১৯ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র দেখতে পাচ্ছি : সেলিমা রহমান

সেলিমা রহমান বললেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের পর ছাত্রসমাজকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ছাত্রসমাজকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, শিক্ষার মান কমিয়ে দিয়ে আজকে ছাত্রসমাজকে টেন্ডারবাজি এবং দুর্নীতিবাজদের পক্ষে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখতে পাই ২০ থেকে ২৫ বছরের ছেলেরা আজকে বিভিন্ন তাণ্ডববাজি করছে, বিভিন্ন মানুষ হত্যা করছে। তিনি বলেন, আপনারা যদি বরগুনা হত্যাকাণ্ডের দিকে তাকিয়ে দেখেন এই নয়ন বন্ড ও তার গ্রুপের সকল ছেলেরা দীর্ঘ সময় ওইখানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো। তাদেরকে কেউ কিছু বলতেন না। একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় তাদেরকে তৈরি করা হয়েছে।’

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের দ্বিতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই সদস্য বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণরূপে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে আতঙ্কগ্রস্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আপনি বলেছেন, ‘সাহস থাকলে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনেন’। আপনাদের মুখে বড় কথা মানায় না। কারণ আপনারা নির্বাচন করেন নাই। যদি আপনাদের সাহস থাকত তাহলে ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নির্বাচন করতেন না। আপনাদের যদি জনগণের প্রতি আস্থা থাকতো তাহলে আপনারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দিন জনগণকে ভোট দিতে দিতেন। আপনাদের জনগণের প্রতি আস্থা ছিলো না। কারণ আপনারা জানেন বাংলাদেশের জনগণের থেকে আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।”

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় এসে আপনারা আজকে অনেক কথা বলছেন। আপনারা বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ধর্ষণ আজকে মহাউৎসবে পরিণত হয়েছে। দুই বছরের শিশু বাচ্চা থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত এর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শিশুরা আজকে নিরাপদ না। একজন মা যখন তার সন্তানকে স্কুলে পাঠান আর খেলতে পাঠায় তখন তার মা জানেন না তার সন্তান আর ফেরত আসবে কিনা। আজকে এগুলো কেন হচ্ছে? কোনো বিচার নেই, বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়ার ফলে আজকে এসব ঘটনা ঘটছে।’

কোনো বিচারক এখন তার ইচ্ছায় রায় দিতে পারেন না মন্তব্য করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন পাবনায় যে রায় দেয়া হয়েছে, ২৫ বছর আগের ঘটনায়, যেখানে কেউ আহত হয় নাই, কারো গায়ে একটু আঁচড় লাগেনি, সেখানে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। জনগণ ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতে যায়, কিন্তু জনগণ আজকে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তাকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের নামে জনগণের উপর করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আজকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে যে গ্যাস নাকি মানুষের অপরিহার্য। সেখানে জনগণের পকেট কেটে সে টাকা নেয়া হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী বলছে যে, উন্নয়ন পেতে হলে নাকি দাম দিতে হবে। কিসের উন্নয়ন? মানুষের নিরাপত্তা আগে। আমরা অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন চাই কিন্তু সেই উন্নয়ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এগুলো হল একটি রাষ্ট্রের কাছে জনগণের সবচেয়ে প্রথম মৌলিক চাহিদা। যারা দেশ শাসন করবে সেই শাসকগোষ্ঠীর কাছে জনগণের মৌলিক চাহিদা। কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা দেশ শাসন করছে, নির্বাচন না করে ক্ষমতায় আছেন তাদের কাছে জনগণের এসব মৌলিক চাহিদার কোনো গুরুত্ব নেই। যেহেতু তারা নির্বাচন না করে ক্ষমতায় এসেছেন, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ উদাসীন। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে।’

‘এই সরকার বেগম জিয়াকে ভয় পায়, জিয়া পরিবারকে ভয় পায়। তাই অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে এবং তারুণ্যের অহংকার দেশনেতা তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে। কারণ এই সরকার জানে, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি মুক্ত থাকেন তবে এই অবৈধ সরকারের মসনদ চুরমার হয়ে যাবে। তাই তারা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। আমরা আশাবাদী এদেশের সকল মুক্তিকামী ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো ইনশাআল্লাহ’, বলেন তিনি।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুস আলী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ছাত্র মিশনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


আরো সংবাদ