১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে চান সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র জিয়া হল থেকে সাবেক প্রসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম ও ছবি মুছে ফেলতে চায় নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান।

চাষাড়া জিয়া হলের দিকে ইঙ্গিত করে

১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবসেরএক আলোচনা সভায় সেলিম ওসমান বলেছেন, আমাদের যারা ক্ষতি করেছিল, সেখানে দেখা যায় একজনের ফটো লাগিয়ে একটা হল পড়ে রয়েছে। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ রাখতে চাই, হল দিতে না পারেন, বিল্ডিং দিতে না পারেন, আমাকে মাঠ দেন। আমার বাচ্চারা যেন খেলাধুলা করতে পারে। আমরা যেন অনুষ্ঠান করতে পারি। আমরা মেলা করে দেখবেন এই বিল্ডিংয়ের টাকা উঠিয়ে দেব।

জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, চলেন আমার সাথে কোন মন্ত্রণালয় যেতে হবে। আমরা আর এ নাম দেখতে চাইনা। আমরা এই ফটোটা দেখতে চাইনা। আমরা এ নামটাকে পরিবর্তন করতে চাই। আমরা এটাকে একবার নাম দিয়েছিলাম টাউন হল, একবার নাম দিয়েছিলাম মুক্তিযোদ্ধা হল। যে নামই হোক। নাম না হলে দরকার নাই, টাউন হলই হবে। আমদের দায়িত্ব হবে এইটাকে ঠিক করে নেওয়া।

সেলিম ওসমান বলেন, ১৫ আগস্টের পরে আমরা জয় বাংলা বলতে সাহস পাইনি, অনেকেই জয়বাংলা বলতে সাহস পায়নি। জয় বাংলাটা শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধার সপ্নের জয়বাংলা। তারা দেশকে মুক্ত করেছেন। তারা সমস্ত শরীরের শক্তি সঞ্চয় করেছেন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে। বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়, বঙ্গবন্ধু কোনো জাতের নয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জাতির জনক।

এদিকে চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হল ভেঙ্গে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসককে তাগিদ দিয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এটা সেলিম ওসমানের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা। কোন কোন নেতা বলছেন, তিনি বলেন দল যার যার সেলিম ওসমান সবার। কিন্তু জিয়া হলের নাম পরিবর্তনের ব্যপারে
তার বক্তব্য স্ব-বিরোধী।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান,এটা খুব অসহনশীল বক্তব্য এবং সেলিম ওসমানের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন না নারায়নগঞ্জবাসী। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন স্বাধিনতার ঘোষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বীরউত্তম উপাধি প্রাপ্ত। এবং বাংলাদেশে বহু দলিয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এমন একটি দল প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যে দলটি বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রয় ক্ষমতা ছিল। যে দলের এখন কোটি কোটি সমর্থক সারাদেশে। তার নামে নারায়নগঞ্জে এই একটি হল রয়েছে। আমি মনে করি, জিয়াউর রহমানের নাম থাকার কারনে এই সরকার হলটিকে অকেজো করে রেখেছে। এইটার দিকে নজর দেওয়া উচিৎ উন্নয়ন এর জন্য। কিন্তু নাম পরির্বতন করা একটি হীন মন মানসিকতার প্রকাশ । এই নাম পরির্বতন না করে অন্য জায়গায় একটি হল নির্মান করতে পারেন সেলিম ওসমান। যে কারো নামে, চাইলে নিজের নামও দিতে পারে। তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। এমন বক্তব্য তার (সেলিম ওসমান) মুখে মানায় না। এবং এই ধরন এর কর্যক্রম থেকে বিরত থাকতে আহবান জানাই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসিকুল ইসলাম রাজীব বলেন, সরকার চাইলে জিয়া হলের নাম পরিবর্তন করতে পারে, এইটা এত বড় বিষয় না। উনি (সেলিম ওসমান) একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম মুছে ফেলতে চান বা এটা পরিবর্তন করতে চান। তিনি এই নাম আর দেখতে চান না । সেলিম ওসমান

একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের কথা বলেন, অন্যদিকে উনি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীনতা ঘোষক শহিদ জিয়ার নাম দেখতে চান না। আসলে তার বক্তব্যের সাথে তার রাজনীতির কোনো মিল নেই। এগুলো আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার। আমাদের দেশে এখন সব কিছুই সম্ভব। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে দলীয় ভাবে প্রতিবাদ করব।

মহানগর যুবদল সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এই নাম পরিবর্তন এর খেলা বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতা পরিবর্তন হলেই কি সব কিছুর নাম পরিবর্তন করা যায় ? আমাদের ক্ষমতা এলে কি আমরাও সব কিছুর নাম পরিবর্তন করে দিব? এই প্রশ্ন করতে চাই সলিম ওসমানের কাছে।তিনি আরও বলেন, এক জনকে ছোট করে আরেক জনকে বড় করা যায় না । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান কাউকে ছোট করা যাবে না। তাদের সম্মান তাদের দিতে হবে, তাহলে বঙ্গবন্ধু আরো বড় সম্মানের স্থান পাবে ।

 


আরো সংবাদ