২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দুর্নীতি নির্মূল করা প্রসঙ্গে

-

প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর চারটি ক্লাবে অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শাসক দল আওয়ামী লীগ ও দলটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন যুবলীগের নেতাদের মালিকানায় বেআইনিভাবে পরিচালিত জুয়ার ক্যাসিনোর বিপুল নগদ অর্থ এবং মদ, বিয়ার ও ইয়াবার সন্ধান পায়। পরে এসব ক্লাব সিলগালা করে দেয়া হয়। একটি ক্যাসিনোর মালিকসহ অনেক লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি ও যুবলীগের ঢাকা মহানগরের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। ২১ সেপ্টেন্বর একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক গোলাম কিবরিয়া ওরফে শামীমকে, যিনি নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন, রাজধানীতে তার কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার কার্যালয় থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের কাগজপত্র, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, আগ্নেয়াস্ত্র এবং মদের বোতল জব্দ করেছে। ওই দিন রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্লাবটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শরিফুল আলমের অফিসকক্ষ থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২১ সেপ্টেন্বর র‌্যাব ও পুলিশ চট্টগ্রামে তিনটি ক্লাবে অভিযান চালায়। ২৩ সেপ্টেন্বর রাজধানীর মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া, আরামবাগ ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব ক্লাব থেকে বিপুল ক্যাসিনো সামগ্রী, স্লট মেশিন, নগদ টাকার সন্ধ্যান পায়। তা ছাড়া পুলিশ মদের বোতল, ‘সীসা’ খাওয়ার সামগ্রী এবং ওয়ারলেস সেট উদ্ধার করেছে বলে জানা যায়। এ ধরনের অভিযান পরিচালনার আগে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের বেআইনিভাবে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আকস্মিক অভিযান এবং যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের গ্রেফতার ‘টক অব দ্য কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- গত সাড়ে ১০ বছরে আওয়ামী লীগের একটানা শাসনামলে দলটির বড় বড় নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে যেসব সিকি ও পাতি নেতা বেআইনি ও অন্যায় পন্থা অবলন্বন করে অগাধ অর্থের মালিক বনে গেছেন, অঙ্গসংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাসীন হয়েছেন এবং দলের আবার ক্ষমতায় আসতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যাপক ব্যবহার করে আসছেন, সরকারপ্রধান তাদের ওপর নাখোশ হয়ে তাদের ধরতে কঠোর হলেন কেন?

আওয়ামী লীগের একাধিক অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বেআইনিভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমস্যদের অভিযান এবং তাদের কয়েকজনের গ্রেফতার নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিরোধী দল বিএনপি। দলটির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারই কিছু প্রমাণ এবার কয়েক দিনের অভিযানে দেখা গেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দুর্নীতির অভিযোগে কিছু ছাত্র ও যুবনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যে লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। মূলত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে দুর্নীতির শিকড় আরো গভীর ও ব্যাপক। কাউকে ছাড় না দিয়ে ‘সর্বাত্মক জবাবদিহি’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আওয়ামী লীগ একটানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নজিরবিহীন অনিয়ম আর নিশিভোটের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় এসেছে। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর গত ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে কঠোর হাতে দুর্নীতি উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ে সমাজে অস্বস্তি রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে।’ এর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, নবম সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতি দমনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সেগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের প্রতি বছর সম্পদ বিবরণী দাখিল করা, ঘুষ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, অনুপার্জিত ও কালো টাকার মালিক, ব্যাংকের ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজ এবং রাষ্ট্র সমাজের বিভিন্ন স্তরে পেশিশক্তি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া এবং সরকারি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা হ্রাস করা। কিন্তু দুর্নীতি দমনের জন্য জরুরি হলেও এসব পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।

উল্লেখ্য, টিআইবির ধারণাসূচকে-২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আসে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ এক নন্বর থেকে তিন নম্ব^রে নেমে যায়। এরপর ২০০৮ সালে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে দ্বাদশ, ২০১১ ও ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৭ সালে ১৫ এবং ২০১৮ সালে ১৩ নম্বরে। এর অর্থ দাঁড়ায়, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করতে পারায় বাংলাদেশ সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়ে গেছে। প্রশ্ন জাগে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদের যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেটা কতটা সম্ভব? দেশে দুর্নীতির কুশীলবরা হলেন- ক. রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিক; খ. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আধা সরকারি স্বশাসিত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ. বেসরকারি খাত, বিশেষ করে, ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে বা ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা দিয়ে হোক, দলের পুনঃবিজয় নিশ্চিত করে সরকার গঠন করা। স্বচ্ছ আইনের অভাবে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো অর্থ সংগ্রহ নিয়ে বরাবরই লুকোচুরি করা হয় এবং এটি মোটেও দুর্নীতিমুক্ত নয়। দলীয় সরকারের অধীনে ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০১৪, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ হয়নি। এ সব নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিল দলীয় সরকারগুলো।

