২১ আগস্ট ২০১৯

বাংলাদেশে দুর্লভ বৈশিষ্ট্যের ফড়িংয়ের সন্ধান

দুর্লভ প্রজাতির ফরিং ও আশিকুর রহমান সমী - ছবি : সংগ্রহ

বাংলাদেশে দুর্লভ বৈশিষ্ট্যের একটি ফড়িংয়ের সন্ধান মিলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক দল এটির সন্ধান পেয়েছে। দেহে ভিন্ন পুরুষ ও স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল ফড়িংটির মধ্যে। এটা প্রাণিবিদ্যার ভাষায় গাইনেন্ডড্রমোরফিজম (Gynandromorphism) যা প্রাণী জগতের বিরলতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো: মোখলেছুর রহমান ও মো: মাহাবুব আলমের তত্ত্বাবধানে আশিকুর রহমান সমী ফরিদপুরের ফড়িং এবং বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এ বিরল বৈশিষ্টের ফড়িংটির সন্ধান পান।

এ ব্যাপারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সমী জানান, এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাণীর দেহে বৈশিষ্টটি প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে মাকড়সা, বিছা, মৌমাছি গোত্র, বিটিলস বা এক ধরনের গোবরেপোকা, প্রজাপতি, মশা ও ফলের মাছি অন্যতম। এ ছাড়া উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীতেও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তবে ফড়িংয়ের মধ্যে এ গাইনেন্ডড্রমোরফিজম বৈশিষ্ট্যটি একেবারে বিরল। পৃথিবীর সাড়ে ছয় হাজার ফড়িংয়ের মধ্য থেকে মাত্র ৩০টির মতো ফড়িংয়ে এ ধরনের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। আর এরই দেখা মিলল বাংলাদেশে।

প্রাণিবিদ্যা বিশারদদের মতে, প্রাণীর একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের নাম গাইনেন্ডড্রমোরফিজম যা প্রাণিজগতের বিরলতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। গাইনেন্ডড্রমোরফিজম হলো জেনেটিক্যালি এবং পিনোটাইপিকেলি সিমেরিক জীব যার একই দেহে ভিন্ন পুরুষ এবং স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। যেসব প্রাণী প্রজাতির মধ্যে পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর শরীরের রঙ, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্ন সাধারণত সেসব প্রাণীর মধ্যে এ ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। অপর দিকে নিউরোথেমিস টিউলিয়া ফড়িংটি বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটি ফড়িং। একে পুকুর ডোবার আশপাশে, ফসলের ক্ষেতে বা ঝোপঝাড়ে সহজেই দেখা যায়।

কিভাবে সন্ধান মিলল?
এ ব্যাপারে আশিকুর রহমান সমী জানান, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট নিয়মিত ফিল্ড ভিজিটের সময় তারা নিউরোথেমিস টিউলিয়া নামক ফড়িংয়ের মধ্যে এ ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য গাইনেন্ডড্রমোরফিজম দেখতে পান। এটির মাথা ও পাখনা বাইলেটারিয়েল গাইনেন্ডড্রমোরফিজম প্রকাশ করে। অপর দিকে উদর অংশটি পুরুষের মতো। তবে এর উদরের শেষের অংশ স্ত্রী ফড়িংয়ের মতো।
সম্প্রতি জার্মানি থেকে প্রকাশিত 'Notulae odonatologicae' (A  semi-annual companion publication to Odonatologica,  published for the International Odonatological Foundation, Societas Internationalis Odonatologica (S.I.O.)) নামক জার্নালে unusual case of  gynandromorphism in Neurothemis tullia (Odonata: Libellulidae) শীর্ষক আশিকুর রহমান সমীর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এর আগে কোনো প্রজাতির প্রাণীতে এ বৈশিষ্ট্যটি পাওয়া যায়নি। আর ভারতীয় উপমহাদেশে ফড়িংয়ে এটি প্রথম বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০০৯ সালে ভারতের কেরালা থেকে একই প্রজাতির ফড়িংয়ে গাইনেন্ডড্রমোরফিজম থাকার দাবি করা হলেও প্রমাণিত হয় সেটি আসলে এনড্রোমোরপিক ফিমেল এবং সমীর আবিষ্কৃত ফড়িংটি মূলত গাইনেন্ডড্রমোরফিজম বৈশিষ্ট্যের।


সমী তার কাজ সম্পর্কে নয়া দিগন্তকে জানান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তির পর থেকে শিক্ষকরা তাকে মা-বাবার মতো স্নেহ দিয়েছেন। প্রতিটি কাজে প্রতি মুহূর্তে উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ফলে এ ধরনের গবেষণা কর্মটি সফল করতে পেরেছেন তিনি।


আরো সংবাদ