাজ সঠিকভাবে চলবে। ধর্মীয় শিক্ষা কখনোই আদর্শ শিক্ষার প্রতিবন্ধক নয়। দুটোকে সমন্বয়ের মধ্যে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

নারী-পুরুষের সহশিক্ষা ও সহকর্মসংস্থান সম্পূর্ণ পরিহার করে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহনব্যবস্থা এবং স্বতন্ত্র কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। আমরা নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিরোধী নই। তবে এটা অবশ্যই হতে হবে স্বতন্ত্র, নিরাপদ ও নারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে। এতে অনেক অপরাধ সংঘটনের পথ এই পদক্ষেপেই নির্মূল হয়ে যাবে। কারণ বর্তমানে যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, এর বেশির ভাগ অপরাধের কারণ সহশিক্ষা ও সহকর্মস্থলের কারণে- এটা আমাদেরকে বুঝতে হবে। পরম করুণাময় আল্লাহ সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা,
জামিয়া মাহমুদিয়া সুবহানিয়া-টঙ্গী এবং
মহাসচিব- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
[email protected]


আরো সংবাদ