২০ নভেম্বর ২০১৮

গ্রেফতারের ৪৮ ঘন্টা পরও আদালতে হাজির করা হয়নি শিবির নেতাকে

গ্রেফতারের ৪৮ ঘন্টা পরও আদালতে হাজির করা হয়নি শিবির নেতাকে - নয়া দিগন্ত

গ্রেপ্তারের পর ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সভাপতি শাফিউল আলমসহ ৫জনকে এখনো আদালতে হাজির না করায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে তাদের সন্ধান দাবি করে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, গত ১২ই সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় শফিউল আলম তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধুকে নিয়ে হজ্জ ফেরত মা ও বড় ভাইকে রিসিভ করতে শাহজালাল আন্তর্জাাতিক বিমান বন্দরে যান।

মা ও বড় ভাইকে নিয়ে বাসার উদ্যোশ্যে গাড়ীতে উঠলে সাদা পোষাকধারী পুলিশ সদস্যরা মায়ের ভাইয়ের সামনে থেকেই শাফিউল আলমকে তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধু সহ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মো. শফিউল্লাহ ও মো. মা'আজ নামে আরো দুই শিবির কর্মীকে প্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু গ্রেপ্তারের পর ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি এবং আদালতেও হাজির করা হয়নি। আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির করেনি। নিরপারাধ মেধাবী ছাত্রদেরকে প্রকাশ্য গ্রেফতার করে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতে হাজির না করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দায়িত্বহীনতা।

গ্রেপ্তারের পর আদালতে না তোলার পেছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে বলে আমরা মনে করি। সাম্প্রতিক সময়ে এভাবে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির না করে অনেক ছাত্রকে হত্যা, নির্যাতন ও নাটক সাজানোর বহু উদাহরণ রয়েছে। পুলিশের ধারাবাহিক অমানবিক আচরণে তাদের পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন অভিযোগ ছাড়াই নিরাপরাধ ছাত্রদেরকে গ্রেপ্তারের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তাদেরকে নিয়ে কোন প্রকার নাটক ছাত্রশিবির মেনে নিবে না। অবিলম্বে পুলিশের পোশাকে এই ধরনের অন্যায় আচরণ ও আইন বহির্ভূত কর্মকান্ড বন্ধ করুন।

আমরা গ্রেপ্তারকৃত শিবির নেতা শাফিউল আলমসহ ৫ জনের অবস্থান নিশ্চিত ও তাদেরকে আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন : হজ ফেরত মাকে আনতে গিয়ে বিমান বন্দরে শিবির নেতা গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৪২

ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সভাপতি শাফিউল আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হজ ফেরত মা ও বড় ভাইকে আনতে শাহজালাল আন্তর্জাাতিক বিমান বন্দরে গেলে শাফিউল আলম, তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধুকে গ্রেফতার করে সাদা পোষাকের পুলিশ।

পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মো. শফিউল্লাহ ও মোঃ মা'আজ নামে আরো দুই শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।


শিবিরের প্রতিবাদ: শাফিউল আলমসহ অন্যদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় তিনি তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধুকে নিয়ে হজ্জ ফেরত মা ও বড় ভাইকে রিসিভ করতে শাহজালাল আন্তর্জাাতিক বিমান বন্দরে যান।

তিনি তার মা ও বড় ভাইকে নিয়ে বাসার যাওয়ার উদ্যেশ্যে গাড়ীতে উঠলে সাদা পোষাকধারী পুলিশ সদস্যরা মা ভাইয়ের সামনে থেকেই শাফিউল আলমকে তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধু সহ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এসময় তার মা ও বড় ভাই অনেক অনুনয় বিনয় করলেও পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনি।

পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মোঃ শফিউল্লাহ ও মোঃ মা'আজ নামে আরো দুই শিবির কর্মীকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। যা অত্যন্ত অমানবিক ও ন্যক্কারজনক। পবিত্র হজ্জ ফেরত মা ও ভাইয়ের সামনে থেকে এই অমানবিক গ্রেপ্তার পুলিশের দায়িত্বহীন ও পাষন্ডতার আরেকটি নজির স্থাপন করেছে।

মনে হচ্ছে জুলুম অবিচার করতে করতে মানবতাবোধ বিষয়টি পুলিশের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পুলিশের এই দায়িত্বহীন অমানবিক ঘৃণ্য অপকর্মের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয় বরং যখন তখন শিবির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নাটক সাজানোকেই পুলিশ তাদের প্রধান কর্ম বানিয়ে নিয়েছে। আইনের পবিত্র লেবাসে স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে এসব পুলিশ কর্মকর্তা।

এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ড পুলিশের প্রতি জনগণের নূন্যতম প্রত্যাশা ও আস্থাটুকুও কেড়ে নিচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ সকল অন্যায় গ্রেপ্তার ও সাজানো নাটক থেকে বিরত থাকতে এবং হজ্জ ফেরত মা ভাইয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া শাফিউল আলম, তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধু এবং পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিবির কর্মীকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। একই সাথে তাদের জড়িয়ে কোন নাটক না সাজাতেও আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।

আরো পড়ুন : খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না : জামায়াত
প্রেসবিজ্ঞপ্তি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৬

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে এবং কারা অভ্যন্তরে আদালত স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে আয়োজিত ২ ঘন্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন চত্বরে গমন করেন।

তিনি বিএনপি’র প্রতীকী অনশন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার উপর সরকার বর্বোরচিত জুলুম-অত্যাচার চালাচ্ছে। আদালত তাকে জামিন দিলেও সরকার তাকে কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাকে নিয়ে যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন তাকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ হতে দিবে না।

আমি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময়ে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাথে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সভাপতি জনাব আব্দুস সালাম। 

 


আরো সংবাদ