২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
১২ হাজার টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলছে হাব

হজের বিমান ভাড়া না বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

হজের বিমান ভাড়া না বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া না বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হজ এজেন্সিস এসোসিয়শন অব বাংলাদেশ (হাব) বলেছে, কোনো রকমের ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই ভাড়া ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৪০হাজার টাকা করার প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অনৈতিক। বরং জ্বালানী তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে পুণ: নির্ধারণ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হজ ব্যবস্থাপনা সরাসরি তদারকি করে আসছেন। তাঁর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, বিমান ভাড়ার বিষয়টি রিভিউ করে ভাড়া পুন: নির্ধারণ করা উচিত।

নয়া পল্টনের একটি হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে হাব সভাপতি বলেন, গত বছরে হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ বছর আর কোন ব্যয় বৃদ্ধি পায়নি। সৌদি সরকার কোন ট্যাক্স বাড়ায়নি। বিপিসি’র তথ্যানুসারে জ্বালানীর মূল্যও বাড়েনি। জেট ফুয়েলের মুল্য বৃদ্ধি তো পায়ইনি হ্রাস পেয়ে লিটার প্রতি ৭১ সেন্ট থেকে ৫৮ সেন্ট এ দাঁড়িয়েছে। এবছর বাংলাদেশ বা সৌদি সরকার হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার উপর কোন নতুন ট্যাক্স বা চার্জ আরোপ করেনি। ফলে ভাড়া বাড়ানোর কোন যুক্তিই নেই।

তিনি ভাড়া গত বছরের থেকেও কমানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ডেডিকেটেড (শুধু হজযাত্রী পরিবহন) ফ্লাইটের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলি সকল হজযাত্রীদের পরিবহন করে না। ৩০-৪০ শতাংশ হজযাত্রী সাধারণ শিডিউল ফ্লাইটে পরিবহন করে থাকে। একই ফ্লাইটে কম ভাড়ার সাধারণ যাত্রীদের সাথে হজযাত্রীদেরকে প্রায় তিনগুণ ভাড়ায় পরিবহন করা হয়।

তিনি বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ে ওমরাহ যাত্রীসহ অন্যান্য যাত্রীদের একবার যাওয়া-আসা বিমান ভাড়া ৪৪ হাজার টাকা হতে ৫৭ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে যেহেতু বলা বিমানকে একবার খালি যেতে ও আসতে হয় সেহেতু দুইবার অতিরিক্ত দুইবারের হিসাবসহ যাওয়া আসার খরচ হতে পারে ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।এছাড়াও যেহেতু একপথে বিমানকে খালি আসতে হয় সে জন্য খালি ফ্লাইট সমূহের ক্যাটারিং, ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং, ট্যাক্স, ইনফ্লাইট সার্ভিস ইত্যাদি খাতে কোনো ব্যয় হয় না। জ্বালানি তেল খরচ কম হয়। পাশাপাশি ওমরাহ ফ্লাইটসহ অন্যান্য ফ্লাইটে যাত্রী কখনো শতভাগ হয় না; ২০-৩০ ভাগ আসন খালি থাকে। কিন্তু হজ ফ্লাইটে শতভাগ যাত্রীর নিশ্চয়তা থাকে। হজ ফ্লাইটের জিডিএস সিস্টেম কোম্পানিকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় না। মার্কেটিং খাতে কোনো খরচ নেই। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা-আইএটিএ কে ও কোনো অর্থ দিতে হয় না বরং হাজীদের বিমান ভাড়া অগ্রিম পাওয়া যায়। সব দিক বিবেচনা করে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ নির্ধারণ করলেও বিমানের যথেষ্ট লাভ রেখেই বিমান ভাড়া ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা থেকেও কমানো সম্ভব।

শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক সামর্থ্য থাকার শরীয়তের শর্তের কথা বলে এর ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টরা কোনভাবেই অযৌক্তিকভাবে খরচ নির্ধারণ করতে পারেন না। এ মুহুর্তে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হলে হজ ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়াও গত বছর ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ভাড়া নেয়ার পর বিমান কী পরিমাণ লাভ করেছে সেই পরিসংখ্যান সকলের জানা।

এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, আন্ত মন্ত্রনালয়ের বৈঠকে বিমান ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার যুক্তি ছাড়া আর কোন যুক্তি দেখাতে পারেনি। কিন্তু প্রতি ডলারের মূল্য ৭৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ১২শ’ টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অন্যদিকে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির কোন যুক্তিই নেই। যদি শুধু ডলারের কারণে বৃদ্ধির কথা বলা হয়, তাহলে ১২শ’ টাকার স্থলে ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারেনা। প্রয়োজনে ভারতের মতো টেন্ডার আহবান করে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভাড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করার পক্ষে মত দেন হাব সভাপতি।

বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পাবেনা এই প্রত্যাশায় ধর্ম মন্ত্রনালয় ও হাব হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়ার বিষয়টি খালি রেখেই অপেক্ষায় আছে জানিয়ে হাব সভাপতি বলেন, আমরা বেসরকারি এজেন্সিগুলো ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রীর ব্যবস্থাপনা করছি বলে আমরা হজযাত্রীরা কী চিন্তা করেন সেটা জানতে পারি। আমরা বিমান ভাড়া নিয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস শাকুর, সহভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার, আটাবের মহাসচি ও হাবের জনসংযোগ সচিব মো: মাজহারুল হক ভূঁইয়া, হাবের যুগ্ম মহাসচিব ও আটাবের অর্থসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, হাবের অর্থসচিব মুফতী আব্দুল কাদের মোল্লা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা কফিলউদ্দীন সরকার সালেহ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা জাহিদ আলম, আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা মোহছিন উদ্দিন প্রমুখ।


আরো সংবাদ