১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
ঢাবিতে ছাত্র নির্যাতনে সংসদে উদ্বেগ

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে : হারুনুর রশীদ

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে : হারুনুর রশীদ - ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে ছাত্রলীগের হাতে ৪ ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বুয়েটে আবরার হত্যার পর ২৫ জন বহিস্কার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমরা এই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারছিনা। সরকারের সদিচ্ছার অভাব। এসময় স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরী বৈঠকেসভাপতিত্ব করছিলেন।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব বিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষাঙ্গন। সেখানে জ্ঞান চর্চা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা যদি সরকার নিশ্চিত করতে না পারেন, এখানে সংসদ আছে এখানে আইন পাস করে এটা বন্ধ করে দেয়া দরকার। সংবিধান সংশোধন করা দরকার। সংবিধানে মৌলিক অধিকারের যেসব অনুচ্ছেদ আছে সেগুলো আমার মনে হয়, ১৯৭৫ সালের বাকশালের সময় যে ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছিল সে ধরণের আইন করা দরকার। আমরা একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন গুলোতে যে নির্বাচন হচ্ছে তাতে আচরণ বিধি আমরা মানছি না। সরকারি দল প্রার্থী দিয়েছে। তাদেরকে কোনভাবেই নির্বাচন কমিশন আচরণ বিধি মানাতে পারছে না। নির্বাচনের নামে প্রহসনেরতো প্রয়োজন নেই। তিনি পত্রিকার খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৮২৫টি মামলা। আর নামমাত্র মামলা দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৫৩টি। এই যে একটা ভয়াবহ চিত্র ভয়াবহ অবস্থা। আজকে আমাদের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে নির্বাচনে আস্থা ফিরানোর চাহিদাটা কিভাবে আমরা তৈরী করবো, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের জায়গাটা কিভাবে আমরা তৈরী করবো? সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা আমরা বলছি। কিন্তু আমরা আইন তৈরি করছি, আচরণ বিধি তৈরি করছি। আবার আমরাই ভঙ্গ করছি। আজকে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ আইন প্রয়োগকারি সংস্থা কেউ কোন দায়িত্ব পালন করছেনা। এভাবে একটি দেশে সুশাসন এবং নাগরিকদের যে অধিকার সেগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবেনা।

লালমনির হাটে বিএসএসের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে আমার জেলাতেও (চাপাই নবাবগঞ্জ) তিনজন নিহত হয়েছেন। অব্যাহত সীমান্তে এই হত্যা। আমাদের বন্ধু রাস্ট্রের সাথে বিজিবি- বিএসএফের বৈঠক হচ্ছে কিন্তু হত্যা আমরা বন্ধ করতে পারছিনা- এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। 


আরো সংবাদ