তবে নজিরবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয় ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে। অভিযোগ উঠে- নির্বাচনের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের লোকজন আগে থেকেই ব্যালটবাক্স ভর্তি করে দেন। বিরোধী দল বিএনপি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠনের মাধ্যমে এ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। টিআইবি জানিয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি। আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বহুগুণ ভয়ঙ্কর এবং গণতন্ত্রকে পক্ষাঘাত করে ফেলা এ দুর্নীতির কাঙ্ক্ষিত তদন্ত হবে কী? রাজনীতিকদের লক্ষ্য থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়লাভ করা। আর নির্বাচনে ‘জয়লাভ’ করলে তাদের লক্ষ্য থাকে নির্বাচনে ব্যয়িত টাকা যেকোনো উপায়ে আয় এবং পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা। মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের এমপি এবং স্থানীয় সরকারগুলোর প্রধান এ ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ পেয়ে থাকেন।

অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন করলে মন্ত্রিত্ব হারালেও জেল হওয়া কিংবা অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্তের নজির নেই বললেই চলে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের মালিক, গণপূর্তের প্রতাপশালী ঠিকাদার জি কে শামীমের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, তিনি সাবেক এক মন্ত্রীকে ঘুষ দিতেন রীতিমতো বস্তাভর্তি করে। গাড়িতে পৌঁছে দিতেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। ক্ষমতাসীনরা দলীয় স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী হয়নি।

এ রকম আরো উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। দেশের দুর্নীতি চক্রে সরকারি ও স্বশাসিত সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে একটানা ১০ বছরেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাত্রজীবনে দলটির সাথে সম্পৃক্ততার সুবাদে অথবা নিজেদের চাকরি রক্ষা এবং পদোন্নতি ও ভালো পোস্টিংয়ের আশায় ক্ষমতাসীন দলের অতিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকে সরকারি আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে দলটির কর্মীদের মতো আচরণ করেন। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হওয়ার কারণে দুর্নীতি করতে তারা ভয় পাচ্ছেন না। জি কে শামীমের প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, তিনি গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক একজন প্রধান প্রকৌশলীকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়া ছাড়া কারো এ পদে নিয়োগ পাওয়া অসম্ভব। গত ১০ বছরে সরকারি অফিসগুলো- বিশেষ করে সেবা খাতের সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলো, যেমন- আইনশৃঙ্খলা সংস্থা, ভূমি প্রশাসন, বিচারিক সেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎকর ও শুল্ক, ব্যাংকিং, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি দুর্নীতিতে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে; টিআইবির ২০১৯ এবং পরবর্তী বছরগুলোর খানা জরিপ থেকে তার চাঞ্চল্যকর চিত্র পাওয়া যায়। সরকার কি পারবে এসব খাতের দুর্নীতি উচ্ছেদ করতে?

বেসরকারি খাত, বিশেষ করে, ব্যবসায়ী মহল দুর্নীতির জন্য কম দায়ী নয়। বেসরকারি খাতে বিভিন্নভাবে দুর্নীতি হয়ে থাকে। কর ফাঁকি দেয়ার জন্য অনেক কোম্পানি তাদের প্রকৃত সম্পদ বা লাভের পরিমাণ কর কর্তৃপক্ষকে দেখায় না। আমদানি-রফতানিতে আন্ডার এবং ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেয়া যেন মামুলি ব্যাপার। তা ছাড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে জনগণের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাজার অর্থনীতির নামে এ দুর্নীতি হয়ে থাকে। সরকার কি তাদের এ দুর্নীতি বন্ধ করা উচিত নয়? দেশের ব্যাংকিং খাতে চলছে নৈরাজ্য। দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সরকার মনোনীত নিজ বলয়ের অসৎ পরিচালকদের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলত শাসক দলের সমর্থক ব্যক্তিরা কোটি কোটি ঋণ নিয়ে ইচ্ছা করে তা আত্মসাৎ করছেন বা খেলাপি হচ্ছেন। এদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো চলছে মালিক কাম-পরিচালকদের দৌরাত্ম্য। জনগণের কোটি কোটি টাকায় কোনো কোনো বেসরকারি ব্যাংক বাঁচাতে সরকার এগিয়ে আসছে বারবার। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী কতটা পারবেন তার দুর্নীতি উচ্ছেদের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে?

অনেকে মনে করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক বেআইনি ঘোষিত ক্যাসিনোগুলোর অভিযান নিতান্তই সাময়িক এবং ‘আইওয়াশ’ মাত্র। দলীয় দুর্নীতিবাজদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে দুর্নীতি উচ্ছেদ কতটা সম্ভব হবে, এটাই এখন দেশবাসীর দেখার বিষয়।

লেখক : সাংবাদিক


আরো সংবাদ