১৫ অক্টোবর ২০১৯

সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাতেই বিএনপির শোভাযাত্রায় মানুষের জোয়ার : রিজভী

রুহুল কবির রিজভী - ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, লাখ লাখ মানুষ রাজপথ কাঁপানো স্লোগানে স্লোগানে সরকারের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত অনাস্থা জানিয়েছে। তিনি অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণার দাবি জানান।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন গতকাল সোমবার রাজধানীতে বিএনপির শোভাযাত্রায় মানুষের উর্মিমুখর স্রোত নেমেছিল। ঘরবাড়ি ছেড়ে ব্যথিত, বঞ্চিত ও অপমানিত জনগণ বিএনপির কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে নেমে এসেছিল রাজপথে। মানুষের জোয়ারে ঢাকা শহর প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ রাজপথ কাঁপানো স্লোগানে স্লোগানে সরকারের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত অনাস্থা জানিয়েছে। তাই কালবিলম্ব না করে দেশনেত্রীকে দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি দিন। এই অনির্বাচিত নিশিরাতের নির্বাচনের সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণা করুন। তা না হলে রাজপথে এই জনবিস্ফোরণ রোধ করতে পারবেন না। তখন পালানোর গলিপথও খুঁজে পাবেন না।’

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা-বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি ও সমাবেশে বাধা দিয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় হামলা করে পণ্ড করে দিয়েছে। মামলা দিয়েছে. গ্রেফতার ও নির্যাতন করেছে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে। আমরা নিশিরাতের অনির্বাচিত সরকারের এই জুলুমের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুলিশ আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে নওগাঁ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি। এছাড়াও একাধিক সাংগঠনিক জেলায় পালন করতে সরকার কর্তৃক দলের নেতাকর্মীরা বাধাগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকারে দৃপ্ত বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বস্ত দল ও গণতান্ত্রিক মুক্তির ঠিকানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার জন্য সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এ সময় রিজভী বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল দ্বিপাক্ষিক ইস্যু বিবেচনা করলে এই সংকট সমাধান হবে না। এটি একপাক্ষিক কিংবা দ্বিপাক্ষিক নয়, এটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হলে আমাদেরকে জাতীয়ভাবে পলিসি নির্ধারণ করতে হবে। আর এই পলিসি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন সর্বদলীয় বৈঠক।

তিনি বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি, দেশে-বিদেশে উচ্চপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিকদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। তাহলে এ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সারাবিশ্ব গুরুত্ব সহকারে দেখবে। মিয়ানমারও গুরুত্ব দিতে বাধ্য হবে। এখনো সময় আছে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত করার।

অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ১৯৯১ এর পরে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক সফলতায় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। সফলভাবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।


আরো সংবাদ