১৯ আগস্ট ২০১৯

বাংলাদেশ আতঙ্কময় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে : ইরান

বাংলাদেশ একটি আতঙ্কময় রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, আজকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদেরকে খুন করা হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে ধর্ষণের সংখ্যা।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ইউনুস আলী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ছাত্র মিশনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আজকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি সরকারকে সু-প্রতিষ্ঠিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে সেই মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সূর্য অস্তমিত হয়েছে। আমরা সেই সূর্যকে আর জাগাতে পারিনি।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন ২০১৪ সালে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটকে কিভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। যে কয়েকটি আসনে নির্বাচন হয়েছিল সেখানে চতুষ্পদ জীবজন্তু ছাড়া কোনো মানুষের যাতায়াত হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচন হবে এ দেশের মানুষের মুক্তির নির্বাচন। ভেবেছিলাম এই নির্বাচনে মানুষ তার ভোট অধিকার, বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ফিরে পাবে। কিন্তু আমাদের সেই আশার আলো আর দেখতে দেয়নি। ৩০ তারিখের নির্বাচন রাতের আঁধারে ২৯ তারিখ সম্পন্ন করেছেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জেলা প্রশাসক, এসপি, ওসি এবং পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নির্বাচন করতে পারেনি। তারা কোথাও ভোট দিতে পারেনি। তাদের কোথাও ভোটের দরকার হয়নি। শুধুমাত্র এসপি, ডিসিরা তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো আসন নেই যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।

ইরান বলেন, যে দুই কোটি টাকা দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার নামে মামলা হয়েছে, সে টাকার সাথে বেগম জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেই দুই কোটি টাকা এখন সুদে-আসলে সাত কোটি টাকা হয়েছে। তিনি এই ট্রাস্টের কোনো মেম্বারও নন এবং এই ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার কোনো সইও নেই। শুধুমাত্র মইনুল রোডের ওই বাড়ির ঠিকানাটি এই ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকার কারণে তাকে অন্যায় ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি। তাই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে ইনশাআল্লাহ।


আরো সংবাদ