২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চসিক নির্বাচন ও নাগরিক সমাজ

‘প্রাচ্যের রানী’খ্যাত সমুদ্র ও পাহাড়বেষ্টিত চট্টগ্রাম বা চট্টলা। ২০০০ বছর আগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠার কথা রোমান, গ্রিক ও আরব নাবিক এবং ভৌগোলিকদের লেখা গ্রন্থে পাওয়া যায়। ইংরেজ সিভিলিয়ান এ এল ক্লে ১৮৬২-৬৩ এবং ১৮৬৭-৬৮ সালে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘লিডস ফ্রম অ্যা ডায়েরি ইন লোয়ার বেঙ্গল’ নামে তার এক গ্রন্থে চট্টগ্রামের অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে স্বাধীনতার আগেই এখানে বেশ কিছু মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প গড়ে ওঠে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পেপার মিল, আয়রন মিল, অয়েল রিফাইনারি ও ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রি। কাঠের গুণগত মান এবং নির্মাণ শ্রমিকদের নিপুণতার কারণে চট্টগ্রামের জাহাজ বিশ্বের শীর্ষস্থানে ছিল। তুরস্কের সুলতানরা মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার পরিবর্তে চট্টগ্রামে নির্মিত জাহাজই বেশি নিয়ে যেতেন। বাণিজ্য ও যুদ্ধজাহাজ মিলিয়ে বছরে কমপক্ষে ২৫-৩০টি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন দেশে রফতানি হতো। জার্মান সরকার চট্টগ্রামের জাহাজ ক্রয় করে ১৮১৮ সালে।

‘ডয়চল্যান্ড ফ্রিগেট’ নামের জাহাজটি আজও কালের সাক্ষী হিসেবে সংরক্ষিত আছে ব্রিমারহাফেন শিপবিল্ডিং মিউজিয়ামে। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানির প্রধান নগরী হওয়া সত্তে¡ও চট্টগ্রাম আজ একটি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও শ্রীহীন নগরী। বিশ্বমানের বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা নগরীর পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বৈষম্যমূলক আচরণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞজনরা। বহুবিদ সমস্যায় জর্জরিত চট্টগ্রামের ৫৫ শতাংশ এলাকায় লাইন থাকলেও পুরোটাতে পানির সরবরাহ নেই। গণশৌচাগার নেই চট্টগ্রাম মহানগরে অন্তত ৫৭ শতাংশ মানুষের জন্য। তাই প্রতিবারের মতো এবারো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ হবে ৫ আগস্ট ২০২০-এ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন ৮ ফেব্রæয়ারি থেকে ৫ আগস্ট ২০২০-এর মধ্যে হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রত্যাশা, এ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।

পিস প্রেসার গ্রুপ দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের সাথে সংশ্লিষ্ট একদল স্বেচ্ছাসেবী। চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারা দেশের ৭৩টি উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। Peoples Against Violence in Elections-PAVE নামে প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিভিন্ন দলের নেতারাসহ সমাজের নেতৃত্বের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসনসহ শান্তি ও স¤প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি প্রকল্প এলাকা থেকে রাজনীতিকসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্বকারী নেতৃস্থানীয় ২০ জন নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় ওই ২০ জনের মধ্য থেকে তিনজন পিস অ্যাম্বাসেডর (শান্তিদূত) ও একজন সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

যা হোক, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’। কিন্তু জনগণ প্রত্যক্ষভাবে শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন না। প্রতিনিধির মাধ্যমেই তারা শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। আর জনগণ কর্তৃক প্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতিই হচ্ছে নির্বাচন। তবে নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ মাত্র। প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া যদি নিয়মতান্ত্রিক না হয়, তবে তা জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হয়, তবে প্রজাতন্ত্রের মালিকরা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছেন- এ কথা বলার নৈতিক অধিকার থাকে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবেও অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ আমরা সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ এবং International Covenant on Civil and Political Rights-এ স্বাক্ষরদাতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে এসব আন্তর্জাতিক আইন এবং চুক্তিও মেনে চলতে হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনের কতগুলো পূর্বশর্ত রয়েছে। যেমন : (ক) ভোটার হওয়ার উপযুক্ত সব ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া; (খ) যেসব ব্যক্তি প্রার্থী হতে আগ্রহী, তারা প্রার্থী হতে পারা; (গ) প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ফলে ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থী থাকা; (ঘ) ভোট প্রদানে আগ্রহীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ভোট দেয়া; এবং (ঙ) ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, কারসাজিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত আমাদের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে চারটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যেগুলো হলো :

(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান; (খ) জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান; (গ) সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ; এবং (ঘ) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সরকারের অনুরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোরও নির্বাচন আয়োজন করে থাকে। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের কর্তব্য হলো, আমাদের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কমিশনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার যথাযথ ভ‚মিকাই পারে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে ভ‚মিকা রাখতে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে, নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, প্রার্থী ও সমর্থক, সচেতন নাগরিক এবং ভোটার- প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা : অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির শর্ত পূরণের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেয়া। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। হলফনামায় প্রার্থী প্রদত্ত তথ্যগুলোর সঠিকতা যাচাই করে অসত্য তথ্য প্রদানকারীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা। প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন করা। কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কেউ নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রার্থীদের হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী লিফলেট বা তথ্যচিত্র তৈরি করে ভোটারদের মাঝে তা বিতরণ করা। এলাকাভিত্তিক প্রার্থী পরিচিতি (প্রার্থী-ভোটার মুখোমুখি) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। নির্বাচনে কোনো এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে সেই এলাকার নির্বাচন স্থগিত করা এবং প্রয়োজনে ফলাফল বাতিল করে নতুন করে ভোট গ্রহণ করা।

