২২ নভেম্বর ২০১৯

সমাজ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ : ড. এম. কুরবান আলী

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিআইইউ এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কুরবান আলী বলেন, সাক্ষরতা একটি অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতা মানুষকে জীবনযাপনের জ্ঞান ও কৌশল শেখায়। সমাজে অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণে অভ্যস্ত করে। আজকের জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে স্বাক্ষরতায় দক্ষতা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্ববহ।

আজ ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে যুব উন্নয়ন সংসদ ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও র্যা লীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ড. এম. কুরবান আলী বলেন, নিরক্ষরকে স্বাক্ষর করে তোলা, কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে উন্নততর কলাকৌশল পদ্ধতি শিক্ষাদানের মধ্যেই আমাদের কাজ সীমাবদ্ধ নয়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানতে হবে মানুষ সৃষ্টির কারণ কি? তার লক্ষ-উদ্দেশ্য কি? মানবিক মূল্যবোধ কী এবং কেন আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত সুপরিকল্পিত গণশিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি ও মুক্তি আনয়ন সম্ভব। জাতিকে মেধাবী ও সচেতন নাগরিক উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে এখনই সময় স্বাক্ষরতার পাশাপাশি মূল্যবোধের মানদন্ডে শিক্ষা কাঠমোর আমূল পরিবর্তন সাধন করা।

দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও যুব উন্নয়ন সংসদের প্রধান কো-অর্ডিনেটর হোসাইন মুহাম্মদ কামাল এর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহঃ সেক্রেটারি এডভোকেট সাইফুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এড. জসীম উদ্দিন তালুকদার, বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ। এসময় ঢাকার বিভিন্ন থানার যুব নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, স্বাক্ষর শব্দের আভিধানিক অর্থ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি। এখন সাধারণ অর্থে স্বাক্ষর বলতে পড়া, লেখা ও হিসাব করায় দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে মনে করা হয়। স্বাক্ষর ব্যক্তি যেন মাতৃভাষায় সহজে লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে, মনের ভাব শুদ্ধ ভাষায় বলতে ও লিখতে পারে। দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ করতে ও লিখে রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাক্ষরতার পরিধি শুধু মাতৃভাষা চর্চা ও হিসাব-নিকাশ আয়ত্ত করার মধ্যে সীমিত নেই। কম্পিউটার সাক্ষরতা, আর্থিক সাক্ষরতা, সাংস্কৃতিক সাক্ষরতার মতো বিভিন্ন নাগরিক প্রসঙ্গ সর্বোপরি উন্নত জীবনের জন্য অপরিহার্য মানসম্মত দক্ষতা অর্জন, দেশাত্মবোধ, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরির সোপান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণভাবে সবদেশে সব সমাজে ক্রমেই এ বোধ বিস্তৃত হয়েছে ও হচ্ছে যে, সাক্ষর মানুষ লক্ষ্যহীন, কর্মহীন, অসামাজিক, অমানবিক হতে পারে না।

বক্তাগণ আরও বলেন, সাক্ষরতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবীয় অধিকার হিসেবে বিশ্বে গৃহীত হয়ে আসছে। এটি ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ও মানবীয় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এমনকি শিক্ষার সুযোগের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে সাক্ষরতার ওপর। সাক্ষরতা মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে। দারিদ্র্য হ্রাস, শিশু মৃত্যু রোধ, সুষম উন্নয়ন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি বিকশিতকরণের ক্ষেত্রেও সাক্ষরতা প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হিসেবে গণ্য হয়। মূল কথা “সবার জন্য শিক্ষা” এ শ্লোগান বাস্তবায়ন করতে স্বাক্ষরতাকে ভিত্তি হিসেবে ধরে আমাদের এগুতে হবে। একটি মানসম্মত মৌলিক শিক্ষা মানুষকে স্বাক্ষরতা ও দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করতে সহায়তা করে। সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে প্রেরণে উৎসাহিত হন, অব্যাহত শিক্ষায় নিজেকে প্রবেশ করতে উৎসাহ পান এবং উন্নয়নের দিকে দেশকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ও সাহায্য করে থাকেন।

সাক্ষরতার সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বক্তাগণ সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবী জানান, শৈশবকালীন শিক্ষায় গুরুত্বারোপ ও সব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনে সক্ষম করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা সহায়তা বৃদ্ধি করা। যুব ও বয়স্কদের মধ্যে কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


আরো সংবাদ