১৬ জুন ২০১৯
ঈদের আগেই মুক্তি দাবি

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে নামমাত্র : রিজভী

-

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে কারাগারে নেয়ার তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।

রিজভী বলেন, সরকারের প্রধানের প্রতিহিংসার আগুনে কারাবন্দি থাকার কারণেই তার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আবারো আহবান জানাচ্ছি ঈদের আগেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, জামিনে বাধা দিবেন না। তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী বিশষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।

আজ সোমবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

‘সরকার খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে, আর বিএনপি এ নিয়ে অপরাজনীতি করে চলছে....’ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীনরা বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তামাশা করছেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য একটি বেপরোয়া, বেআইনী, মধ্যযুগীয়, জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোবাতাসহীন কান্ডজ্ঞানহীন হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মতো। সাবেক চার বারের একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। মিডনাইট ভোটের সরকারের গবুচন্দ্র মন্ত্রীদের কাছ থেকে এরকম বক্তব্য আসবে এটাই স্বাভাবিক। তথ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে প্রচ্ছন্নভাবে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিনা চিকিৎসায় হত্যার উদ্দেশ্যে নতুন ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি বলেন, বিএসএমইউতে তো চিকিৎসার পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিই নেই। সেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসা হলে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের চিকিৎসা দিতে কেনো সিঙ্গাপুর নেয়া হয়? তারা কারাবন্দি থাকাবস্থায় স্কয়ার ও ল্যাবএইডে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল কেনো? আমি তথ্যমন্ত্রীকে বলবো- আপনি রোজার দিনেও স্বভাবগত মিথ্যাচার পরিত্যাগ করতে পারেননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ কেনো, ন্যূনতম চিকিৎসা সেবাটুকুও পাচ্ছেন না। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েই দেশনেত্রীকে আজীবন জেলে রাখার কথা বলেছেন তাই বেগম জিয়া তাদের কাছ থেকে সুচিকিৎসা কখনোই পাবেন না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ছিল না। সরকারের দুঃশাসনের কবলে পড়ে দেশজুড়ে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণ, ব্যাভিচার ছড়িয়ে পড়ছে। দুঃশাসনের কবলে নারী ও শিশুরা সারা দুনিয়ার মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। বরং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতারা।

চারদিকে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। সমাজের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আইনের শাসন না থাকায় মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। দেশের কোটি কোটি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী হতাশায় নিমজ্জিত। লোকসানের কবলে পড়ে এখন তারা প্রায় সর্বস্বান্ত। এ পবিত্র রমজান মাসের মানুষের জীবনে সামন্যটুকু স্বস্তি নেই। রাষ্ট্র কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ তাদের পুরানো ঐতিহ্যের মাধ্যমে দেশ থেকে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়ায় মানুষ তাদের থেকে অনেক আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই বেগম জিয়া সরকারের প্রতিহিংসায় কারাবন্দি থাকলেও এখনো তিনি দেশের মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তার আপসহীন মনোভাব সর্বজন শ্রদ্ধেয়। তাইতো আওয়ামী নেতাদের এত জ্বালা। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার। তথ্যমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ।


আরো সংবাদ