সরকারের ভূমিকা : সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করা। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোভাবেই প্রভাবিত না করা।

রাজনৈতিক দলের ভূমিকা : ‘যেকোনো মূল্যে’ বিজয়ী হওয়ার মনোভাব পরিত্যাগ করে নির্বাচনকে একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে গ্রহণ করা। গণরায় মাথা পেতে নেয়ার ঘোষণা দেয়া। মনোনয়ন-বাণিজ্যের মনোভাব পরিহার করে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য কোনোভাবেই প্রভাবিত না করা।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকা : নির্বাচনী আচরণবিধির কথা মনে রেখে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা। নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের কোনোভাবেই প্রভাবিত না করা।

সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা : নির্বাচনী দায়িত্ব নিরপেক্ষতার সাথে পালন করা। কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে বা কোনো দলের পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত থাকা। কোনো প্রার্থী বা দলের বিপক্ষে ভূমিকা না রাখা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা : পক্ষপাতহীনভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করা। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

গণমাধ্যমের ভূমিকা : প্রার্থীদের সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা। প্রার্থী কর্তৃক হলফনামায় দেয়া তথ্যগুলো তুলে ধরা, যাতে ভোটাররা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রার্থী ও সমর্থকদের ভূমিকা : নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা। কোনো কিছুর বিনিময়ে ‘ভোট কেনা’ থেকে বিরত থাকা। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া। নির্বাচনকে প্রতিযোগিতা হিসেবে নিয়ে গণরায় মাথা পেতে নেয়ার ঘোষণা দেয়া।

সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা : অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভ‚মিকা পালন করা। জনস্বার্থে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন।

ভোটারদের ভূমিকা : গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব মনে করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। জনস্বার্থে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীকে ভোট দেয়া। কোনো কিছুর বিনিময়ে অথবা অন্ধ আবেগের বশবর্তী না হয়ে, প্রার্থীদের সম্পর্কে জেনে-শুনে-বুঝে ভোট দেয়া। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীসহ কোনো অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী প্রার্থীদের ভোট না দেয়া।

বন্দরনগরীর রাস্তাঘাট অনুন্নত। কয়েকটি উড়াল সেতু নির্মাণ করা হলেও জনদুর্ভোগ বেড়েছে। স্থান নির্বাচনে যে মাপকাঠি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রয়োজন ছিল সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক’ বলা হলেও মানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। লাগেজ খুলে মালামাল তছনছ, যাত্রীদের লাগেজ খুঁজে না পাওয়া, বকশিশবাজি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে সার্ভার সমস্যা, ইমিগ্রেশনের সেকেলে কম্পিউটার, এমআরপি রিডারের অপ্রতুলতা, যাত্রী হয়রানি প্রভৃতি।

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস যেমন শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা, আমদানি-রফতানি, শুল্ক, বিনিয়োগ, পর্যটন, রেল, কেমিক্যালসহ বন্দর ও অভ্যন্তরীণ জাহাজ চলাচলের প্রধান কার্যালয় বা অধিদফতরগুলো চট্টগ্রামে থাকা দরকার। এখানে হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চের দাবি বহু দিনের। অবকাঠামোগত ও নাগরিক সুবিধা ঢাকার তুলনায় কম হওয়ায় উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক ছুটিতে ঢাকা চলে যান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের চট্টগ্রামে খণ্ডকালীন অফিস করার কথাও উপেক্ষিত।

বন্দরনগরীকে বিশ্বমানের নগরীতে উন্নীত করতে হলে যে কাজগুলো জরুরি ভিত্তিতে করা প্রয়োজন তার কিছু নমুনা; যানবাহন খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন ও জনগণের ভোগান্তি নিরসনকল্পে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। উড়াল সেতুর জন্য যৌক্তিক স্থান নির্বাচনের পাশাপাশি ওই স্থানের  রাস্তার সংস্কার অপরিহার্য।

বিদ্যমান ৩০০ কিলোমিটার ফুটপাথ পুনরুদ্ধার, রিকশা চলাচলের পৃথক লেন, পুরনো গাড়ি অপসারণ করে বহদ্দারহাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত আধুনিক বাস চলাচলের ব্যবস্থা। সড়কের আইল্যান্ড, সড়ক দ্বীপ সবুজায়নসহ মনোরম দৃশ্যের সৃষ্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে তার কিছু বস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি। ‘একটি আদর্শ নগরী বলতে এমন শৃঙ্খলাপূর্ণ নিরাপদ ও মসৃণ সড়ক ব্যবস্থা থাকে, যেখানে ৪৫ মিনিটে নগর প্রদক্ষিণ আর ১৫ মিনিটে পার্কে যাওয়ার সুযোগ থাকে।’

পর্যটন খাতের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিলে শহরের যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি, চিকিৎসাসেবা বেঙ্গালুরুর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, জলাবদ্ধতার নিরসন, উন্নত ও পরিচ্ছন্ন সড়ক, ব্যাপক সবুজায়ন, স্বাস্থ্যসম্মত সর্বোপরি নিরাপদ পরিবেশের জন্য লড়তে হবে।

লেখক : রাজনীতিক, প্রাবন্ধিক


আরো সংবাদ