২২ আগস্ট ২০১৯

দুই মেয়র আগে থেকে সতর্ক হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না : ডেঙ্গু ইস্যুতে বাপার সমাবেশ

দুই মেয়র আগে থেকে সতর্ক হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না : ডেঙ্গু ইস্যুতে বাপার সমাবেশ - নয়া দিগন্ত

জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক নাগরিক সমাবেশে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেছেন, ঢাকার দুই মেয়র আগে থেকে সতর্ক হলে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তাদের অবহেলার কারণে আজ দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। ঔষধ নিয়েও অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। জনগণ এ সমস্ত দুর্নীতিবাজদের বিচার চায়

‘প্রাণঘাতি ডেঙ্গুর কবলে সারা দেশ! মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কর! ওয়ার্ড, উপজেলা ও অঞ্চলভিত্তিক অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন’-্এর দাবীতে এ সমাবেশে বিশিষ্ট নাগরিকেরা এসব কথা বলেন।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্ব করেন। এবং যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার অধ্যাপক ফজলুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন, পিএইচএম-বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক আমিনুর রসুল, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী ইবনুল সাঈদ রানা, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ, তরুপল্লব-এর সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম-এর জাভেদ জাহান, গ্রীনভয়েস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক তারেক প্রমূখ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, নাগরিক উদ্যোগ, ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ, ডাব্লিউবিবি ট্রাষ্ট, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, সুন্দর জীবন, জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন (পিএইচএম-বাংলাদেশ), বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, হেরিটেজ ক্রিয়েটিভ কাউন্সিল, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, তরুপল্লব, সিডিপি, ঢাকা ইয়ুথ ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, পুরাতন ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, ক্লিন রিভার বাংলাদেশ, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পরিবেশ রক্ষা এখনই, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ ও গ্রীণভয়েস এর যৌথ উদ্যোগে এসমাবেশে এছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন, ডাব্লিউবিবি ট্রাষ্ট-এর আতিক হোসেন, গোলাপবাগ মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক জোবায়ের হোসেন, সিডিপি’র খোকন শিকদার, বাপা’র সদস্য এ্যাডভোকেট একরাম হোসেন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত ৬২টি জেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জাতীর জন্য মোটেও স্বস্তির বিষয় না। অথচ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী শান্তিতে স্বপরিবারে বিদেশ সফরে গেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দেশের এ ক্লান্তি লগ্নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কি করে বিদেশ সফরে জান ?

অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থা ও ব্যক্তি ডেঙ্গু নির্মূলে তাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব ঠিক সময় পালন করলে এ মহামারী আকার দেশবাসীকে দেখতে হতো না। তারা যদি সারাদেশের এডিস মশার প্রজননগুলো সময়মত ধ্বংস করতো তা হলে এ মশার বংশ বিস্তার নষ্ট হয়ে যেতো। মিহির বিশ্বাস বলেন, বাড়ীর আঙ্গিনা পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে।

অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, যারা এ দায়িত্বে ছিলেন তারা সময়মত তাদের কর্তব্য ঠিকমত পালন করেনি। এখন তারা লোক দেখানো মশা মারার অনুষ্ঠান পালন করছেন। অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে একজন ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বর্তমানে ডেঙ্গু মশার তুলনা করে দায়িত্বহীনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, এ ক্লান্তিলগ্নে তিনি সরকারকে এসমস্ত বিতর্কীত বক্তব্য না দিয়ে বরং দেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার আহবান জানান।

 


আরো সংবাদ