২১ আগস্ট ২০১৯

দেশে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার বেকার, ১২ বছরে কর্মসংস্থান ২ কোটি

সংসদে শ্রমপ্রতিমন্ত্রী
-

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে (২০১৬-১৭) অনুযায়ী দেশে শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার জন। এর মধ্যে শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতের (যাদের বয়স ১৫ বছর ও তদুবর্ধ ) সংখ্যা ২৩ লাখ ৭৭ হাজার জন এবং অশিক্ষিত বেকার রয়েছে ৩ লাখ।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে সোমবার ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর ( পিরোজপুর-৩) এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রীর দেয়া তথ্যে দেখা যায়, শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ লাখ অশিক্ষিত বেকারের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার পুরুষ এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার মহিলা। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষিত ৪ লাখ ২৮ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২ হাজার এবং নারী ২ লাখ ২৬ হাজার, মাধ্যমিক শিক্ষিত ৮লাখ ৯৭ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ ৪ লাখ ২২ হাজার এবং মহিলা ৪ লাখ ৭৪ হাজার। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষিত বেকার ৬ লাখ ৩৮ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার এবং মলিা ২ লাখ ৮৫ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় বেকার ৪ লাখ ৫ হাজার তম্মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার এবং মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার এবং অন্যান্য পুরুষ ৯ জন।

১২ বছরে ২ কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান 

সংরক্ষিত মহিলা এমপি বেগম হাবিবা রহমান খানের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৫-০৬ সালে দেশে কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা ছিল ৪কোটি ৭৪লাখ। বর্তমানে অর্থাৎ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮ লাখ। এ সময়ে দেশে প্রায় দুই কোটি লোকের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ বছরের উর্ধে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫৮ দশমিক ২শতাংশ। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্য বেশির ভাগ কৃষির সঙ্গে সম্পৃত্ত। যার পরিমাণ ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত লেবার ফোর্স সার্ভে, ২০১৬-১৭এর হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বেকারের হার মোট শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য একটি পরিকল্পিত কর্মসুচি গ্রহনের উদ্দেশ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্মসংস্থান নীতি প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। 

বেগম রত্মা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আইনানুগ অধিকার বাস্তবায়ন, কমপ্লায়েন্স ও পারস্পরিক সম্পর্কের আইনগত ভিত্তি সুদৃঢ় করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মধ্যে শ্রম আইন প্রণয়ন ও সংশোধন, শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও শ্রম বিধিমালা প্রনয়ণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে স্বাবলম্বি করার লক্ষে দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গৃহকর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে এ মুর্হুতে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই। তবে পূর্ণকালিন গৃহকর্মীর মজুরি উভয়পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করার পরামর্শ রয়েছে। 


আরো সংবাদ